1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাগেশ্বরীতে মাদ্রাসার নিয়োগে ১৬ লাখ টাকার ঘুষ ও জালিয়াতির অভিযোগ

মো: কাজল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১০

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার নায়কেরহাট দারুস সুন্নাত দ্বি-মুখী দাখিল মাদ্রাসায় পেছনের তারিখ দেখিয়ে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী (অফিস সহায়ক) নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও লাখ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী এবং মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়োগ অনিয়মসহ একাধিক অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে গত ৮ অক্টোবর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং এর অনুলিপি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যমান ম্যানেজিং কমিটি পুনর্গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কিন্তু প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু না করে সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে গোপনে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার প্রকাশ্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি, ফলে যোগ্য প্রার্থীরা আবেদনের সুযোগ পাননি।

অভিযোগ রয়েছে, সুপারিনটেনডেন্ট মো. খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী ও সভাপতি আনোয়ার হোসেন তাঁদের পছন্দনীয় প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করেন। উক্ত রেজুলেশনে ৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি ও ৩ জন অভিভাবক প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক পদপ্রার্থী মো. নুরুন্নবীর বাবা আব্দুল জলিল (ওরফে জামাদার)-এর কাছ থেকে গোপনে ১৬ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, বর্তমান সুপারিনটেনডেন্ট পদে যোগদানের পর থেকে চাকরি দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে ইতিপূর্বেও প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা দাবি করেন। এই ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

অনিয়মের বিষয়ে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল মজিদ বলেন, “কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে আমাদের স্বাক্ষর জাল করে এই ভুয়া নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা এই অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, “গত ২৬ সেপ্টেম্বর নিয়োগের সময় ডিজির প্রতিনিধি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, অভিভাবক সদস্য, মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট এবং আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সার্বিক বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আলাউদ্দিন জানান, “অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগকারীরা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিতর্কিত নিয়োগের ভিত্তিতে কোনো এমপিওভুক্তি, বেতন-ভাতা বা সরকারি আর্থিক সুবিধা প্রদান বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে, নিয়োগ জালিয়াতির এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো মুহূর্তে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১২:১৭:৫৪ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

নাগেশ্বরীতে মাদ্রাসার নিয়োগে ১৬ লাখ টাকার ঘুষ ও জালিয়াতির অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:১৭:৫৪ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
১০

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার নায়কেরহাট দারুস সুন্নাত দ্বি-মুখী দাখিল মাদ্রাসায় পেছনের তারিখ দেখিয়ে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী (অফিস সহায়ক) নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও লাখ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী এবং মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়োগ অনিয়মসহ একাধিক অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে গত ৮ অক্টোবর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং এর অনুলিপি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যমান ম্যানেজিং কমিটি পুনর্গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কিন্তু প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু না করে সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে গোপনে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার প্রকাশ্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি, ফলে যোগ্য প্রার্থীরা আবেদনের সুযোগ পাননি।

অভিযোগ রয়েছে, সুপারিনটেনডেন্ট মো. খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী ও সভাপতি আনোয়ার হোসেন তাঁদের পছন্দনীয় প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করেন। উক্ত রেজুলেশনে ৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি ও ৩ জন অভিভাবক প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক পদপ্রার্থী মো. নুরুন্নবীর বাবা আব্দুল জলিল (ওরফে জামাদার)-এর কাছ থেকে গোপনে ১৬ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, বর্তমান সুপারিনটেনডেন্ট পদে যোগদানের পর থেকে চাকরি দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে ইতিপূর্বেও প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা দাবি করেন। এই ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

অনিয়মের বিষয়ে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল মজিদ বলেন, “কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে আমাদের স্বাক্ষর জাল করে এই ভুয়া নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা এই অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, “গত ২৬ সেপ্টেম্বর নিয়োগের সময় ডিজির প্রতিনিধি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, অভিভাবক সদস্য, মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট এবং আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সার্বিক বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আলাউদ্দিন জানান, “অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগকারীরা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিতর্কিত নিয়োগের ভিত্তিতে কোনো এমপিওভুক্তি, বেতন-ভাতা বা সরকারি আর্থিক সুবিধা প্রদান বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে, নিয়োগ জালিয়াতির এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো মুহূর্তে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।