1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাত ধোয়ার ব্যবস্থা আছে ৬৮% পরিবারে, হাসপাতাল-বিদ্যালয়ে ঘাটতি প্রকট

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৯

করোনাভাইরাস মহামারির সময় হাত ধোয়ার গুরুত্ব নিয়ে দেশে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছিল। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে নেওয়া হয়েছিল নানা কর্মসূচি। তবে মহামারির পর এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা অনেকটাই কমে গেছে।

কোথাও বেসিন অকার্যকর, কোথাও নেই সাবান। আবার নিয়মিত তদারকির অভাবে অনেক স্থানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে সচেতনতা তৈরি হলেও তা স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত করা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬৮ শতাংশ পরিবারের হাত ধোয়ার স্থানে সাবান ও পানির ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৩২ শতাংশ পরিবারের এই মৌলিক সুবিধা নেই। এসব পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সুযোগও সীমিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাত ধোয়ার অভ্যাসকে টেকসই করতে শুধু দিবসভিত্তিক প্রচার বা অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট নয়। বিদ্যালয় ও হাসপাতালে সাবান-পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, অকার্যকর বেসিন দ্রুত মেরামত, পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।

হাসপাতালেও নেই পর্যাপ্ত সুবিধা

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর এক গবেষণায় ঢাকার ১৩টি বড় হাসপাতালের হাত ধোয়ার অবকাঠামো ও সাবানের প্রাপ্যতা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

আড়াই হাজারের বেশি বেসিন পরিদর্শন করে গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৩০ শতাংশ বেসিন অকার্যকর এবং প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিচ্ছন্ন। বহির্বিভাগের বেসিনগুলোর মাত্র ১৩ শতাংশে এবং অন্যান্য যৌথভাবে ব্যবহৃত বেসিনের মাত্র ৩ শতাংশে সাবান পাওয়া গেছে।

বিদ্যালয়ের চিত্রও উদ্বেগজনক

বিদ্যালয়গুলোতেও হাত ধোয়ার সুযোগের ঘাটতি রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের ২০২২ সালের যৌথ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৪৪ শতাংশ বিদ্যালয়ে মৌলিক হাত ধোয়ার সুবিধা ছিল না। ফলে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ বিদ্যালয়ে অবস্থানকালে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি সাবান ও পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, সেগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সাবানের সরবরাহ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগও নিশ্চিত করতে হবে।

কেন জরুরি হাত ধোয়া

অপরিষ্কার হাতের মাধ্যমে রোগজীবাণু খাবার ও পানির সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। টয়লেট ব্যবহারের পর, খাবার তৈরি ও গ্রহণের আগে এবং শিশুকে খাওয়ানোর আগে সাবান দিয়ে হাত না ধুলে ডায়রিয়া ও অন্যান্য অন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

শিশুদের বারবার ডায়রিয়া হলে পানিশূন্যতা ও অপুষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই পরিবার, বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুবিধা ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা গেলে হাত ধোয়ার অভ্যাসকে শুধু মহামারিকালীন কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত করা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:৩২:৪১ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

হাত ধোয়ার ব্যবস্থা আছে ৬৮% পরিবারে, হাসপাতাল-বিদ্যালয়ে ঘাটতি প্রকট

আপডেট সময় : ০৫:৩২:৪১ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
১৯

করোনাভাইরাস মহামারির সময় হাত ধোয়ার গুরুত্ব নিয়ে দেশে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছিল। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে নেওয়া হয়েছিল নানা কর্মসূচি। তবে মহামারির পর এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা অনেকটাই কমে গেছে।

কোথাও বেসিন অকার্যকর, কোথাও নেই সাবান। আবার নিয়মিত তদারকির অভাবে অনেক স্থানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে সচেতনতা তৈরি হলেও তা স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত করা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬৮ শতাংশ পরিবারের হাত ধোয়ার স্থানে সাবান ও পানির ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৩২ শতাংশ পরিবারের এই মৌলিক সুবিধা নেই। এসব পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সুযোগও সীমিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাত ধোয়ার অভ্যাসকে টেকসই করতে শুধু দিবসভিত্তিক প্রচার বা অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট নয়। বিদ্যালয় ও হাসপাতালে সাবান-পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, অকার্যকর বেসিন দ্রুত মেরামত, পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।

হাসপাতালেও নেই পর্যাপ্ত সুবিধা

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর এক গবেষণায় ঢাকার ১৩টি বড় হাসপাতালের হাত ধোয়ার অবকাঠামো ও সাবানের প্রাপ্যতা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

আড়াই হাজারের বেশি বেসিন পরিদর্শন করে গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৩০ শতাংশ বেসিন অকার্যকর এবং প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিচ্ছন্ন। বহির্বিভাগের বেসিনগুলোর মাত্র ১৩ শতাংশে এবং অন্যান্য যৌথভাবে ব্যবহৃত বেসিনের মাত্র ৩ শতাংশে সাবান পাওয়া গেছে।

বিদ্যালয়ের চিত্রও উদ্বেগজনক

বিদ্যালয়গুলোতেও হাত ধোয়ার সুযোগের ঘাটতি রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের ২০২২ সালের যৌথ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৪৪ শতাংশ বিদ্যালয়ে মৌলিক হাত ধোয়ার সুবিধা ছিল না। ফলে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ বিদ্যালয়ে অবস্থানকালে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি সাবান ও পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, সেগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সাবানের সরবরাহ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগও নিশ্চিত করতে হবে।

কেন জরুরি হাত ধোয়া

অপরিষ্কার হাতের মাধ্যমে রোগজীবাণু খাবার ও পানির সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। টয়লেট ব্যবহারের পর, খাবার তৈরি ও গ্রহণের আগে এবং শিশুকে খাওয়ানোর আগে সাবান দিয়ে হাত না ধুলে ডায়রিয়া ও অন্যান্য অন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

শিশুদের বারবার ডায়রিয়া হলে পানিশূন্যতা ও অপুষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই পরিবার, বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুবিধা ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা গেলে হাত ধোয়ার অভ্যাসকে শুধু মহামারিকালীন কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত করা সম্ভব।