1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চার গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম

অনলাইন ডেস্ক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বকাপের শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তভাবে জানিয়ে দিল বেলজিয়াম। শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপুটে ফুটবল খেলে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪–১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইউরোপের দলটি। চার্লস দে কেতেলারের জোড়া গোলের সঙ্গে একটি করে গোল করেন হান্স ফানাকেন ও রোমেলু লুকাকু। যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র গোলটি করেন মালিক টিলম্যান।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বেলজিয়াম। প্রথম মিনিটেই টিমোতি কাস্তানের শটে গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়। তবে বেশিক্ষণ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।

নবম মিনিটে বাম দিকের আক্রমণ থেকে সৃষ্ট সুযোগে আলগা বল পেয়ে কাছ থেকে জালে পাঠান চার্লস দে কেতেলারে। শুরুতেই ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।

গোল হজমের পর বলের দখল বাড়ানোর চেষ্টা করলেও মাঝমাঠে বেলজিয়ামের চাপে কার্যকর আক্রমণ গড়তে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। অবশেষে ৩১তম মিনিটে ফোলারিন বালোগুনকে বক্সের সামনে ফাউল করলে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ফ্রি-কিক পায় স্বাগতিকরা। মালিক টিলম্যানের নেওয়া শট প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে ১–১ সমতায় ফেরে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে সেই সমতা স্থায়ী হয় মাত্র দুই মিনিট। ৩৩তম মিনিটে লিয়ান্দ্রো ত্রোসারের নিচু ক্রসে দারুণ হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন দে কেতেলারে। প্রথমার্ধ শেষ হয় বেলজিয়ামের ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে।

বিরতির পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ৫৭তম মিনিটে গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজের বড় ভুলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বক্সের বাইরে এসে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে দ্বিধায় পড়লে হান্স ফানাকেন বল কেড়ে নিয়ে ফাঁকা জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩–১ করেন।

এর কিছুক্ষণ পর চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ। এরপর আক্রমণে ধার অনেকটাই হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা।

৭৯তম মিনিটে সেবাস্টিয়ান বারহাল্টারের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। ৮২তম মিনিটে ফোলারিন বালোগুন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার মুখোমুখি হলেও অসাধারণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

শেষদিকে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই নিজের নাম স্কোরশিটে তোলেন রোমেলু লুকাকু। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে সহজেই বল জালে পাঠিয়ে দলের চতুর্থ গোল করেন তিনি। এরপর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়নি যুক্তরাষ্ট্র।

পরিসংখ্যানেও আধিপত্য ছিল বেলজিয়ামের। দ্রুতগতির আক্রমণ, নিখুঁত পাসিং এবং সংগঠিত রক্ষণে পুরো ম্যাচে তারা ছিল অনেক বেশি কার্যকর। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র মাঝেমধ্যে আক্রমণের ঝলক দেখালেও রক্ষণভাগের ভুল, গোলরক্ষকের সিদ্ধান্তহীনতা এবং সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।

দাপুটে এই জয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল বেলজিয়াম। আর অনেক প্রত্যাশা জাগিয়েও শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোতে পারল না যুক্তরাষ্ট্র।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

চার গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম

আপডেট সময় : ০৫:০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তভাবে জানিয়ে দিল বেলজিয়াম। শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপুটে ফুটবল খেলে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪–১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইউরোপের দলটি। চার্লস দে কেতেলারের জোড়া গোলের সঙ্গে একটি করে গোল করেন হান্স ফানাকেন ও রোমেলু লুকাকু। যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র গোলটি করেন মালিক টিলম্যান।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বেলজিয়াম। প্রথম মিনিটেই টিমোতি কাস্তানের শটে গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়। তবে বেশিক্ষণ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।

নবম মিনিটে বাম দিকের আক্রমণ থেকে সৃষ্ট সুযোগে আলগা বল পেয়ে কাছ থেকে জালে পাঠান চার্লস দে কেতেলারে। শুরুতেই ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।

গোল হজমের পর বলের দখল বাড়ানোর চেষ্টা করলেও মাঝমাঠে বেলজিয়ামের চাপে কার্যকর আক্রমণ গড়তে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। অবশেষে ৩১তম মিনিটে ফোলারিন বালোগুনকে বক্সের সামনে ফাউল করলে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ফ্রি-কিক পায় স্বাগতিকরা। মালিক টিলম্যানের নেওয়া শট প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে ১–১ সমতায় ফেরে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে সেই সমতা স্থায়ী হয় মাত্র দুই মিনিট। ৩৩তম মিনিটে লিয়ান্দ্রো ত্রোসারের নিচু ক্রসে দারুণ হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন দে কেতেলারে। প্রথমার্ধ শেষ হয় বেলজিয়ামের ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে।

বিরতির পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ৫৭তম মিনিটে গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজের বড় ভুলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বক্সের বাইরে এসে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে দ্বিধায় পড়লে হান্স ফানাকেন বল কেড়ে নিয়ে ফাঁকা জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩–১ করেন।

এর কিছুক্ষণ পর চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ। এরপর আক্রমণে ধার অনেকটাই হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা।

৭৯তম মিনিটে সেবাস্টিয়ান বারহাল্টারের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। ৮২তম মিনিটে ফোলারিন বালোগুন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার মুখোমুখি হলেও অসাধারণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

শেষদিকে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই নিজের নাম স্কোরশিটে তোলেন রোমেলু লুকাকু। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে সহজেই বল জালে পাঠিয়ে দলের চতুর্থ গোল করেন তিনি। এরপর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়নি যুক্তরাষ্ট্র।

পরিসংখ্যানেও আধিপত্য ছিল বেলজিয়ামের। দ্রুতগতির আক্রমণ, নিখুঁত পাসিং এবং সংগঠিত রক্ষণে পুরো ম্যাচে তারা ছিল অনেক বেশি কার্যকর। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র মাঝেমধ্যে আক্রমণের ঝলক দেখালেও রক্ষণভাগের ভুল, গোলরক্ষকের সিদ্ধান্তহীনতা এবং সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।

দাপুটে এই জয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল বেলজিয়াম। আর অনেক প্রত্যাশা জাগিয়েও শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোতে পারল না যুক্তরাষ্ট্র।