ছাদখোলা বাসে বীরের মর্যাদা পেলো মিশরীয় ফুটবলাররা
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইতিহাসের সেরা পারফরম্যান্স করার পর দেশে ফিরেছে মিশর জাতীয় ফুটবল দল। শুক্রবার (১০ জুলাই) আল আলামেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে বীরের সংবর্ধনা জানাতে হাজারো সমর্থকের ঢল নামে।
জাতীয় পতাকা, দেশাত্মবোধক গান এবং অভিনন্দন বার্তাসংবলিত ব্যানারে মুখর হয়ে ওঠে বিমানবন্দর এলাকা। এক ব্যানারে লেখা ছিল, “মিশরের বীরেরা আমাদের গর্বে ভরিয়ে দিয়েছে।” বিশেষ উচ্ছ্বাস দেখা যায় অধিনায়ক মোহামেদ সালাহকে ঘিরেও।
৩৪ বছর বয়সী সালাহ, যার জন্য এটি সম্ভবত ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ও শেষ বিশ্বকাপ, টুর্নামেন্ট শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে মিশরের এই সাফল্য দেশটির ফুটবলের জন্য নতুন যুগের সূচনা করবে।
দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসানও সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা পান। ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়া এই কোচের নেতৃত্বে মিশর এখন পর্যন্ত ২০টি ম্যাচে জয়, ৯টি ড্র এবং ৬টি পরাজয় দেখেছে। বিশ্বকাপ চলাকালে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন সময় ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করায় সমর্থকদের অনেককেই তার পোস্টারের সঙ্গে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা যায়। সম্প্রতি তার চুক্তিও নবায়ন করা হয়েছে।
বিমানবন্দর থেকে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ খোলা ছাদের একটি বাসে নোভা আলামেইন শহর প্রদক্ষিণ করেন। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো সমর্থক করতালি ও স্লোগানে তাদের অভিনন্দন জানান।
শনিবার (১১ জুলাই) মিশরের প্রেসিডেন্ট দলের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এবারের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিয়েছিল মিশর। দ্বিতীয়ার্ধের ৩৪ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থাকলেও শেষ দিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা টানা তিন গোল করে ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে।
উল্লেখ্য, দুই আসর পর বিশ্বকাপে ফিরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ আসরে ইতিহাসের সেরা সাফল্য অর্জন করেছে মিশর। এর আগে ১৯৩৪, ১৯৯০ ও ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কখনোই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি আফ্রিকার দেশটি।




















