পদ্মা ব্যারেজ মাস্টারমাইন্ড প্রকল্প, সুফল পাবে ৭ কোটি মানুষ: পানিসম্পদমন্ত্রী
বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের নির্মাণস্থান পরিদর্শন করেছেন সরকারের উপদেষ্টা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতিনিধি দল।
শুক্রবার দুপুরে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন তারা।
এসময় পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ একটি মাস্টারমাইন্ড মেগা প্রকল্প। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়বে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবনমানের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে। এ প্রকল্পের সুফল প্রায় ৭ কোটি মানুষ পাবে বলেও জানান তিনি।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। ভবিষ্যতে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ অন্যান্য বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পাংশার হাবাসপুর ইউনিয়ন পয়েন্টে প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজটি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ২০২৬ সাল থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
ব্যারেজে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, ১৮টি আন্ডার স্লুইস গেট, নেভিগেশন লক, ফিশ পাস, রেলওয়ে সেতু এবং প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২৬ জেলার কৃষি, মৎস্য, নৌযোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। পাশাপাশি কয়েকটি জেলার নদীভাঙন রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ হারুন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. একেএম শাহাবুদ্দিন, রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভিন, পুলিশ সুপার মো. মনজুর মোর্শেদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম মিয়া এবং কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আসলাম মিয়াসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।























