বগুড়ায় মৃত মোটর শ্রমিকের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন
বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে সংগঠনের শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে ২১৬ জন মোটর শ্রমিকের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে নগদ আর্থিক সহায়তার চেক ও গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মৃত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান।
এসময় জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন পিন্টুর সঞ্চালনায়
কর্মসূচিতে প্রধান আলোচক হিসেবে অংশ নেন জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি আব্দুল হামিদ মিঠুল, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন শাজাহানপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আকরাম আলী এবং বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সামছুজ্জামান সামছুর, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ শাজাহানপুর উপজেলা মোটর শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুস সোবহান পুটুসহ স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও মৃত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের আওতায় জেলার মোট ২১৬ জন মৃত মোটর শ্রমিকের পরিবারকে এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শাজাহানপুর উপজেলার ৩২টি শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। মৃত্যু ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য ৩০০০১ টাকা এবং তাদের মেয়ের বিয়ের জন্য ৬০০১ টাকা করে চেকের মাধ্যমে এই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে এই কর্মসূচির আওতায় বগুড়া মহানগর, শিবগঞ্জ, গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলার মৃত মোটর শ্রমিকদের পরিবারকেও পর্যায়ক্রমে আর্থিক সহায়তা প্রদান ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি করছে সংগঠনটি।
সহায়তা পাওয়া পরিবারের সদস্যরা জানান, পরিবারের একমাত্র কিংবা প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারানোর পর তাঁদের অনেককেই দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন পর হলেও মৃত শ্রমিকদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করায় তাঁরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উপকারভোগীরা আরও বলেন, পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষটি আজ বেঁচে নেই। তাঁর অনুপস্থিতিতে সংসারের ব্যয়ভার বহন করা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন পর আবারো মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন আমাদের কথা মনে রেখেছে এবং আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই সহায়তা আমাদের পরিবারের আর্থিক সংকট কিছুটা হলেও লাঘবে ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকরা জানান, একজন মোটর শ্রমিক জীবদ্দশায় পরিবহন খাতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর অনেক সময় পরিবারের সদস্যরা অসহায় হয়ে পড়েন। বিশেষ করে সংসারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব পরিবারের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানো এবং আর্থিক দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
তাঁরা আরও জানান, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি মৃত্যুর পর তাঁদের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোও শ্রমিক সংগঠনের একটি অন্যতম দায়িত্ব। শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের মাধ্যমে এ ধরনের মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।
অপরদিকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মৃত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সহমর্মিতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে এ ধরনের কল্যাণমূলক কার্যক্রম শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে সংগঠনের প্রতি আস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।


























