ফরিদপুরে পত্রিকার মালিকানা হস্তান্তর অস্বীকারের অভিযোগে জিডি
দৈনিক আজকের সারাদেশ পত্রিকার মালিকানা হস্তান্তরের পর তা অস্বীকার এবং হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় গড়িমসির অভিযোগে সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজের বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও একাধিকবারের নির্বাচিত সাবেক সহসভাপতি শেখ ফয়েজ আহমেদ।
গত ৩০ আগস্ট শেখ ফয়েজ আহমেদ জিডিটি করেন। এর নম্বর ২৪৭৯। জিডিতে পত্রিকার মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়টি অস্বীকার করার অভিযোগের পাশাপাশি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে নিজের জীবনের ক্ষতির আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
জিডি সূত্রে জানা যায়, আর্থিক সংকটের কারণে সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ ২০২০ সালের ২৭ জুলাই ফরিদপুরের বিজ্ঞ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে একটি হস্তান্তরনামা সম্পাদন করে দৈনিক আজকের সারাদেশ পত্রিকার মালিকানা শেখ ফয়েজ আহমেদের কাছে হস্তান্তর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হস্তান্তরনামার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৫৫১ বলে জিডিতে দাবি করা হয়েছে।
শেখ ফয়েজ আহমেদের অভিযোগ, মালিকানা হস্তান্তরের পর সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে একটি সংঘবদ্ধ মহলের প্ররোচনায় তিনি ওই হস্তান্তরের বিষয়টি অস্বীকার করছেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়।
জিডিতে আরও দাবি করা হয়েছে, সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের পর তা পরিশোধ না করার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে মামলা হয়েছে। ফরিদপুর ও বাগেরহাটের আদালতে তার বিরুদ্ধে চেকসংক্রান্ত মামলাও রয়েছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলার কোনো কোনোটি আদালতের রায় ও সাজা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
এ বিষয়ে শেখ ফয়েজ আহমেদ বলেন, “সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ একজন স্বীকৃত প্রতারক। তাঁর পক্ষে সবকিছু অস্বীকার করা সম্ভব। ফরিদপুরের আদালতে একাধিক চেক প্রতারণা মামলায় তিনি দণ্ডিত হয়েছেন—এ কথা সবাই জানেন।”
তবে সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ বিভিন্ন মাধ্যমে দৈনিক আজকের সারাদেশ পত্রিকা বিক্রি বা হস্তান্তরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, গত ১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কাদিরদী বাজারে সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজের মালিকানাধীন ‘আজকের সারাদেশ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সেটি সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বৈধ অনুমোদন না থাকা এবং সেখানে অপচিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পত্রিকার মালিকানা হস্তান্তর সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে আইনগত বিষয়টি নির্ধারণের দাবি উঠেছে।
























