প্রতিকূলতাকে জয় করে দেশসেরা ৯০তম, চট্টগ্রাম বোর্ডে দশম লামার নেংএউং খুমী
সামান্য সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে যে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরাও মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারে, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বান্দরবানের লামা উপজেলার কোয়ান্টাম কসমো কলেজের শিক্ষার্থী নেংএউং খুমী। এবারের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন করে তিনি জাতীয় পর্যায়ে নিজের মেধার পরিচয় দিয়েছেন।
এইচএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ২০০ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ১২১ নম্বর পেয়ে সারা দেশে ৯০তম এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে দশম স্থান অর্জন করেছেন নেংএউং খুমী। তাঁর এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় এলাকাজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।
তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, সীমাহীন প্রতিকূলতা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির গল্প। নেংএউং খুমীর পরিবারের সদস্যরা সবাই জুমচাষের সঙ্গে জড়িত। পাহাড়ের দুর্গম পরিবেশে জুমচাষের ওপর নির্ভর করেই চলে তাঁদের সংসার। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়।
সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা হলো, তাঁর বাবা প্রায় চার বছর ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইসিস) হয়ে শয্যাশায়ী। পরিবারের এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দমে যাননি নেংএউং। অভাব-অনটন, পারিবারিক দুশ্চিন্তা ও নানা সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রেখেছেন। অবশেষে অসাধারণ ফলাফলের মাধ্যমে পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন তিনি।
নেংএউং খুমীর এই অর্জন শুধু তাঁর পরিবারের জন্যই নয়, বরং পাহাড়ের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্যও এক অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে, মেধা কখনো আর্থিক সামর্থ্য কিংবা সামাজিক সীমাবদ্ধতার কাছে হার মানে না। প্রয়োজন শুধু সুযোগ, সঠিক দিকনির্দেশনা, অধ্যবসায় ও সহযোগিতা।
পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদ থেকে উঠে আসা এই মেধাবী শিক্ষার্থীর আগামী দিনের পথচলা আরও সুন্দর ও সাফল্যমণ্ডিত হোক। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করে তিনি দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করবেন—এমন প্রত্যাশা সবার।
নেংএউং খুমীর জন্য রইল আন্তরিক অভিনন্দন ও অফুরন্ত শুভকামনা।























