1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রিশালে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজে পারাপার, দেড় বছরেও চালু হয়নি নতুন সেতু

ত্রিশাল প্রতিনিধি, এম.এ.এইচ রাকিবুল ইসলাম :
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৭

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নে খিরু নদীর ওপর পোড়াবাড়ী বাজার বেইলি ব্রিজটির পাটাতন ভেঙে ও ক্ষয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন। অন্যদিকে, প্রায় ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সেতুর কাজ প্রায় দেড় বছর আগে শেষ হলেও সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেটি এখনো চালু হয়নি। ফলে কাঠের তৈরি মই দিয়ে নতুন সেতুতে ওঠানামা করছেন স্থানীয় লোকজন। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ সেতু চালু না হওয়ায় ত্রিশাল ও পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়িয়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রিশাল-পোড়াবাড়ী সড়কে খিরু নদীর ওপর নির্মিত পুরোনো বেইলি ব্রিজটি ১৯৮০-এর দশকে নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ব্রিজটি জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে হয়ে পড়ে। বর্তমানে এর পাটাতন ভেঙে ও ক্ষয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পাটাতন না থাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়েই ব্রিজটি ব্যবহার করছেন পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা।
জনদুর্ভোগ কমাতে ২০২২ সালে পুরোনো ব্রিজের পাশে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজটি পায় এমসিই-এমএলএম (জেভি) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সেতুর মূল নির্মাণকাজ প্রায় দেড় বছর আগে শেষ হয়েছে। কিন্তু সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ জটিলতার সমাধান না হওয়ায় সেতুটি এখনো জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা যায়নি। সেতুটি চালুর বিষয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদল সরেজমিনে পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি।

গত ২৩ জুলাই ২০২৬ ত্রিশালের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করেন। সে সময় তিনি পরবর্তী সপ্তাহের মধ্যে সেতুটি চালুর আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে নির্ধারিত সময়ে সেতুটি চালু হয়নি। এরপরও সেতুটি চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সেতুটি ত্রিশালের মঠবাড়ী ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়িয়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও কৃষিপণ্য পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ সড়ক ব্যবহার করেন। নতুন সেতুটি চালু হলে দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, জরাজীর্ণ বেইলি ব্রিজ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন সেটি চালু না হওয়া জনদুর্ভোগকে আরও দীর্ঘায়িত করছে। সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন করা গেলে সেতুটি চালুর পথ সুগম হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত জমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসন করে নতুন সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ নেবে। তাঁদের প্রত্যাশা, আর বিলম্ব না করে সেতুটি চালু করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো বেইলি ব্রিজের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি পাবেন দুই উপজেলার মানুষ।

~ এম.এ.এইচ রাকিবুল ইসলাম
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১০:৫৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ত্রিশালে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজে পারাপার, দেড় বছরেও চালু হয়নি নতুন সেতু

আপডেট সময় : ১০:৫৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
৭

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নে খিরু নদীর ওপর পোড়াবাড়ী বাজার বেইলি ব্রিজটির পাটাতন ভেঙে ও ক্ষয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন। অন্যদিকে, প্রায় ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সেতুর কাজ প্রায় দেড় বছর আগে শেষ হলেও সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেটি এখনো চালু হয়নি। ফলে কাঠের তৈরি মই দিয়ে নতুন সেতুতে ওঠানামা করছেন স্থানীয় লোকজন। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ সেতু চালু না হওয়ায় ত্রিশাল ও পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়িয়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রিশাল-পোড়াবাড়ী সড়কে খিরু নদীর ওপর নির্মিত পুরোনো বেইলি ব্রিজটি ১৯৮০-এর দশকে নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ব্রিজটি জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে হয়ে পড়ে। বর্তমানে এর পাটাতন ভেঙে ও ক্ষয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পাটাতন না থাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়েই ব্রিজটি ব্যবহার করছেন পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা।
জনদুর্ভোগ কমাতে ২০২২ সালে পুরোনো ব্রিজের পাশে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজটি পায় এমসিই-এমএলএম (জেভি) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সেতুর মূল নির্মাণকাজ প্রায় দেড় বছর আগে শেষ হয়েছে। কিন্তু সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ জটিলতার সমাধান না হওয়ায় সেতুটি এখনো জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা যায়নি। সেতুটি চালুর বিষয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদল সরেজমিনে পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি।

গত ২৩ জুলাই ২০২৬ ত্রিশালের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করেন। সে সময় তিনি পরবর্তী সপ্তাহের মধ্যে সেতুটি চালুর আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে নির্ধারিত সময়ে সেতুটি চালু হয়নি। এরপরও সেতুটি চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সেতুটি ত্রিশালের মঠবাড়ী ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়িয়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও কৃষিপণ্য পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ সড়ক ব্যবহার করেন। নতুন সেতুটি চালু হলে দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, জরাজীর্ণ বেইলি ব্রিজ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন সেটি চালু না হওয়া জনদুর্ভোগকে আরও দীর্ঘায়িত করছে। সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন করা গেলে সেতুটি চালুর পথ সুগম হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত জমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসন করে নতুন সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ নেবে। তাঁদের প্রত্যাশা, আর বিলম্ব না করে সেতুটি চালু করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো বেইলি ব্রিজের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি পাবেন দুই উপজেলার মানুষ।

~ এম.এ.এইচ রাকিবুল ইসলাম
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি