উজ্জল আলোক সজ্জায় সেজেছে ফকিরহাটের পূজামণ্ডপগুলো, মহানবমীতে উৎসবমুখর পরিবেশ
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী আজ বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে পালিত হচ্ছে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায়। ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় উপজেলার উত্তরপাড়া দোলখোলা সার্বজনীন পূজা মন্দির ঘুরে দেখা যায় উৎসবের এই আনন্দমুখর চিত্র।
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরটি সন্ধ্যা নামতেই রঙিন আলোয় ঝলমল করছে। মণ্ডপের সামনের অংশজুড়ে লাল, সবুজ ও হলুদ বাতির মালায় এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভেতরে দেবী দুর্গার প্রতিমা ঘিরে ভক্তদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও প্রার্থনায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
পূজা উপলক্ষে মন্দিরে বিশেষ পূজা-অর্চনা, আরতি ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও বয়স্কসহ সব বয়সের মানুষ নতুন পোশাকে মণ্ডপে এসে দেবীর কাছে প্রার্থনা জানান এবং একে অপরকে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। স্থানীয় ভক্তদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকা থেকেও অনেকে প্রতিমা দর্শনে আসেন।
স্থানীয় ডা. সুমন কুমার মজুমদার বলেন, “শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি আমাদের সামাজিক মিলনেরও উৎসব। এবার সবাই মিলেমিশে অত্যন্ত সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজার আয়োজন করতে পেরেছি। মহানবমীর এই দিনে আমি সবার সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করি। এলাকার সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতায় উৎসব আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।”
বিজিবি সদস্য শোভন কুমার মজুমদার বলেন, “দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের এলাকার উৎসবে অংশ নিতে পারা আমার জন্য আনন্দের। অসুরের ওপর দেবীর বিজয় আমাদের শেখায়, অশুভ শক্তি যত বড়ই হোক, শেষ পর্যন্ত সত্য ও ন্যায়ের জয় হয়। আমি প্রত্যাশা করি, দেশে সবসময় এমন সম্প্রীতি ও শান্তি বিরাজ করুক।”
মন্দির কমিটির সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বিঘ্নে পূজা সম্পন্ন করতে মণ্ডপে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতাও পাওয়া যাচ্ছে বলে তাঁরা জানান।
আগামীকাল বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এ বছরের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।






















