তেজগাঁওয়ে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, অজ্ঞাত ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে চোর সন্দেহে এক যুবককে লোহার পিলারের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর সাড়ে ১টার মধ্যে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন ট্রাকস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি ভবন এলাকার আনসার ক্যাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে। চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে কয়েকজন লোক আটক করে মারধর করছে—এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
পুলিশ গিয়ে জানতে পারে, আটক ব্যক্তিকে লোহার এঙ্গেলের পিলারের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে কয়েকজন ব্যক্তি মারধর করেছেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
মৃত ব্যক্তির মাথা ও কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম ও নীলাফোলা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পুলিশ তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করলেও প্রাথমিকভাবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষায় পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছবি প্রকাশ করে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হয়।
এ সময় সম্ভাব্য পরিচয় হিসেবে তার নাম পারভেজ ওরফে সাকিব (২২), পিতা রাজা মিয়া, মাতা ফুল বানু এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা বলে তথ্য পাওয়া যায়। তবে হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ করেও তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তারা অসংলগ্ন ও সন্তোষজনক তথ্য দিতে না পারায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, চোর সন্দেহে অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জন ব্যক্তি একই উদ্দেশ্যে ওই যুবককে আটকে রেখে মারধর করেন এবং এতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এসআই মোহাম্মদ জাহিদুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা দায়েরের আবেদন করেন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।


























