1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার উন্নয়নে মেধাকে কাজে লাগাতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

মোঃ আব্দুল আলীম ,জেলাপ্রতিনিধি, বগুড়া:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘১৬০০ শিক্ষার্থী ও ৬০০ শিক্ষকের অংশগ্রহণে ব্যতিক্রমী পরীক্ষা, বাছাই করা মেধাবীদের নিয়ে হবে বিশেষ মতবিনিময়’।

শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের পরীক্ষা হয় নিয়মিতই। তবে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের মেধা, দক্ষতা ও শিক্ষাভাবনা যাচাইয়ে একই সঙ্গে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। শিক্ষার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও সম্ভাবনা জানতে এবং একটি এলাকার মেধাবীদের খুঁজে বের করতে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকায় নেওয়া হয়েছে এমনই এক অভিনব উদ্যোগ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ‘প্রতিভা অন্বেষণ পরীক্ষা’। উপজেলার তিনটি কেন্দ্রে একযোগে এক ঘণ্টার এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, শিবগঞ্জ সরকারি বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং চৌধুরী আদর্শ মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় শিবগঞ্জ-মোকামতলা এলাকার প্রায় ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী ও ৬০০ শিক্ষক অংশ নেন। জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রণীত প্রশ্নপত্রে পৃথকভাবে পরীক্ষা দেন তারা।

জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিজ নিজ শ্রেণির প্রথম পাঁচ রোলের শিক্ষার্থীদের এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অন্যদিকে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ও দক্ষ শিক্ষকদের সুপারিশের ভিত্তিতে পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হয়।

তবে এ আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশ করা নয়। একটি এলাকার মেধাবী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতাকে বৃহত্তর পরিসরে কাজে লাগানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি বিদ্যালয় ও কলেজের মেধাবীদের র‍্যাংকিং করতেই এই আয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষকদেরও যুক্ত করা হয়েছে। তাদের শিক্ষা ও দেশ নিয়ে ভাবনাগুলো জানা এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করে তা সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি জানান, পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম সারির ৪০০ শিক্ষার্থী ও ২০০ শিক্ষককে নিয়ে শিগগিরই বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে। সেখানে শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান বাস্তবতা, নতুন শিক্ষাক্রম, দক্ষতার উন্নয়ন, আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া হবে।

মেধাবী শিক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া বাস্তবসম্মত ও কার্যকর প্রস্তাবগুলো বগুড়া-২ আসনে স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুপারিশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ মহলে পাঠানো হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

অর্থাৎ, এ আয়োজনের মাধ্যমে শুধু মেধাবী শিক্ষার্থী নয়, মেধাবী ও চিন্তাশীল শিক্ষককেও খুঁজে বের করে শিক্ষা পরিকল্পনার অংশীদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিকাশে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গাংনগর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক শাহজাহান আলী বলেন, শিক্ষকদের জন্য এমন মেধা যাচাইয়ের আয়োজন সত্যিই বিরল। এটি শিক্ষকদের নিজেদের জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা আরও বাড়াতে উৎসাহিত করবে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেশাদ রহমান অনিক জানায়, এ ধরনের প্রতিযোগিতা পড়াশোনার প্রতি নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশেও ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত মেধা অন্বেষণ কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু একই সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই করে শিক্ষকদের কাছ থেকেই শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন চিন্তা ও সমাধানের পথ খোঁজার উদ্যোগ অত্যন্ত ব্যতিক্রমী। নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে মাঠপর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত যুক্ত করার এ উদ্যোগ সফল হলে তা দেশের অন্যান্য এলাকার জন্যও অনুসরণযোগ্য একটি মডেল হতে পারে।

শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে শুধু অবকাঠামো নয়, মেধাবী শিক্ষক ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের শক্তিকে সম্পদ হিসেবে কাজে লাগানোর নতুন ভাবনা থেকেই মীর শাহে আলমের এ উদ্যোগ। আর সেই ভাবনা বাস্তবায়িত হলে বগুড়া-২ আসনের মেধা অন্বেষণ কেবল একটি পরীক্ষার আয়োজন না হয়ে উঠতে পারে স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:২৬ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষার উন্নয়নে মেধাকে কাজে লাগাতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

