1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতালির স্বপ্নে লিবিয়ায় নিখোঁজ সাইদুল, দালালের খপ্পরে নিঃস্ব পরিবার

মাদারীপুর প্রতিনিধি: বেলায়েত হাওলাদার
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২৬

ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়ে দুই মাস ধরে লিবিয়ায় নিখোঁজ রয়েছেন মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর দত্তের হাট এলাকার সাইদুল বেপারী (৩২)। ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার মা সূর্যবান বেগমের।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাইদুলের নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারটিতে নেমে এসেছে চরম হতাশা। পরিবারের দাবি, ছেলেকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে দালালদের মাধ্যমে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সময় টাকা নেওয়া হলেও গত দুই মাস ধরে সাইদুলের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই।
সাইদুলের মা সূর্যবান বেগম বলেন, ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য জমিজমা বিক্রি, ধার ও সুদের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত ছেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার ছেলে কোথায় আছে, কেমন আছে, কিছুই জানি না। প্রতিদিন দরজার দিকে তাকিয়ে থাকি। মনে হয়, এই বুঝি আমার ছেলে এসে ডাকবে। আমি আমার ছেলেকে বুকের মধ্যে ফিরে পেতে চাই।”
সাইদুলের স্ত্রী মেরি আক্তার জানান, তাদের চার বছরের মেয়ে প্রতিদিন বাবার সঙ্গে কথা বলতে চায়। কিন্তু বাবার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে না পেরে শিশুটি কান্না করে। তাদের আরও ১১ মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
মেরি আক্তার বলেন, “আমার মেয়েটা প্রতিদিন আব্বুর সঙ্গে কথা বলতে চায়। মোবাইল সামনে এনে বলে, আব্বুর সঙ্গে কথা বলব। কিন্তু আব্বু তো আর ফোনের ওপাশে নেই। আমি কীভাবে সন্তানদের মানুষ করব, বুঝতে পারছি না।”
পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা জানান, সাইদুল নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নিখোঁজ থাকায় সংসারের খরচ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনোভাবে তাদের দিন কাটছে বলে জানান স্বজনরা।
সাইদুলের ভাই মাহিদুল বেপারীর অভিযোগ, ইতালি নেওয়ার কথা বলে তার ভাইকে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে একটি চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের কাছে অভিযোগ আসে। এ ঘটনায় বিভিন্ন সময় পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের ঘরবাড়ি ও জায়গাজমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছি। এখন আমাদের থাকার মতো ঘরও নেই। আমরা দালালদের বিচার ও আমার ভাইয়ের সন্ধান চাই।”
পরিবারের অভিযোগ, ঘটকচর এলাকার মৃত বাদশা ফরাজীর ছেলে আনোয়ার ফরাজী ২৩ লাখ টাকার চুক্তিতে সাইদুলকে ইতালি পাঠানোর কথা বলেন। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৬ মে অগ্রিম ১২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে একই বছরের ৯ জুন শ্রীলঙ্কা ও দুবাই হয়ে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে সাইদুলকে বিদেশে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়।
স্বজনদের দাবি, লিবিয়ায় নেওয়ার পর সাইদুলকে একটি স্থানীয় চক্র জিম্মি করে। নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা দেওয়ার পরও গত দুই মাস ধরে সাইদুলের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর সাইদুলের বড় ভাই সামাদ হোসেন বাদী হয়ে মাদারীপুরে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
মামলায় আনোয়ার ফরাজী, শিল্পী আক্তার, বাদল জমাদ্দার, সাহেব আলী জমাদ্দার, মামুন বেপারী, ইভা বেগম ও ছলে বেগমসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু। তিনি বলেন, “আমি তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নেইনি।”
অভিযুক্ত আনোয়ারের স্ত্রী শিল্পী আক্তারও পরিবারের দাবি করা টাকার পরিমাণ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, “তাদের কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।”
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাইদুল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার পরিবার আদালতে মামলা করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। আদালতের নির্দেশনা থানায় পৌঁছালে বিষয়টি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নিখোঁজ সাইদুলের সন্ধান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৬:৪১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

