1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জ মেডিকেলে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিককে বাধা

নাজমুল হাসান , মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১১

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ‘দৈনিক আমার বার্তা’র অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া বিভাগের মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি নাজমুল হাসানকে বাধা দেওয়া ও লাঞ্ছিত করার ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের দ্বারা এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক এই ঘটনার পর তার ফেইসবুক পোস্টে লিখেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা? আজ মানিকগঞ্জ মেডিকেলে একটি মারামারির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কতিপয় নৈতিকতাহীন নামধারী ডাক্তারের বাজে আচরণের সম্মুখীন হলাম। আমি মনে করি ডাক্তাররা হবে মানবিক। কিন্তু ইদানীং দেখছি এরা খুব অ্যাগ্রেসিভ হয়ে উঠছে। অথচ, আমার নিউজে ডাক্তারের কোনো টপিকই ছিলো না। গিয়েছিলাম বক্তব্য আনতে ভুক্তভোগীদের। ব্যাপারটা এমন হলো যে, ‘মানিকগঞ্জ মেডিকেলে যেন সাংবাদিক প্রবেশ নিষেধ!’ অবস্থা এমন যে, আউল ফাউল লোকদের এরা চাটাচাটি করে আর সমাজের জন্য যারা ভালো কিছু করতে চায় তাদের এরা প্রতিহত করে। কি এক অবস্থা!’

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হামলার শিকার এক মুমূর্ষু রোগীর স্বজন আমাকে ডেকেছিলেন। তিনি আমার আত্মীয়ও হন। আমি সংবাদ সংগ্রহ করতে হাসপাতালে যাই। এরপর হঠাৎ ঐ ইন্টার্ন ডাক্তার এসে আমাকে বাধা দেন। আমি তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার কোনো নাম পরিচয় নাই, আপনি যান। পরে হাসপাতালের অন্য রোগীদের পরিস্থিতি বুঝে আমি স্থান ত্যাগ করি। এসময় খোজ নিয়ে জানতে পারি ঐ ইন্টার্ন ডাক্তার সার্জারি বিভাগের ৪৬৭ নং কক্ষে ডিউটি করছেন। পরে আমি সহকর্মীদের বিষয়টি জানাই’।

এদিকে সাংবাদিকের সাথে এই ব্যবহার কেনো করছেন জানতে চাইলে ঐ অভিযুক্ত ইন্টার্ন ডাক্তার জানান, ‘তিনি কোনো ভুল কাজ করেন নি’। এসময়, তার নাম জানতে চাইলে তিনি নাম ও পরিচয় জানাতে ‘না, জানা লাগবে না’ বলে অস্বীকার করেন।

বেলা ৩টার দিকে ৪৬৭ নং রুমে অবস্থানকালীন সময়ে নিজের পরিচয় না দিতে চেয়ে তিনি বলেন, ঐ সাংবাদিক ভিডিও করছিলো আমার পছন্দ হয়নি। এজন্য আমি চিল্লিয়ে বলেছি আপনি বাইরে যান।

এসময়, কোনো গণমাধ্যমকর্মী তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো গণমাধ্যমকর্মী বাজে আচরণ করেন নি। ভিডিও করা পছন্দ হয়নি বলেই আমি বের হয়ে যেতে বলেছি’।

এ ব্যাপারে অনলাইন এন্ড মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রচার সম্পাদক (দপ্তরে সংযুক্ত) মোমিনুর রহমান নিন্দা জানিয়ে বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে নিরপেক্ষভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সংবাদসংগ্রহকালে দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

এদিকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের উপ-পরিচালক ডাক্তার মিনহাজ উদ্দীন বলেন, এ ব্যাপারে আমাকে এখনও কেউ জানায় নাই। যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে তবে আমি অবশ্যই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিবো, এটা তিনি ঠিক করে নাই।

হাসপাতালে সাংবাদিক প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাংবাদিক প্রবেশ নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু, যেকোনো কাজ করতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। তবে, কোনো সাংবাদিককে কাজে বাধা দেওয়া বা বের করে দেওয়া একদম সমর্থন করি না।

এদিকে, মানিকগঞ্জের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সাথে, দোষী ইন্টার্ন চিকিৎসককে চিহ্নিত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি জানানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০২:৫৪:১২ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জ মেডিকেলে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিককে বাধা

