1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রিশালে ইসলামী ফাউন্ডেশনের সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের অর্থ দাবির অভিযোগ

ত্রিশাল প্রতিনিধি, এম.এ.এইচ রাকিবুল ইসলাম
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৮

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের সুপারভাইজার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কেন্দ্র পরিদর্শনের নামে শিক্ষকদের কাছে টাকা দাবি, কেন্দ্র খালি করে দেওয়ার হুমকি এবং ব্যাংক হিসাব লক করে টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

অভিযোগকারী শিক্ষকদের দাবি, কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের কাছে টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে কেন্দ্র খালি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাব লক করে দেওয়ার পর টাকা দাবি করার অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন শিক্ষক।

শিক্ষকদের অভিযোগ, এ ধরনের পরিস্থিতিতে তাঁরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে চাপ ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন। তাঁরা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামী ফাউন্ডেশনের এক শিক্ষক বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে আসছি। কিন্তু কেন্দ্র পরিদর্শনের নামে টাকা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। মডেল কেয়ার টেকার আরিফের মাধ্যমে আমাদের কাছে টাকার দাবি করে টাকা দাবি করার রেকর্ড ও আছে আমাদের কাছে, আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

হাফেজ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে আমার কেন্দ্র পরিচালনা করে আসছি। তবে বর্তমান সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অযৌক্তিক চাপের মধ্যে রেখে টাকা দাবি করা হচ্ছে । আমার কাছেও টাকা দাবি করা হয়েছে। এ ধরনের চাপের কারণে আমরা স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছি না।
আমরা শিক্ষক হিসেবে যে সামান্য সম্মানী পাই, তা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর। এর মধ্যে যদি সেই অর্থের একটি বড় অংশ অন্যকে দিতে হয়, তাহলে আমাদের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করা এবং দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
আমি বর্তমান সরকারের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধ এবং অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করার অভিযোগের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। আমরা চাই, কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা আর্থিক চাপ ছাড়াই সম্মানের সঙ্গে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারি।

ত্রিশাল উপজেলার সানকিভাঙ্গা কেন্দ্রের আব্দুল জব্বার বলেন, আমি ইসলামী ফাউন্ডেশনের সহজ কোরআন শিক্ষার একজন শিক্ষক। আমি নিয়মিত পাঠদান করে আসছি। কিন্তু দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের চাপ, ভয়ভীতি ও অর্থ দাবির শিকার হয়তেছি।
একদিন জাহাঙ্গীর স্যার ও আরিফ স্যার আমার কেন্দ্রে ৮.৫১ মিনিটে উপস্থিত হয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, আমি কেন ছুটি দিছি।  তখন আমি তাঁদের জানাই, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়। সে কারণে আমি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ছুটি দিয়ে দিছি  । এরপর তাঁরা আমাকে জোহরের নামাজ পড়  কাগজ পাতি নিয়ে  অফিসে যেতে বলেন। সেদিন আমি প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট নিয়ে অফিসে যাই এবং নামাজ শেষে তাঁদের কাছে সেটি প্রদর্শন করি। সার্টিফিকেট দেখানোর পর তাঁরা আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখান এবং বলেন, আমার চাকরি থাকবে না। এভাবে আমাকে চাকরি হারানোর হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হই।
এর কয়েক দিন পর আমার বেতন ব্যাংকে জমা হয় এবং মোবাইলে বেতন জমার এসএমএস  আসে। কিন্তু বেতন তুলতে ব্যাংকে গেলে আমাকে টাকা দেওয়া হয়নি। পরে আমি অফিসে যোগাযোগ করলে আমার কাছে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়, দর কষাকষির  একপর্যায়ে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়ে কথা হয়। এরপর আমি ব্যাংক থেকে বেতন তুলে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে বাসস্ট্যান্ডে গেলে আরিফ স্যার আমাকে বারবার ফোন করতে থাকেন।
আমি বেতন তুলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হই। পরে তাঁকে জানাই, পাঁচ হাজার টাকা দিলে দিতে পারব। আমি নই, ইসলামী ফাউন্ডেশনের আরও অনেক শিক্ষক, বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের কাছ থেকেও একইভাবে টাকা দাবি করা হচ্ছে। আমাকে বলা হয়েছে, অন্যদের কাছ থেকে যে পরিমাণ টাকা নেওয়া হচ্ছে, আমার কাছ থেকেও তার কম নেওয়া যাবে না। এমনকি ১০ হাজার টাকার ক্ষেত্রে এক হাজার টাকাও কম দেওয়া যাবে না এমন কথাও বলা হয়েছে।
আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করছি। একই সঙ্গে শিক্ষকদের যেন তাঁদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হয়রানি, ভয়ভীতি বা অনৈতিক অর্থ দাবির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

