১৮ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেনেরবাচের জয়, দুইবার এগিয়েও হারল লিভারপুল
দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে জয়ের দেখা পেয়েছে তুরস্কের ক্লাব ফেনেরবাচে। নিজেদের মাঠে ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিয়েছে ইস্তাম্বুলের ক্লাবটি।
২০০৮ সালের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে আর কোনো জয় পায়নি ফেনেরবাচে। অবশেষে লিভারপুলকে হারিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল তারা। মজার বিষয়, ১৮ বছর আগে সর্বশেষ জয়ের ক্ষেত্রেও প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ডের ক্লাব। ২০০৭-০৮ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে চেলসিকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল তুর্কি ক্লাবটি।
লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। তবে প্রথম গোলের দেখা পায় সফরকারী দল। ম্যাচের ২৫ মিনিটে মিডফিল্ডার ট্রে নিয়োনির দুর্দান্ত ভলিতে এগিয়ে যায় লিভারপুল। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শট ফেনেরবাচের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে প্রবেশ করে। ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলারের জন্য এটি ছিল লিভারপুলের জার্সিতে প্রথম গোল।
তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি ফেনেরবাচে। দুইবার পিছিয়ে পড়ার পরও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৮ বছরের জয়খরাই কাটেনি, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচের জয়হীনতারও অবসান ঘটিয়েছে তুরস্কের ক্লাবটি। ফলে ম্যাচ শেষে সমর্থক ও খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখা যায় বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।
অন্যদিকে লিভারপুলের জন্য ম্যাচটি ছিল হতাশার। চলতি চ্যাম্পিয়নস লিগে চার ম্যাচে ১০ গোল হজম করেছে ইংলিশ ক্লাবটি। সর্বশেষ তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই অন্তত তিনটি করে গোল খেয়েছে তারা। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা তিন ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোল হজমের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো লিভারপুলের।
তুরস্কের ক্লাবগুলোর বিপক্ষে লিভারপুলের দুর্বলতাও আবার সামনে এসেছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে তুর্কি প্রতিপক্ষের মাঠে টানা পাঁচটি অ্যাওয়ে ম্যাচে হেরেছে ইংলিশ ক্লাবটি।
ম্যাচের পরিসংখ্যানও লিভারপুলের হতাশা বাড়িয়েছে। বড় ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় মাত্র তৃতীয়বার কোনো ম্যাচে দুবার এগিয়ে থেকেও পরাজয়ের মুখ দেখল দলটি। এর আগে ২০১৮ সালে রোমা এবং ২০২৫ সালে পিএসভির বিপক্ষেও একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল তারা।
সব মিলিয়ে ফেনেরবাচের জন্য জয়টি যেমন দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের স্মারক হয়ে থাকল, তেমনি লিভারপুলের জন্য এটি নতুন করে রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিল।

























