পঞ্চগড়ে ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর বার্তা, ব্লক ব্যবহারে বাড়ছে গুরুত্ব
পঞ্চগড়ে ইটভাটার সার্বিক ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্রচলিত ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লকের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পরিবেশ রক্ষা, সরকারি বিধিবিধান মেনে ইটভাটা পরিচালনা এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোসাঃ শুকরিয়া পারভীন।
সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল, জেলা কমান্ডার, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, পঞ্চগড়, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ জেলার বিভিন্ন ইটভাটার মালিক ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলা প্রশাসক মোসাঃ শুকরিয়া পারভীন বলেন, পুরোনো ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লকের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করা সম্ভব। সরকার ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে ব্যাপকভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন করে কোনো ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র ও লাইসেন্স দেওয়া হবে না। পরিবেশ সুরক্ষা এবং সরকারি বিধিবিধান মেনে ইটভাটা পরিচালনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও নিয়মনীতি নিয়েও আলোচনা হয়। কেন্দ্রীয় ইটভাটা সমিতির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মো. শফিউল আলম সুফি বলেন, আইন অনুযায়ী ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুকুর ও কৃষিজমির আশপাশে ইটভাটা স্থাপনের সুযোগ নেই। তবে সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে ইটভাটা মালিকদের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এ সময় জেলার ইটভাটা মালিক ও ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা পরিচালনায় বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বক্তব্য শোনেন এবং ইটভাটা ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা ও সরকারি বিধিবিধান বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
মতবিনিময় সভায় ইটভাটা পরিচালনায় আইন মেনে চলা, পরিবেশের ক্ষতি কমানো এবং নির্মাণ খাতে বিকল্প উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে প্রচলিত ইটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ব্লকের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব নির্মাণব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ইটভাটা মালিকদের মধ্যে পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের পাশাপাশি সরকারি বিধিবিধান বাস্তবায়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


























