মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মহাদেবপুরে ৯ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩
নওগাঁর মহাদেবপুরে ভুয়া পিকআপ বিকল করার নাটক সাজিয়ে ব্যবসায়ী আব্দুল আলিমের ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার রহস্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও মহাদেবপুর থানা পুলিশের ঝটিকা অভিযানে রাতের মধ্যেই ৩ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ছিনতাইকৃত মোট ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়।
ঘটনার বিবরণ:
পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মেসার্স সোহাগ আয়রন স্টোরের মালিক আব্দুল আলিম বগুড়ায় মালামাল বিক্রি করে নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা নিয়ে পিকআপযোগে মহাদেবপুরে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে অনুমান সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে মহাদেবপুর উত্তর গ্রাম চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে ফাঁকা রাস্তায় পৌঁছালে পিকআপটি হঠাৎ বিকল হয়।
এ সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা দুষ্কৃতকারীরা পিকআপের ড্রাইভার সোহেল রানাকে হালকা এবং ম্যানেজার মজনু মিয়াকে ব্যাপক মারধর করে নগদ টাকা ছিনিয়ে পালিয়ে যায়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযান:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সূত্রে ঘটনাটি জানার সাথে সাথেই পুলিশ সুপার নওগাঁ মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ডিবি পুলিশের ইনচার্জ মো. হাসিমের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী টিম এবং মহাদেবপুর থানা পুলিশকে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও ডাটা বিশ্লেষণ করে অল্প সময়ের মধ্যেই অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়।
গ্রেফতার ও টাকা উদ্ধার:
সারারাতব্যাপী পরিচালিত অভিযানে পুলিশ প্রথমে রামচন্দ্রপুর এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মুন্নাকে (২৪) তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাসা থেকে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে মুন্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঈশ্বর লক্ষ্মীপুর এলাকার মৃত ইয়াদ আলীর ছেলে রবিনকে (২৫) তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
মূল পরিকল্পনাকারী ছিল খোদ ড্রাইভার!
গ্রেফতারকৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই ছিনতাইয়ের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নিজস্ব পিকআপ ড্রাইভার সোহেল রানা (২৫)। মূলত ড্রাইভার সোহেল, মুন্না এবং প্রধান ভূমিকায় থাকা রবিন—এই তিনজন মিলে গত এক সপ্তাহ ধরে এই ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেছিল। পরবর্তীতে পুলিশ আহত সাজিয়ে হাসপাতালে লুকিয়ে থাকা ড্রাইভার সোহেল রানাকেও গ্রেফতার করে।
পুলিশ সুপারের হুঁশিয়ারি:
প্রেস কনফারেন্সে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে ছিনতাই ও ডাকাতি কঠোরহস্তে দমন করবে। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।”
