ত্রিশাল উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা এবং গুজিয়াম কাচাচড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইসলামী ফাউন্ডেশনের শিক্ষক
শাহজাহান বলেন,দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছি, গত কয়েক মাস ধরে ফিল্ড সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর হোসেন আমার কাছে অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করে আসছেন। গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ব্যাংক থেকে বকেয়াসহ তিন মাসের মোট ১৮ হাজার ৮০০ টাকা উত্তোলনের পর সুপারভাইজার আমাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেন।

অন্য এক শিক্ষক অভিযোগ করেন, ব্যাংক হিসাব লক করে টাকা দাবি করার বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত জটিলতার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করে কেউ অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার হয়ে থাকলে তার প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে।

ত্রিশালের আলেমরা বলেন, ইসলামী ফাউন্ডেশনের শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধ করে তাঁদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ফাউন্ডেশন ত্রিশাল উপজেলা শাখার সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি কোনো শিক্ষকের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করিনি এবং কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হয়রানিও করিনি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। আমি এ ধরনের কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত নই।

এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাসনাত জাহান খান বলেন, অভিযোগের পেয়েছি  তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

~ এম.এ.এইচ রাকিবুল ইসলাম
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০২:৫১:১০ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ত্রিশালে ইসলামী ফাউন্ডেশনের সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের অর্থ দাবির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:৫১:১০ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
৮

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের সুপারভাইজার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কেন্দ্র পরিদর্শনের নামে শিক্ষকদের কাছে টাকা দাবি, কেন্দ্র খালি করে দেওয়ার হুমকি এবং ব্যাংক হিসাব লক করে টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

অভিযোগকারী শিক্ষকদের দাবি, কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের কাছে টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে কেন্দ্র খালি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাব লক করে দেওয়ার পর টাকা দাবি করার অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন শিক্ষক।

শিক্ষকদের অভিযোগ, এ ধরনের পরিস্থিতিতে তাঁরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে চাপ ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন। তাঁরা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামী ফাউন্ডেশনের এক শিক্ষক বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে আসছি। কিন্তু কেন্দ্র পরিদর্শনের নামে টাকা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। মডেল কেয়ার টেকার আরিফের মাধ্যমে আমাদের কাছে টাকার দাবি করে টাকা দাবি করার রেকর্ড ও আছে আমাদের কাছে, আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

হাফেজ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে আমার কেন্দ্র পরিচালনা করে আসছি। তবে বর্তমান সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অযৌক্তিক চাপের মধ্যে রেখে টাকা দাবি করা হচ্ছে । আমার কাছেও টাকা দাবি করা হয়েছে। এ ধরনের চাপের কারণে আমরা স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছি না।
আমরা শিক্ষক হিসেবে যে সামান্য সম্মানী পাই, তা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর। এর মধ্যে যদি সেই অর্থের একটি বড় অংশ অন্যকে দিতে হয়, তাহলে আমাদের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করা এবং দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
আমি বর্তমান সরকারের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধ এবং অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করার অভিযোগের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। আমরা চাই, কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা আর্থিক চাপ ছাড়াই সম্মানের সঙ্গে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারি।

