1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে চলছে নবান্ন উৎসব মেলা

মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১২

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ”—এই প্রবাদের সার্থক রূপ হলো নবান্ন উৎসব। ‘নবান্ন’ শব্দটির সাধারণ অর্থ হলো ‘নতুন অন্ন’ বা নতুন ধান। হেমন্তকালে নতুন আমন ধান কাটা ও ঘরে তোলার পর সেই নতুন চালের প্রথম রান্না ও আহারকে কেন্দ্র করে যে উৎসব পালিত হয়, তাই নবান্ন উত্সব। এটি নিছক কোনো খাদ্যোৎসব নয়, বরং এটি বাঙালির হাজার বছরের প্রাচীন কৃষিভিত্তিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। এক সময় শুধু গ্রামেই দেখা যেত এই নবান্ন উত্সব। এখন শহরে পালিত হচ্ছে নবান্ন উত্সব।
সাধারণত বাংলা অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম দিনে নবান্ন উৎসব উদযাপিত হয় ।

অগ্রহায়ণ মাস এলেই বাংলার দিগন্তজোড়া মাঠ সোনালি পাকা ধানে ভরে ওঠে। কৃষকের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও পরিশ্রামের ফসল ঘরে তোলার আনন্দে তাদের মন ভরে ওঠে।

ধান কাটা ও ঢেঁকির আওয়াজ: এ সময় গ্রামের মাঠে চলে ধান কাটার ধুম। ঢেঁকিতে নতুন ধান কোটার শব্দে মুখরিত , হয়ে ওঠে বাড়ির আঙিনা।

নতুন চালের গুঁড়া , দিয়ে তৈরি হয় নানা রকমের পিঠা, পুলি, পায়েস, ক্ষীর, মুড়ি, খই এবং নারিকেলের নাড়ু।
সকালে নতুন ধানের চালের পায়েস তৈরি করে গুরুজনদের পরিবেশন করা হয় এবং কলার পাতায় পায়েস, নাড়ু কাক বা পশুপাখিকে খেতে দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে।

একসময় নবান্ন উৎসব কেবল গ্রামীণ জনপদের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও, বর্তমানে এটি জাতীয় উৎসবে রূপ নিয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ‘জাতীয় নবান্ন উৎসব উদযাপন করা হয় এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি উদ্‌যাপন করে।

ঠিক তেমমি রাজশাহী টি, বাধ এলাকায় , পিপরা কনভেনশন সেন্টারে, চলছে এই, নবান্ন উত্সব মেলা । লালনগীতি, বাউল গান, লোকনৃত্য ও পিঠা উৎসব।

জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ব্যাপক জনপদের আগমন , এই উৎসবে একত্রিত হয়, যা সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করে।
ঘাম ঝরানো কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলকে উৎসবের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

বাঙালির চিরায়ত লোকজ গান, কবিতা, নাচ ও মেলা বাঁচিয়ে রাখতে এই উৎসবের জুড়ি নেই। জীবনানন্দ দাশসহ আমাদের বহু কবি-সাহিত্যিক তাঁদের লেখায় নবান্নের এই রূপকে অমর করে রেখেছেন।

আধুনিকতার ছোঁয়া ও যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় গ্রামীণ অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসলেও নবান্ন উৎসব এখনো বাঙালির হৃদয়ে গভীর ভালোবাসার জায়গা দখল করে আছে। নতুন ফসলের হাসি আর গ্রামীণ সংস্কৃতির মেলবন্ধনে নবান্ন উৎসব আগামী দিনেও বাঙালির প্রাণচাঞ্চল্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে বেঁচে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৯:২৫:২৫ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে চলছে নবান্ন উৎসব মেলা

আপডেট সময় : ০৯:২৫:২৫ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
১২

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ”—এই প্রবাদের সার্থক রূপ হলো নবান্ন উৎসব। ‘নবান্ন’ শব্দটির সাধারণ অর্থ হলো ‘নতুন অন্ন’ বা নতুন ধান। হেমন্তকালে নতুন আমন ধান কাটা ও ঘরে তোলার পর সেই নতুন চালের প্রথম রান্না ও আহারকে কেন্দ্র করে যে উৎসব পালিত হয়, তাই নবান্ন উত্সব। এটি নিছক কোনো খাদ্যোৎসব নয়, বরং এটি বাঙালির হাজার বছরের প্রাচীন কৃষিভিত্তিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। এক সময় শুধু গ্রামেই দেখা যেত এই নবান্ন উত্সব। এখন শহরে পালিত হচ্ছে নবান্ন উত্সব।
সাধারণত বাংলা অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম দিনে নবান্ন উৎসব উদযাপিত হয় ।

অগ্রহায়ণ মাস এলেই বাংলার দিগন্তজোড়া মাঠ সোনালি পাকা ধানে ভরে ওঠে। কৃষকের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও পরিশ্রামের ফসল ঘরে তোলার আনন্দে তাদের মন ভরে ওঠে।

ধান কাটা ও ঢেঁকির আওয়াজ: এ সময় গ্রামের মাঠে চলে ধান কাটার ধুম। ঢেঁকিতে নতুন ধান কোটার শব্দে মুখরিত , হয়ে ওঠে বাড়ির আঙিনা।

নতুন চালের গুঁড়া , দিয়ে তৈরি হয় নানা রকমের পিঠা, পুলি, পায়েস, ক্ষীর, মুড়ি, খই এবং নারিকেলের নাড়ু।
সকালে নতুন ধানের চালের পায়েস তৈরি করে গুরুজনদের পরিবেশন করা হয় এবং কলার পাতায় পায়েস, নাড়ু কাক বা পশুপাখিকে খেতে দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে।

একসময় নবান্ন উৎসব কেবল গ্রামীণ জনপদের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও, বর্তমানে এটি জাতীয় উৎসবে রূপ নিয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ‘জাতীয় নবান্ন উৎসব উদযাপন করা হয় এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি উদ্‌যাপন করে।

ঠিক তেমমি রাজশাহী টি, বাধ এলাকায় , পিপরা কনভেনশন সেন্টারে, চলছে এই, নবান্ন উত্সব মেলা । লালনগীতি, বাউল গান, লোকনৃত্য ও পিঠা উৎসব।

জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ব্যাপক জনপদের আগমন , এই উৎসবে একত্রিত হয়, যা সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করে।
ঘাম ঝরানো কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলকে উৎসবের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

বাঙালির চিরায়ত লোকজ গান, কবিতা, নাচ ও মেলা বাঁচিয়ে রাখতে এই উৎসবের জুড়ি নেই। জীবনানন্দ দাশসহ আমাদের বহু কবি-সাহিত্যিক তাঁদের লেখায় নবান্নের এই রূপকে অমর করে রেখেছেন।

আধুনিকতার ছোঁয়া ও যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় গ্রামীণ অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসলেও নবান্ন উৎসব এখনো বাঙালির হৃদয়ে গভীর ভালোবাসার জায়গা দখল করে আছে। নতুন ফসলের হাসি আর গ্রামীণ সংস্কৃতির মেলবন্ধনে নবান্ন উৎসব আগামী দিনেও বাঙালির প্রাণচাঞ্চল্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে বেঁচে থাকবে।