কবি নজরুল কলেজের ইলেকট্রিশিয়ানকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতা রোমানের বিরুদ্ধে
কবি নজরুল সরকারি কলেজের সহকারী ইলেকট্রিশিয়ান আমান উল্লাহ আমানকে কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক রোমান আহমেদের নেতৃত্বে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।
গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কলেজ ক্যাম্পাসের নতুন ভবনের পাশে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারধরের ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় আমান উল্লাহ আমানকে তার সহকর্মীরা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
জানা যায়, গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদল আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দিন কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে ‘উচ্ছ্বাস কোচিং সেন্টার’-এর একটি ব্যানার টাঙানো হয়। বিষয়টি কলেজের অধ্যক্ষের নজরে এলে তিনি আমান উল্লাহ আমানসহ কয়েকজন কর্মচারীকে ব্যানারটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।
ব্যানার সরাতে গেলে সংশ্লিষ্টরা কর্মচারীদের জানায়, এ বিষয়ে কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়কের সঙ্গে কথা হয়েছে। পরে কলেজের অধ্যক্ষ ছাত্রদলের আহ্বায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানায়।
পরে কলেজের অধ্যক্ষের নির্দেশে কর্মচারীরা পুনরায় ব্যানারটি সরাতে গেলে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রোমান আহমেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেন আমানকে। এ সময় আমান উল্লাহকে রোমান আহমেদ হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসময় যুগ্ম আহ্বায়ক রোমান আহমেদ তাকে বলেন, ‘ব্যানারের বিষয়ে তোর এখানে প্রয়োজন নেই, তুই এখান থেকে যা, তোকে যদি মারি, প্রিন্সিপাল স্যার কি আটকাবে?’
এই ঘটনার দুই দিন পর গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রোমান আহমেদের নেতৃত্বে তার অনুসারী যুগ্ম আহ্বায়ক সুজন দাস ও সাবেক ছাত্রদল নেতা আজাদ সন্ধ্যায় কলেজের গেটে আমান উল্লাহ আমানকে ডেকে নিয়ে কিল, ঘুষি ও বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ করেছেন আমান উল্লাহ আমান।
ভুক্তভোগী কবি নজরুল কলেজের সহকারী ইলেকট্রিশিয়ান আমান উল্লাহ আমান বলেন, নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দিন কলেজের ভেতরের ‘উচ্ছ্বাস কোচিং সেন্টার’-এর ব্যানার লাগানো হলে অধ্যক্ষ স্যার আমাদের কয়েকজনকে ব্যানারটি সরাতে পাঠান। স্যারের নির্দেশে কয়েকবার সেখানে গেলে ছাত্রদলের রোমান ভাই আমাকে ফোনে বলে—‘ব্যানারের বিষয়ে তোর এখানে প্রয়োজন নেই, তুই এখান থেকে যা, তোকে যদি মারি, প্রিন্সিপাল স্যার কি আটকাবে?’
তিনি আরও বলেন, ঘটনার দুই দিন পর ছাত্রদলের সুজন ভাই আমাকে ফোন করে গেটের সামনে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়া পর আমাকে জিজ্ঞেস করেন—রোমানের সঙ্গে কী হয়েছে? আমি বলি, কিছু হয়নি। বলা মাত্রই সুজন ভাই আমাকে থাপ্পড় মেরে টেনে-হেঁচড়ে নতুন ভবনের পাশে নিয়ে যান। সেখানে রোমান ভাই উপস্থিত ছিলেন এবং তার নেতৃত্বেই সুজন, আজাদসহ চারজন মিলে আমাকে মারধর করেন। আজাদ ভাই লাঠি দিয়ে আমাকে আঘাত করেন এবং অন্যরা কিল, ঘুষি ও লাথি মারেন। আমাকে ইট দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করে।
এঘটনায় অভিযুক্ত কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক রোমান আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, নিউজ প্রকাশিত হলে দেখে নেব।
অভিযোগের বিষয়ে কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক ইরফান আহমদ ফাহিম বলেন, ঘটনার সময় আমি ক্যাম্পাসে ছিলাম না। আমান আমাকে ফোন করে জানিয়েছে। এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানি না। অভিযোগ পেলে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কবি নজরুল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, আমানের উপরে হামলার বিষয়টি জানতে পেরেছি। তাকে চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ক্যাম্পাসে এসে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিব।
























