ঈশ্বরগঞ্জে ৬ পুরিয়া গাঁজাসহ যুবকের কারাদণ্ড, মাদকের উৎস নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
ঈশ্বরগঞ্জে ৬ পুরিয়া গাঁজাসহ যুবক আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক বছরের কারাদণ্ড
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৬ পুরিয়া গাঁজাসহ মো. শরিফুল ইসলাম (৩১) নামে এক যুবককে আটক করেছে থানা পুলিশ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমনের নির্দেশনায় পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে ধামদি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক শরিফুল ইসলাম ধামদি গ্রামের মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় শরিফুল ইসলামের কাছ থেকে ৬ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালাউদ্দিন বিশ্বাস ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় এক বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তবে প্রশ্ন উঠছে—একটির পর একটি মাদকবিরোধী অভিযান, আটক, মামলা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার পরও মাদক কেন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না?
স্থানীয়দের মতে, মাদকবিরোধী অভিযান শুধু মাদক বহনকারী বা খুচরা বিক্রেতাকে আটক করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে সমস্যার মূল জায়গায় পৌঁছানো কঠিন। তাদের অভিযোগ ও প্রশ্ন—মাদকের সরবরাহ কোথা থেকে আসছে, কারা এর পেছনে রয়েছে এবং বড় সরবরাহকারীরা কীভাবে সক্রিয় থাকছে, সেদিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সচেতন মহলের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়। মাদকের উৎস ও সরবরাহের চেইন শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, পরিবারকে সম্পৃক্ত করা, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা জোরদার করাও জরুরি।
স্থানীয়দের অনেকের প্রশ্ন, “মাদকবিরোধী অভিযান যদি নিয়মিতই হয়, তাহলে মাদকের বিস্তার থামছে না কেন?” তাদের মতে, অভিযানের সংখ্যা নয়—অভিযানের কার্যকারিতা, মাদকের উৎস বন্ধ করা এবং বড় সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই হতে পারে টেকসই সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাই ঈশ্বরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মাদকের মূল সরবরাহব্যবস্থা চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।


























