বাবার শেষ বিদায়ে নেই মোজতবা খামেনি
রানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ে রাজধানী তেহরানে সমবেত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। তবে এতে উপস্থিত হননি তার ছেলে ও বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি। শনিবার (৪ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি অব কাতারের সহযোগী অধ্যাপক পল মুসগ্রাভ জানিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিরাপত্তা শঙ্কার কারণেই মূলত বর্তমান সুপ্রিম লিডার জনসমক্ষে আসা থেকে বিরত রয়েছেন।
গত শুক্রবার (৩ জুলাই) বিদেশি অতিথিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে শেষ বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। শনিবার তার মরদেহবাহী কফিন সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে ঢল নেমেছে লাখো মানুষের।
তবে এই বিশাল আয়োজনে বর্তমান শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা কৌতুহল তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি অব কাতারের সহযোগী প্রফেসর পল মুসগ্রাভ সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেন,’কেন মোজতবা শেষ বিদায়ে নেই তা খুবই সহজবোধ্য। ইরান হয়তো ধরে নিয়েছে যে এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দেশটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইসরায়েল দ্বিতীয়বারের মতো বড় কোনো হামলা চালাতে পারে। কারণ অতীতেও এমন জানাজাকে রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করার নজির রয়েছে।’
নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টি যৌক্তিক হলেও দেশের এই ক্রান্তিকালে শীর্ষ নেতার প্রকাশ্যে আসা উচিত বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক। কারণ মোজতবা খামেনিকে সর্বশেষ গত কয়েক মাস আগে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল।
পল মুসগ্রাভ আরও যোগ করেন,’আমি মনে করি ইরানকে এখন এমন একটি উপায় বের করতে হবে, যা প্রমাণ করবে যে তাদের সুপ্রিম লিডার আড়ালে থাকা কোনো ব্যক্তি নন। তিনি আসলে সেই ব্যক্তি, যিনি দেশের সত্যিকার দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও এ মুহূর্তে ইরানের নিরাপত্তা শঙ্কা থাকার বিষয়টি হয়তো সঠিক, কিন্তু শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতার স্বার্থেই তাদের আসলে সুপ্রিম লিডারকে দ্রুত প্রকাশ্যে আনতে হবে।’


