আপডেট সময় : ০২:৫৪:১২ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
১১

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ‘দৈনিক আমার বার্তা’র অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া বিভাগের মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি নাজমুল হাসানকে বাধা দেওয়া ও লাঞ্ছিত করার ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের দ্বারা এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক এই ঘটনার পর তার ফেইসবুক পোস্টে লিখেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা? আজ মানিকগঞ্জ মেডিকেলে একটি মারামারির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কতিপয় নৈতিকতাহীন নামধারী ডাক্তারের বাজে আচরণের সম্মুখীন হলাম। আমি মনে করি ডাক্তাররা হবে মানবিক। কিন্তু ইদানীং দেখছি এরা খুব অ্যাগ্রেসিভ হয়ে উঠছে। অথচ, আমার নিউজে ডাক্তারের কোনো টপিকই ছিলো না। গিয়েছিলাম বক্তব্য আনতে ভুক্তভোগীদের। ব্যাপারটা এমন হলো যে, ‘মানিকগঞ্জ মেডিকেলে যেন সাংবাদিক প্রবেশ নিষেধ!’ অবস্থা এমন যে, আউল ফাউল লোকদের এরা চাটাচাটি করে আর সমাজের জন্য যারা ভালো কিছু করতে চায় তাদের এরা প্রতিহত করে। কি এক অবস্থা!’

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হামলার শিকার এক মুমূর্ষু রোগীর স্বজন আমাকে ডেকেছিলেন। তিনি আমার আত্মীয়ও হন। আমি সংবাদ সংগ্রহ করতে হাসপাতালে যাই। এরপর হঠাৎ ঐ ইন্টার্ন ডাক্তার এসে আমাকে বাধা দেন। আমি তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার কোনো নাম পরিচয় নাই, আপনি যান। পরে হাসপাতালের অন্য রোগীদের পরিস্থিতি বুঝে আমি স্থান ত্যাগ করি। এসময় খোজ নিয়ে জানতে পারি ঐ ইন্টার্ন ডাক্তার সার্জারি বিভাগের ৪৬৭ নং কক্ষে ডিউটি করছেন। পরে আমি সহকর্মীদের বিষয়টি জানাই’।

এদিকে সাংবাদিকের সাথে এই ব্যবহার কেনো করছেন জানতে চাইলে ঐ অভিযুক্ত ইন্টার্ন ডাক্তার জানান, ‘তিনি কোনো ভুল কাজ করেন নি’। এসময়, তার নাম জানতে চাইলে তিনি নাম ও পরিচয় জানাতে ‘না, জানা লাগবে না’ বলে অস্বীকার করেন।

বেলা ৩টার দিকে ৪৬৭ নং রুমে অবস্থানকালীন সময়ে নিজের পরিচয় না দিতে চেয়ে তিনি বলেন, ঐ সাংবাদিক ভিডিও করছিলো আমার পছন্দ হয়নি। এজন্য আমি চিল্লিয়ে বলেছি আপনি বাইরে যান।

এসময়, কোনো গণমাধ্যমকর্মী তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো গণমাধ্যমকর্মী বাজে আচরণ করেন নি। ভিডিও করা পছন্দ হয়নি বলেই আমি বের হয়ে যেতে বলেছি’।

এ ব্যাপারে অনলাইন এন্ড মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রচার সম্পাদক (দপ্তরে সংযুক্ত) মোমিনুর রহমান নিন্দা জানিয়ে বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে নিরপেক্ষভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সংবাদসংগ্রহকালে দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

এদিকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের উপ-পরিচালক ডাক্তার মিনহাজ উদ্দীন বলেন, এ ব্যাপারে আমাকে এখনও কেউ জানায় নাই। যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে তবে আমি অবশ্যই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিবো, এটা তিনি ঠিক করে নাই।

হাসপাতালে সাংবাদিক প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাংবাদিক প্রবেশ নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু, যেকোনো কাজ করতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। তবে, কোনো সাংবাদিককে কাজে বাধা দেওয়া বা বের করে দেওয়া একদম সমর্থন করি না।

এদিকে, মানিকগঞ্জের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সাথে, দোষী ইন্টার্ন চিকিৎসককে চিহ্নিত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি জানানো হয়।