আপডেট সময় : ১২:৪৪:২৬ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘১৬০০ শিক্ষার্থী ও ৬০০ শিক্ষকের অংশগ্রহণে ব্যতিক্রমী পরীক্ষা, বাছাই করা মেধাবীদের নিয়ে হবে বিশেষ মতবিনিময়’।

শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের পরীক্ষা হয় নিয়মিতই। তবে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের মেধা, দক্ষতা ও শিক্ষাভাবনা যাচাইয়ে একই সঙ্গে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। শিক্ষার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও সম্ভাবনা জানতে এবং একটি এলাকার মেধাবীদের খুঁজে বের করতে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকায় নেওয়া হয়েছে এমনই এক অভিনব উদ্যোগ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ‘প্রতিভা অন্বেষণ পরীক্ষা’। উপজেলার তিনটি কেন্দ্রে একযোগে এক ঘণ্টার এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, শিবগঞ্জ সরকারি বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং চৌধুরী আদর্শ মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় শিবগঞ্জ-মোকামতলা এলাকার প্রায় ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী ও ৬০০ শিক্ষক অংশ নেন। জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রণীত প্রশ্নপত্রে পৃথকভাবে পরীক্ষা দেন তারা।

জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিজ নিজ শ্রেণির প্রথম পাঁচ রোলের শিক্ষার্থীদের এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অন্যদিকে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ও দক্ষ শিক্ষকদের সুপারিশের ভিত্তিতে পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হয়।

তবে এ আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশ করা নয়। একটি এলাকার মেধাবী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতাকে বৃহত্তর পরিসরে কাজে লাগানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি বিদ্যালয় ও কলেজের মেধাবীদের র‍্যাংকিং করতেই এই আয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষকদেরও যুক্ত করা হয়েছে। তাদের শিক্ষা ও দেশ নিয়ে ভাবনাগুলো জানা এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করে তা সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি জানান, পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম সারির ৪০০ শিক্ষার্থী ও ২০০ শিক্ষককে নিয়ে শিগগিরই বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে। সেখানে শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান বাস্তবতা, নতুন শিক্ষাক্রম, দক্ষতার উন্নয়ন, আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া হবে।

মেধাবী শিক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া বাস্তবসম্মত ও কার্যকর প্রস্তাবগুলো বগুড়া-২ আসনে স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুপারিশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ মহলে পাঠানো হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

অর্থাৎ, এ আয়োজনের মাধ্যমে শুধু মেধাবী শিক্ষার্থী নয়, মেধাবী ও চিন্তাশীল শিক্ষককেও খুঁজে বের করে শিক্ষা পরিকল্পনার অংশীদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিকাশে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গাংনগর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক শাহজাহান আলী বলেন, শিক্ষকদের জন্য এমন মেধা যাচাইয়ের আয়োজন সত্যিই বিরল। এটি শিক্ষকদের নিজেদের জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা আরও বাড়াতে উৎসাহিত করবে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেশাদ রহমান অনিক জানায়, এ ধরনের প্রতিযোগিতা পড়াশোনার প্রতি নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশেও ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত মেধা অন্বেষণ কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু একই সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই করে শিক্ষকদের কাছ থেকেই শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন চিন্তা ও সমাধানের পথ খোঁজার উদ্যোগ অত্যন্ত ব্যতিক্রমী। নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে মাঠপর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত যুক্ত করার এ উদ্যোগ সফল হলে তা দেশের অন্যান্য এলাকার জন্যও অনুসরণযোগ্য একটি মডেল হতে পারে।

শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে শুধু অবকাঠামো নয়, মেধাবী শিক্ষক ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের শক্তিকে সম্পদ হিসেবে কাজে লাগানোর নতুন ভাবনা থেকেই মীর শাহে আলমের এ উদ্যোগ। আর সেই ভাবনা বাস্তবায়িত হলে বগুড়া-২ আসনের মেধা অন্বেষণ কেবল একটি পরীক্ষার আয়োজন না হয়ে উঠতে পারে স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।