1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক প্রস্তুত: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৬

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা দিতে প্রস্তুত বিশ্বব্যাংক। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও কর্মসূচির সঙ্গে সংস্থাটির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের বোঝা বহনের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও মোকাবিলা করতে হচ্ছে সরকারকে। এসব বাস্তবতা বিশ্বব্যাংক অনুধাবন করছে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর অর্থনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারণে সরকার যেসব নীতি গ্রহণ করেছে, সেগুলোর সঙ্গে বিশ্বব্যাংক একমত। এ বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারেও তারা আগ্রহী।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারের ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হবে। সহযোগিতার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় সামনে আসবে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।

১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়

বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আলোচনা শেষে বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। আমি বিভিন্ন জায়গায় অনেক ভুল প্রতিবেদন দেখতে পাচ্ছি। এটি একটি আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়া আগামী কয়েক মাস চলবে।’

অর্থমন্ত্রী জানান, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ও সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অবস্থানের সামঞ্জস্য রয়েছে। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা চলছে।

মূল্যস্ফীতি ও জিডিপির পূর্বাভাস প্রসঙ্গে

মূল্যস্ফীতি ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস এবং সরকারের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার অন্য কোনো সংস্থার পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চায় না। সংস্থাগুলো নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পূর্বাভাস দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক পর্যালোচনা করে প্রকৃত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে।

তিনি বলেন, সরকার নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে। বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।

বাজেটে নির্ধারিত মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে যেসব প্রক্ষেপণ দেওয়া হয়েছে, সরকার সেগুলো পূরণ করতে পারবে বলে আশা করছে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারের ঘোষিত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:১৫ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক প্রস্তুত: অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৮:৩০:১৫ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
৬

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা দিতে প্রস্তুত বিশ্বব্যাংক। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও কর্মসূচির সঙ্গে সংস্থাটির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের বোঝা বহনের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও মোকাবিলা করতে হচ্ছে সরকারকে। এসব বাস্তবতা বিশ্বব্যাংক অনুধাবন করছে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর অর্থনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারণে সরকার যেসব নীতি গ্রহণ করেছে, সেগুলোর সঙ্গে বিশ্বব্যাংক একমত। এ বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারেও তারা আগ্রহী।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারের ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হবে। সহযোগিতার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় সামনে আসবে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।

১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়

বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আলোচনা শেষে বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। আমি বিভিন্ন জায়গায় অনেক ভুল প্রতিবেদন দেখতে পাচ্ছি। এটি একটি আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়া আগামী কয়েক মাস চলবে।’

অর্থমন্ত্রী জানান, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ও সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অবস্থানের সামঞ্জস্য রয়েছে। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা চলছে।

মূল্যস্ফীতি ও জিডিপির পূর্বাভাস প্রসঙ্গে

মূল্যস্ফীতি ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস এবং সরকারের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার অন্য কোনো সংস্থার পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চায় না। সংস্থাগুলো নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পূর্বাভাস দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক পর্যালোচনা করে প্রকৃত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে।

তিনি বলেন, সরকার নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে। বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।

বাজেটে নির্ধারিত মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে যেসব প্রক্ষেপণ দেওয়া হয়েছে, সরকার সেগুলো পূরণ করতে পারবে বলে আশা করছে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারের ঘোষিত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।