1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, সাব-ঠিকাদার শফিকুলের বিরুদ্ধে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

মোঃ শরীফ উদ্দিন, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৬

সুনামগঞ্জে ৮৭ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, সাব-ঠিকাদার শফিকুলের বিরুদ্ধে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন।

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার লালপুর–সালামপুর সেতু ও সড়কের নির্মাণাধীন সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ তুলেছে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে সাব-ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম কর্তৃক মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা বিএনপি।

২ নভেম্বর ২০২৬ ইং তারিখে সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২২ সালের বন্যায় সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট জরুরি পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জ-কাচিঁরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের লালপুর–সালামপুর সেতুর ১ ও ২ নং অংশ এবং প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও গার্ডওয়াল নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পে ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

বিএনপির লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পের কাজ পেয়েছিলেন রাজধানী ঢাকার ঠিকাদার আওয়ামী লীগ সমর্থক মো. বদরুল ইসলাম। তাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ফার্ম ইসলাম ট্রেডার্স । ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ওই ঠিকাদার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে প্রকল্পের প্রথম সাব-ঠিকাদার হিসেবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আজাদ হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে পরবর্তীতে প্রকল্পের দ্বিতীয় সাব-ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ পান আরেক আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে তাঁকে বিভিন্ন সন্ত্রাস দমন আইনে এবং প্রতারণামূলক একাধিক মামলার আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল বিশ্বম্ভরপুরের রতারগাঁও হাইস্কুল থেকে একটি অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে এলাকাবাসীর তাৎক্ষণিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাণাধীন সড়ক ও সেতুর কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় জনগণ তাঁকে নির্মাণকাজের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ জানান।

পরিদর্শনকালে তিনি সড়কের সদ্য নির্মিত গার্ডওয়ালের একদিকে হেলে পড়া, ব্লক নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, মাটি কম্প্যাকশন না করে জিও টেক্সটাইলের ওপর নিম্নমানের ব্লক বসিয়ে সড়কের প্রটেকশন দেওয়া এবং ভিট বালুর পরিবর্তে কৃষিজমির মাটি ব্যবহার করার বিষয়গুলো দেখতে পান বলে লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়।

এ সময় সংসদ সদস্য স্থানীয় ঠিকাদারকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করেন। ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে পরদিন সরেজমিনে কাজ পরিদর্শনের কথাও জানান বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, লিখিত বক্তব্যে প্রকল্পের প্রথম সাব-ঠিকাদারের মুখে শোনা তথ্যের বরাত দিয়ে বিএনপি নেতারা দাবি করেন, প্রকৃতপক্ষে ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে ৮৭ কোটি টাকা ব্যয় দেখাতে ওভার এস্টিমেট করা হয়েছিল। নির্মাণকাজ বাস্তবায়নে সাত লাখ ঘনফুট মাটির স্থলে ৫৬ লাখ ঘনফুট মাটি ধরা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

বিএনপির অভিযোগ, প্রকল্পের সাব-ঠিকাদারদের যোগসাজশে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। উত্তোলিত বিলের টাকা সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট লোকজন এবং ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করে লুটপাট করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এ ছাড়া জনগণের সামনে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের কোনো সাইনবোর্ড প্রদর্শন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে দলটি।

জেলা বিএনপির পাঁচ দফা দাবি

সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

১. প্রকল্পের শুরু থেকেই দুর্নীতির যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

২. প্রকল্পের প্রকৃত মূল্য পুনর্মূল্যায়ন করে অতিরিক্ত যে মূল্য (ওভার ভ্যালু) দেখানো হয়েছে, সেই টাকা দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের কাছ থেকে সরকারি কোষাগারে ফেরত আনতে হবে।

৩. ইতোমধ্যে যে পরিমাণ নিম্নমানের কাজ হয়েছে, সেগুলো বাতিল করে ডিজাইন অনুযায়ী মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করে নতুন করে কাজ করতে হবে।

৪. সংস্কারকাজ বাস্তবায়নে সড়ক বিভাগের যেসব প্রকৌশলী জড়িত এবং জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারে যাঁদের দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৫. দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির যতগুলো কাজ চলমান রয়েছে, সবগুলোর কাজ এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের অনুসন্ধান করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে জেলা বিএনপির নেতারা বলেন, জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। প্রকল্পের প্রকৃত চিত্র উদ্‌ঘাটন এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত বিষয়গুলো জনসম্মুখে তুলে ধরার আহ্বান জানান তাঁরা।

লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর করেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন এবং জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৪:২৭ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, সাব-ঠিকাদার শফিকুলের বিরুদ্ধে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:২৭ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
১৬

সুনামগঞ্জে ৮৭ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, সাব-ঠিকাদার শফিকুলের বিরুদ্ধে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন।

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার লালপুর–সালামপুর সেতু ও সড়কের নির্মাণাধীন সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ তুলেছে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে সাব-ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম কর্তৃক মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা বিএনপি।

২ নভেম্বর ২০২৬ ইং তারিখে সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২২ সালের বন্যায় সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট জরুরি পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জ-কাচিঁরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের লালপুর–সালামপুর সেতুর ১ ও ২ নং অংশ এবং প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও গার্ডওয়াল নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পে ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

বিএনপির লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পের কাজ পেয়েছিলেন রাজধানী ঢাকার ঠিকাদার আওয়ামী লীগ সমর্থক মো. বদরুল ইসলাম। তাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ফার্ম ইসলাম ট্রেডার্স । ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ওই ঠিকাদার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে প্রকল্পের প্রথম সাব-ঠিকাদার হিসেবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আজাদ হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে পরবর্তীতে প্রকল্পের দ্বিতীয় সাব-ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ পান আরেক আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে তাঁকে বিভিন্ন সন্ত্রাস দমন আইনে এবং প্রতারণামূলক একাধিক মামলার আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল বিশ্বম্ভরপুরের রতারগাঁও হাইস্কুল থেকে একটি অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে এলাকাবাসীর তাৎক্ষণিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাণাধীন সড়ক ও সেতুর কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় জনগণ তাঁকে নির্মাণকাজের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ জানান।

পরিদর্শনকালে তিনি সড়কের সদ্য নির্মিত গার্ডওয়ালের একদিকে হেলে পড়া, ব্লক নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, মাটি কম্প্যাকশন না করে জিও টেক্সটাইলের ওপর নিম্নমানের ব্লক বসিয়ে সড়কের প্রটেকশন দেওয়া এবং ভিট বালুর পরিবর্তে কৃষিজমির মাটি ব্যবহার করার বিষয়গুলো দেখতে পান বলে লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়।

এ সময় সংসদ সদস্য স্থানীয় ঠিকাদারকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করেন। ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে পরদিন সরেজমিনে কাজ পরিদর্শনের কথাও জানান বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, লিখিত বক্তব্যে প্রকল্পের প্রথম সাব-ঠিকাদারের মুখে শোনা তথ্যের বরাত দিয়ে বিএনপি নেতারা দাবি করেন, প্রকৃতপক্ষে ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে ৮৭ কোটি টাকা ব্যয় দেখাতে ওভার এস্টিমেট করা হয়েছিল। নির্মাণকাজ বাস্তবায়নে সাত লাখ ঘনফুট মাটির স্থলে ৫৬ লাখ ঘনফুট মাটি ধরা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

বিএনপির অভিযোগ, প্রকল্পের সাব-ঠিকাদারদের যোগসাজশে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। উত্তোলিত বিলের টাকা সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট লোকজন এবং ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করে লুটপাট করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এ ছাড়া জনগণের সামনে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের কোনো সাইনবোর্ড প্রদর্শন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে দলটি।

জেলা বিএনপির পাঁচ দফা দাবি

সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

১. প্রকল্পের শুরু থেকেই দুর্নীতির যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

২. প্রকল্পের প্রকৃত মূল্য পুনর্মূল্যায়ন করে অতিরিক্ত যে মূল্য (ওভার ভ্যালু) দেখানো হয়েছে, সেই টাকা দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের কাছ থেকে সরকারি কোষাগারে ফেরত আনতে হবে।

৩. ইতোমধ্যে যে পরিমাণ নিম্নমানের কাজ হয়েছে, সেগুলো বাতিল করে ডিজাইন অনুযায়ী মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করে নতুন করে কাজ করতে হবে।

৪. সংস্কারকাজ বাস্তবায়নে সড়ক বিভাগের যেসব প্রকৌশলী জড়িত এবং জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারে যাঁদের দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৫. দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির যতগুলো কাজ চলমান রয়েছে, সবগুলোর কাজ এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের অনুসন্ধান করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে জেলা বিএনপির নেতারা বলেন, জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। প্রকল্পের প্রকৃত চিত্র উদ্‌ঘাটন এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত বিষয়গুলো জনসম্মুখে তুলে ধরার আহ্বান জানান তাঁরা।

লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর করেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন এবং জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হক।