1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমতলী পৌরসভা লেকের সৌন্দর্য় বর্ধণ কাজে অনিয়ম। সাড়ে ১২ কোটি টাকার ওয়াকওয়ের ড্রোপ ওয়ালে ধস

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৫৯

বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ণে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকার কাজের আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রীয় লেক সৌন্দর্য বর্ধণের প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। রবিবার শ্রমিকরা লেকের ওযাকওয়ে কাজ করতে গেলে ড্রোপওয়াল ধসে পরেছে। ঠিকাদার সাবেক মেয়র ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মোঃ মতিয়ার রহমান নিম্নমানের কাজ করায় এমন অবস্থা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। দ্রুত তদন্ত করে ঠিকাদার মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তাদের। জানাগেছে, আমতলী পৌরসভা কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্য বর্ধণে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকা ব্যয়ে এলজিসিআরআরপি প্রকল্প হাতে নেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে আমতলী পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান গোপনে এ কাজের দরপত্র আহবান করে। অভিযোগ রয়েছে মেয়র মতিয়ার রহমান অতি গোপনে ঝালকাঠির ইসলাম ব্রাদার্স নামের এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে এ কাজ দেয়। কিন্তু নামে মাত্র ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হলেও সমুদয় কাজ করেন ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগ দোসর মেয়র মতিয়ার রহমান। ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই এ কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। শেখ হাসিনার পতনের পর মেয়র মতিয়ার রহমান স্ব-পরিবারে পালিয়ে যায়। গত দুই বছরেও তিনি এলাকায় আসেনি। কিন্তু ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর এ কাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম। কাজের শুরুতেই তিনি (ইউএনও) দেখেন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে দ্বিগুন। পরে তিনি এ ব্যয় কমিয়ে অর্ধেকে আনেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঠিকাদার মতিয়ার রহমান কাজ বন্ধ করে দেন। অভিযোগ রয়েছে কাজের শুরুতেই ঠিকাদার অনিয়মের আশ্রয় নেন। তিনি নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ শুরু করেন। এতে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্দ হন। আরো অভিযোগ রয়েছে সাবেক আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রোকনুজ্জামান খাঁন ও সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরীর সঙ্গে ঠিকাদার মতিয়ার রহমান আতাত করে কাজ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, যারা এ কাজ তদারকি করবেন তারাই মতিয়ার রহমানের একান্ত ঘনিষ্টজন। তাই তিনি (মতিয়ার রহমান) ইচ্ছে মাফিক কাজ করেছেন। নিম্নমানের কাজের বিষয়ে ইউএনও মোঃ রোকনুজ্জামান ও জাফর আরিফ চৌধুরীর কাছে জানানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় রবিবার সকালে নির্মাণকালীন সময়ে লেকের ওয়াকওয়ে ড্রোপওয়াল ধসে পরেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে ঠিকাদারের লোকজন ধসে যাওয়া স্থান পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেন। সাংবাদিকরা ওয়াকওয়ে ড্রোপওয়াল ধসে যাওয়ার তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গেলে ঠিকাদার মতিয়ার রহমানের ম্যানেজার শ্যামল চন্দ্র, ব্যক্তিগত সহকারী পান্নু মোল্লা ও তাদের সহযোগীরা ছবি তুলতে বাঁধা দেন এবং অসৌজন্যমুলক আচরণ করেন এমন অভিযোগ সাংবাদিক নাসরিন শিপু, রিমন,মিথুন ও রাসেলের। স্থানীয় শাহীন, নুরুল ইসলাম ও সাইদুজ্জামান বলেন, শুরুতেই ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করে আসছেন। এ নিয়ে স্থানীয়রা বেশ কয়েকবার ইউএনওর কাছে জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এখনতো অনিয়মের সত্যতা মিলে গেছে। দ্রুত তদন্ত করে কাজে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তাদের। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্সের মালিক মোঃ খাইরুল আজাদ বলেন- লাইসেন্স দিয়েছি তা সত্য কিন্তু কাজ করেন সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান। ওইখানে আমার কিছুই নেই। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগ সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের মুঠোফোনে (০১৭১৩৩৮৯৬৬) যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। আমতলী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মশিউর রহমান ওয়াকওয়ের ড্রোপওয়াল ধসে পরার কথা স্বীকার করে বলেন, মূল পিলারে বা পাইলিংয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। সেন্টারিংয়ের কাঠ বা ঠেলা (সাপোর্ট) খুলে যাওয়ার কারণে ঢালাইয়ের অংশটি কিছুটা ধসে পরেছে। তিনি আরো বলেন, যে অংশটিতে সমস্যা হয়েছে, সেটির কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে খোজ খবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০১:০৫:২০ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে

আমতলী পৌরসভা লেকের সৌন্দর্য় বর্ধণ কাজে অনিয়ম। সাড়ে ১২ কোটি টাকার ওয়াকওয়ের ড্রোপ ওয়ালে ধস

আপডেট সময় : ০১:০৫:২০ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
৫৯

বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ণে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকার কাজের আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রীয় লেক সৌন্দর্য বর্ধণের প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। রবিবার শ্রমিকরা লেকের ওযাকওয়ে কাজ করতে গেলে ড্রোপওয়াল ধসে পরেছে। ঠিকাদার সাবেক মেয়র ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মোঃ মতিয়ার রহমান নিম্নমানের কাজ করায় এমন অবস্থা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। দ্রুত তদন্ত করে ঠিকাদার মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তাদের। জানাগেছে, আমতলী পৌরসভা কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্য বর্ধণে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকা ব্যয়ে এলজিসিআরআরপি প্রকল্প হাতে নেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে আমতলী পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান গোপনে এ কাজের দরপত্র আহবান করে। অভিযোগ রয়েছে মেয়র মতিয়ার রহমান অতি গোপনে ঝালকাঠির ইসলাম ব্রাদার্স নামের এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে এ কাজ দেয়। কিন্তু নামে মাত্র ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হলেও সমুদয় কাজ করেন ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগ দোসর মেয়র মতিয়ার রহমান। ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই এ কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। শেখ হাসিনার পতনের পর মেয়র মতিয়ার রহমান স্ব-পরিবারে পালিয়ে যায়। গত দুই বছরেও তিনি এলাকায় আসেনি। কিন্তু ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর এ কাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম। কাজের শুরুতেই তিনি (ইউএনও) দেখেন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে দ্বিগুন। পরে তিনি এ ব্যয় কমিয়ে অর্ধেকে আনেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঠিকাদার মতিয়ার রহমান কাজ বন্ধ করে দেন। অভিযোগ রয়েছে কাজের শুরুতেই ঠিকাদার অনিয়মের আশ্রয় নেন। তিনি নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ শুরু করেন। এতে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্দ হন। আরো অভিযোগ রয়েছে সাবেক আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রোকনুজ্জামান খাঁন ও সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরীর সঙ্গে ঠিকাদার মতিয়ার রহমান আতাত করে কাজ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, যারা এ কাজ তদারকি করবেন তারাই মতিয়ার রহমানের একান্ত ঘনিষ্টজন। তাই তিনি (মতিয়ার রহমান) ইচ্ছে মাফিক কাজ করেছেন। নিম্নমানের কাজের বিষয়ে ইউএনও মোঃ রোকনুজ্জামান ও জাফর আরিফ চৌধুরীর কাছে জানানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় রবিবার সকালে নির্মাণকালীন সময়ে লেকের ওয়াকওয়ে ড্রোপওয়াল ধসে পরেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে ঠিকাদারের লোকজন ধসে যাওয়া স্থান পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেন। সাংবাদিকরা ওয়াকওয়ে ড্রোপওয়াল ধসে যাওয়ার তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গেলে ঠিকাদার মতিয়ার রহমানের ম্যানেজার শ্যামল চন্দ্র, ব্যক্তিগত সহকারী পান্নু মোল্লা ও তাদের সহযোগীরা ছবি তুলতে বাঁধা দেন এবং অসৌজন্যমুলক আচরণ করেন এমন অভিযোগ সাংবাদিক নাসরিন শিপু, রিমন,মিথুন ও রাসেলের। স্থানীয় শাহীন, নুরুল ইসলাম ও সাইদুজ্জামান বলেন, শুরুতেই ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করে আসছেন। এ নিয়ে স্থানীয়রা বেশ কয়েকবার ইউএনওর কাছে জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এখনতো অনিয়মের সত্যতা মিলে গেছে। দ্রুত তদন্ত করে কাজে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তাদের। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্সের মালিক মোঃ খাইরুল আজাদ বলেন- লাইসেন্স দিয়েছি তা সত্য কিন্তু কাজ করেন সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান। ওইখানে আমার কিছুই নেই। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগ সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের মুঠোফোনে (০১৭১৩৩৮৯৬৬) যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। আমতলী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মশিউর রহমান ওয়াকওয়ের ড্রোপওয়াল ধসে পরার কথা স্বীকার করে বলেন, মূল পিলারে বা পাইলিংয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। সেন্টারিংয়ের কাঠ বা ঠেলা (সাপোর্ট) খুলে যাওয়ার কারণে ঢালাইয়ের অংশটি কিছুটা ধসে পরেছে। তিনি আরো বলেন, যে অংশটিতে সমস্যা হয়েছে, সেটির কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে খোজ খবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।