ইতালির স্বপ্নে লিবিয়ায় নিখোঁজ সাইদুল, দালালের খপ্পরে নিঃস্ব পরিবার

আপডেট সময় : ০৬:৪১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৬

ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়ে দুই মাস ধরে লিবিয়ায় নিখোঁজ রয়েছেন মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর দত্তের হাট এলাকার সাইদুল বেপারী (৩২)। ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার মা সূর্যবান বেগমের।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাইদুলের নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারটিতে নেমে এসেছে চরম হতাশা। পরিবারের দাবি, ছেলেকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে দালালদের মাধ্যমে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সময় টাকা নেওয়া হলেও গত দুই মাস ধরে সাইদুলের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই।
সাইদুলের মা সূর্যবান বেগম বলেন, ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য জমিজমা বিক্রি, ধার ও সুদের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত ছেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার ছেলে কোথায় আছে, কেমন আছে, কিছুই জানি না। প্রতিদিন দরজার দিকে তাকিয়ে থাকি। মনে হয়, এই বুঝি আমার ছেলে এসে ডাকবে। আমি আমার ছেলেকে বুকের মধ্যে ফিরে পেতে চাই।”
সাইদুলের স্ত্রী মেরি আক্তার জানান, তাদের চার বছরের মেয়ে প্রতিদিন বাবার সঙ্গে কথা বলতে চায়। কিন্তু বাবার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে না পেরে শিশুটি কান্না করে। তাদের আরও ১১ মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
মেরি আক্তার বলেন, “আমার মেয়েটা প্রতিদিন আব্বুর সঙ্গে কথা বলতে চায়। মোবাইল সামনে এনে বলে, আব্বুর সঙ্গে কথা বলব। কিন্তু আব্বু তো আর ফোনের ওপাশে নেই। আমি কীভাবে সন্তানদের মানুষ করব, বুঝতে পারছি না।”
পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা জানান, সাইদুল নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নিখোঁজ থাকায় সংসারের খরচ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনোভাবে তাদের দিন কাটছে বলে জানান স্বজনরা।
সাইদুলের ভাই মাহিদুল বেপারীর অভিযোগ, ইতালি নেওয়ার কথা বলে তার ভাইকে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে একটি চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের কাছে অভিযোগ আসে। এ ঘটনায় বিভিন্ন সময় পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের ঘরবাড়ি ও জায়গাজমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছি। এখন আমাদের থাকার মতো ঘরও নেই। আমরা দালালদের বিচার ও আমার ভাইয়ের সন্ধান চাই।”
পরিবারের অভিযোগ, ঘটকচর এলাকার মৃত বাদশা ফরাজীর ছেলে আনোয়ার ফরাজী ২৩ লাখ টাকার চুক্তিতে সাইদুলকে ইতালি পাঠানোর কথা বলেন। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৬ মে অগ্রিম ১২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে একই বছরের ৯ জুন শ্রীলঙ্কা ও দুবাই হয়ে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে সাইদুলকে বিদেশে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়।
স্বজনদের দাবি, লিবিয়ায় নেওয়ার পর সাইদুলকে একটি স্থানীয় চক্র জিম্মি করে। নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা দেওয়ার পরও গত দুই মাস ধরে সাইদুলের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর সাইদুলের বড় ভাই সামাদ হোসেন বাদী হয়ে মাদারীপুরে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
মামলায় আনোয়ার ফরাজী, শিল্পী আক্তার, বাদল জমাদ্দার, সাহেব আলী জমাদ্দার, মামুন বেপারী, ইভা বেগম ও ছলে বেগমসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু। তিনি বলেন, “আমি তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নেইনি।”
অভিযুক্ত আনোয়ারের স্ত্রী শিল্পী আক্তারও পরিবারের দাবি করা টাকার পরিমাণ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, “তাদের কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।”
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাইদুল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার পরিবার আদালতে মামলা করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। আদালতের নির্দেশনা থানায় পৌঁছালে বিষয়টি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নিখোঁজ সাইদুলের সন্ধান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।