1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধুনটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, আমিনা ময়েন অলোয়া মথুরাপুর আলিম মাদ্রাসায় শতভাগ পাস

ধুনট প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৫

দেশজুড়ে শিক্ষার ফলাফল নিয়ে নানা আলোচনা-পর্যালোচনার মধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত একটি মাদ্রাসার শতভাগ পাসের সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয়। বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের আমিনা ময়েন অলোয়া মথুরাপুর আলিম মাদ্রাসা ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ২৩ জন পরীক্ষার্থীর সবাইকে উত্তীর্ণ করে শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করেছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও এমন ফলাফল অর্জন নিঃসন্দেহে অসাধারণ সাফল্য। এটি শুধু প্রতিষ্ঠানটির নয়, মথুরাপুর ইউনিয়ন তথা পুরো ধুনট উপজেলার জন্য গর্বের বিষয়।

প্রতিষ্ঠানটির বিগত কয়েক বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ২০২২ ও ২০২৩ সাল বাদে বাকি উল্লেখিত বছরগুলোতে শতভাগ পাসের সাফল্য ধরে রেখেছে মাদ্রাসাটি। ২০২০ সালে ১০ জন, ২০২১ সালে ২৬ জন, ২০২৪ সালে ২৩ জন, ২০২৫ সালে ১৩ জন এবং ২০২৬ সালে ২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। মাঝখানে দুই বছরের বিরতি থাকলেও পরবর্তী সময়ে আবারও শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার ধারাবাহিক অগ্রগতির পরিচয় বহন করে।

এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, উপাধ্যক্ষ এস এম শাহাদাত হোসেনসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। বিশেষ করে দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাঁদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা, নিয়মিত পাঠদান এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উপাধ্যক্ষ এস এম শাহাদাত হোসেন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি ও দুর্বল বিষয়গুলোতে বিশেষ নজর দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

এ ছাড়া শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান আখের, আইসিটি শিক্ষক ফজলে রাব্বি এবং ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ইউসুফ আলীর অবদানও উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে তাঁরা বাড়তি সময় ও শ্রম দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত অনুশীলন, বিশেষ পাঠদান ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের ভালো ফলাফলের পেছনে শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও সহযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে বুঝিয়ে দেওয়া, বিশেষ ক্লাস নেওয়া এবং পরীক্ষার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম ও শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুসরণের মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জন করেছেন।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক-কর্মচারীসহ মোট ৩২ জন কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন শিক্ষক এবং সাতজন কর্মচারী বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কিছু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করতে একটি মানসম্মত নতুন ভবন নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটি আরও এগিয়ে যেতে পারবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্ব দিয়ে আসছে। ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবি রাখে।

সব মিলিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত আমিনা ময়েন অলোয়া মথুরাপুর আলিম মাদ্রাসার এই সাফল্য প্রমাণ করে, আন্তরিকতা, সঠিক দিকনির্দেশনা ও শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম থাকলে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও ভালো ফলাফল অর্জন সম্ভব। মথুরাপুর ইউনিয়ন ও ধুনট উপজেলার শিক্ষাক্ষেত্রে এই অর্জন একটি অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:৪৬ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ধুনটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, আমিনা ময়েন অলোয়া মথুরাপুর আলিম মাদ্রাসায় শতভাগ পাস

আপডেট সময় : ০৮:৩০:৪৬ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
৫

দেশজুড়ে শিক্ষার ফলাফল নিয়ে নানা আলোচনা-পর্যালোচনার মধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত একটি মাদ্রাসার শতভাগ পাসের সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয়। বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের আমিনা ময়েন অলোয়া মথুরাপুর আলিম মাদ্রাসা ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ২৩ জন পরীক্ষার্থীর সবাইকে উত্তীর্ণ করে শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করেছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও এমন ফলাফল অর্জন নিঃসন্দেহে অসাধারণ সাফল্য। এটি শুধু প্রতিষ্ঠানটির নয়, মথুরাপুর ইউনিয়ন তথা পুরো ধুনট উপজেলার জন্য গর্বের বিষয়।

প্রতিষ্ঠানটির বিগত কয়েক বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ২০২২ ও ২০২৩ সাল বাদে বাকি উল্লেখিত বছরগুলোতে শতভাগ পাসের সাফল্য ধরে রেখেছে মাদ্রাসাটি। ২০২০ সালে ১০ জন, ২০২১ সালে ২৬ জন, ২০২৪ সালে ২৩ জন, ২০২৫ সালে ১৩ জন এবং ২০২৬ সালে ২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। মাঝখানে দুই বছরের বিরতি থাকলেও পরবর্তী সময়ে আবারও শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার ধারাবাহিক অগ্রগতির পরিচয় বহন করে।

এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, উপাধ্যক্ষ এস এম শাহাদাত হোসেনসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। বিশেষ করে দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাঁদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা, নিয়মিত পাঠদান এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উপাধ্যক্ষ এস এম শাহাদাত হোসেন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি ও দুর্বল বিষয়গুলোতে বিশেষ নজর দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

এ ছাড়া শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান আখের, আইসিটি শিক্ষক ফজলে রাব্বি এবং ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ইউসুফ আলীর অবদানও উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে তাঁরা বাড়তি সময় ও শ্রম দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত অনুশীলন, বিশেষ পাঠদান ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের ভালো ফলাফলের পেছনে শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও সহযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে বুঝিয়ে দেওয়া, বিশেষ ক্লাস নেওয়া এবং পরীক্ষার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম ও শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুসরণের মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জন করেছেন।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক-কর্মচারীসহ মোট ৩২ জন কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন শিক্ষক এবং সাতজন কর্মচারী বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কিছু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করতে একটি মানসম্মত নতুন ভবন নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটি আরও এগিয়ে যেতে পারবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্ব দিয়ে আসছে। ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবি রাখে।

সব মিলিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত আমিনা ময়েন অলোয়া মথুরাপুর আলিম মাদ্রাসার এই সাফল্য প্রমাণ করে, আন্তরিকতা, সঠিক দিকনির্দেশনা ও শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম থাকলে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও ভালো ফলাফল অর্জন সম্ভব। মথুরাপুর ইউনিয়ন ও ধুনট উপজেলার শিক্ষাক্ষেত্রে এই অর্জন একটি অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।