1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমদানি ঋণে সুদের ঝুঁকি কমাতে নতুন সুবিধা চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমদানি ঋণে আন্তর্জাতিক সুদের হার ওঠানামাজনিত ঝুঁকি কমাতে নতুন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বিদেশি মুদ্রায় আমদানি ঋণ গ্রহণকারীরা ব্যাংকের সঙ্গে ফরওয়ার্ড রেট চুক্তি (Forward Rate Agreement-FRA) করতে পারবেন। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য আগাম সুদের হার নির্ধারণ করে অর্থায়ন ব্যয়ের অনিশ্চয়তা কমানো সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, সরবরাহকারী ঋণ (Supplier’s Credit) ও ক্রেতা ঋণের (Buyer’s Credit) আওতায় ইউজেন্স (Usance) ভিত্তিক আমদানির ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে। অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো বিদেশি মুদ্রায় আমদানি ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক সুদের হার, বিশেষ করে এসওএফআর (SOFR)-এর ওঠানামার কারণে আমদানিকারকদের অর্থায়ন ব্যয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, নতুন এ ব্যবস্থা তা কমাতে সহায়ক হবে। এর ফলে আমদানিকারকেরা আগাম সুদের হার নির্ধারণ করে ভবিষ্যৎ ব্যয় সম্পর্কে নিশ্চিত থাকতে পারবেন।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ফরওয়ার্ড রেট চুক্তি কেবল ঝুঁকি প্রশমন বা হেজিং-এর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে। এটি অবশ্যই প্রকৃত আমদানি লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে। কোনো ধরনের ফটকাবাজি বা অরক্ষিত (Uncovered) অবস্থান গ্রহণের সুযোগ থাকবে না।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি সুদের হার নির্ধারণ করা যাবে। পরবর্তীতে চুক্তিকৃত হার এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের প্রচলিত মানদণ্ডভিত্তিক সুদের হারের পার্থক্যের ভিত্তিতে আর্থিক নিষ্পত্তি সম্পন্ন হবে।

ব্যাংকগুলোর জন্যও বেশ কয়েকটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এ ধরনের চুক্তি থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি একই দিনে সমান্তরাল লেনদেনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সমন্বয় করতে হবে, যাতে ব্যাংকগুলো নিজেদের হিসাবে কোনো বাজারঝুঁকি বহন না করে।

এছাড়া মূল্য নির্ধারণে ব্যাংকের মার্জিন সর্বোচ্চ ১০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ব্যাংকের মোট ফরওয়ার্ড রেট চুক্তির পরিমাণ গত ১২ মাসের গড় মাসিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

সার্কুলারে আন্তর্জাতিক মানসম্মত চুক্তি কাঠামো অনুসরণ, দৈনিক বাজারমূল্যায়ন এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তির আগাম সমাপ্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত বাজারদরে নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট সব দলিল সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:১০:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

আমদানি ঋণে সুদের ঝুঁকি কমাতে নতুন সুবিধা চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট সময় : ০৪:১০:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

আমদানি ঋণে আন্তর্জাতিক সুদের হার ওঠানামাজনিত ঝুঁকি কমাতে নতুন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বিদেশি মুদ্রায় আমদানি ঋণ গ্রহণকারীরা ব্যাংকের সঙ্গে ফরওয়ার্ড রেট চুক্তি (Forward Rate Agreement-FRA) করতে পারবেন। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য আগাম সুদের হার নির্ধারণ করে অর্থায়ন ব্যয়ের অনিশ্চয়তা কমানো সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, সরবরাহকারী ঋণ (Supplier’s Credit) ও ক্রেতা ঋণের (Buyer’s Credit) আওতায় ইউজেন্স (Usance) ভিত্তিক আমদানির ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে। অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো বিদেশি মুদ্রায় আমদানি ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক সুদের হার, বিশেষ করে এসওএফআর (SOFR)-এর ওঠানামার কারণে আমদানিকারকদের অর্থায়ন ব্যয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, নতুন এ ব্যবস্থা তা কমাতে সহায়ক হবে। এর ফলে আমদানিকারকেরা আগাম সুদের হার নির্ধারণ করে ভবিষ্যৎ ব্যয় সম্পর্কে নিশ্চিত থাকতে পারবেন।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ফরওয়ার্ড রেট চুক্তি কেবল ঝুঁকি প্রশমন বা হেজিং-এর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে। এটি অবশ্যই প্রকৃত আমদানি লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে। কোনো ধরনের ফটকাবাজি বা অরক্ষিত (Uncovered) অবস্থান গ্রহণের সুযোগ থাকবে না।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি সুদের হার নির্ধারণ করা যাবে। পরবর্তীতে চুক্তিকৃত হার এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের প্রচলিত মানদণ্ডভিত্তিক সুদের হারের পার্থক্যের ভিত্তিতে আর্থিক নিষ্পত্তি সম্পন্ন হবে।

ব্যাংকগুলোর জন্যও বেশ কয়েকটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এ ধরনের চুক্তি থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি একই দিনে সমান্তরাল লেনদেনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সমন্বয় করতে হবে, যাতে ব্যাংকগুলো নিজেদের হিসাবে কোনো বাজারঝুঁকি বহন না করে।

এছাড়া মূল্য নির্ধারণে ব্যাংকের মার্জিন সর্বোচ্চ ১০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ব্যাংকের মোট ফরওয়ার্ড রেট চুক্তির পরিমাণ গত ১২ মাসের গড় মাসিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

সার্কুলারে আন্তর্জাতিক মানসম্মত চুক্তি কাঠামো অনুসরণ, দৈনিক বাজারমূল্যায়ন এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তির আগাম সমাপ্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত বাজারদরে নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট সব দলিল সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।