ত্রিশাল উপজেলার সানকিভাঙ্গা কেন্দ্রের আব্দুল জব্বার বলেন, আমি ইসলামী ফাউন্ডেশনের সহজ কোরআন শিক্ষার একজন শিক্ষক। আমি নিয়মিত পাঠদান করে আসছি। কিন্তু দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের চাপ, ভয়ভীতি ও অর্থ দাবির শিকার হয়তেছি।
একদিন জাহাঙ্গীর স্যার ও আরিফ স্যার আমার কেন্দ্রে ৮.৫১ মিনিটে উপস্থিত হয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, আমি কেন ছুটি দিছি।  তখন আমি তাঁদের জানাই, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়। সে কারণে আমি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ছুটি দিয়ে দিছি  । এরপর তাঁরা আমাকে জোহরের নামাজ পড়  কাগজ পাতি নিয়ে  অফিসে যেতে বলেন। সেদিন আমি প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট নিয়ে অফিসে যাই এবং নামাজ শেষে তাঁদের কাছে সেটি প্রদর্শন করি। সার্টিফিকেট দেখানোর পর তাঁরা আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখান এবং বলেন, আমার চাকরি থাকবে না। এভাবে আমাকে চাকরি হারানোর হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হই।
এর কয়েক দিন পর আমার বেতন ব্যাংকে জমা হয় এবং মোবাইলে বেতন জমার এসএমএস  আসে। কিন্তু বেতন তুলতে ব্যাংকে গেলে আমাকে টাকা দেওয়া হয়নি। পরে আমি অফিসে যোগাযোগ করলে আমার কাছে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়, দর কষাকষির  একপর্যায়ে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়ে কথা হয়। এরপর আমি ব্যাংক থেকে বেতন তুলে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে বাসস্ট্যান্ডে গেলে আরিফ স্যার আমাকে বারবার ফোন করতে থাকেন।
আমি বেতন তুলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হই। পরে তাঁকে জানাই, পাঁচ হাজার টাকা দিলে দিতে পারব। আমি নই, ইসলামী ফাউন্ডেশনের আরও অনেক শিক্ষক, বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের কাছ থেকেও একইভাবে টাকা দাবি করা হচ্ছে। আমাকে বলা হয়েছে, অন্যদের কাছ থেকে যে পরিমাণ টাকা নেওয়া হচ্ছে, আমার কাছ থেকেও তার কম নেওয়া যাবে না। এমনকি ১০ হাজার টাকার ক্ষেত্রে এক হাজার টাকাও কম দেওয়া যাবে না এমন কথাও বলা হয়েছে।
আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করছি। একই সঙ্গে শিক্ষকদের যেন তাঁদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হয়রানি, ভয়ভীতি বা অনৈতিক অর্থ দাবির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

ত্রিশাল উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা এবং গুজিয়াম কাচাচড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইসলামী ফাউন্ডেশনের শিক্ষক
শাহজাহান বলেন,দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছি, গত কয়েক মাস ধরে ফিল্ড সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর হোসেন আমার কাছে অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করে আসছেন। গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ব্যাংক থেকে বকেয়াসহ তিন মাসের মোট ১৮ হাজার ৮০০ টাকা উত্তোলনের পর সুপারভাইজার আমাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেন।

অন্য এক শিক্ষক অভিযোগ করেন, ব্যাংক হিসাব লক করে টাকা দাবি করার বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত জটিলতার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করে কেউ অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার হয়ে থাকলে তার প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে।

ত্রিশালের আলেমরা বলেন, ইসলামী ফাউন্ডেশনের শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধ করে তাঁদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ফাউন্ডেশন ত্রিশাল উপজেলা শাখার সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি কোনো শিক্ষকের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করিনি এবং কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হয়রানিও করিনি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। আমি এ ধরনের কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত নই।

এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাসনাত জাহান খান বলেন, অভিযোগের পেয়েছি  তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

~ এম.এ.এইচ রাকিবুল ইসলাম
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি