1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. motalebsenbag1@gmail.com : Md.Abdul Motaleb :
  3. vision3zero@gmail.com : Shahidul islam sharif :
  4. zonebd62@gmail.com : staffreporter202527 :
ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলের বেঞ্চ ছেড়ে কর্মস্থলে শিশু, চট্টগ্রামে বাড়ছে শিশুশ্রম

প্রতিনিধির নাম
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সকাল সাড়ে ৯টা। চট্টগ্রাম নগরের নতুন ব্রিজ এলাকায় ‘কোতোয়ালি মার্কেট, কোতোয়ালি মার্কেট’ বলে যাত্রী ডাকছে এক শিশু। তার নাম সাকিব। নগরের নিউ মার্কেট-নতুন ব্রিজ সড়কে পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সে। সাকিবের বয়স এখন ৯। ৯ বছর বয়সী শিশু শ্রমিক সাকিব জানায়, তার বাবা কোথায় আছেন কিংবা কী করেন, সে কিছুই জানে না। ছোটোবেলা থেকে বাবাকে কখনও দেখেনি। মা আগে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। মায়ের আয়েই সংসার চলতো। কিন্তু বর্তমানে মা কর্মহীন হয়ে পড়ায় সংসারে অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।

সাকিব বলে, পরিবারের খরচ চালাতে ছোটোবেলা থেকেই কাজ করছি। আগে টেম্পো ও মাহিন্দ্রা গাড়িতে হেলপার হিসেবে কাজ করেছি। পরে নিউ মার্কেট থেকে নতুন ব্রিজ রুটে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভাড়া তোলার কাজ শুরু করি। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে প্রায় ১০০ টাকা পাই। সেই টাকা দিয়ে নিজের খরচের পাশাপাশি মাকেও সাহায্য করি। অনেক সময় ঠিকমতো খেতে পারি না। কিন্তু কাজ না করলে ঘরে খাবার জুটবে না।

নগরের আগ্রাবাদ কদমতলী এলাকার একটি ওয়ার্কশপে কাজ করে ১৩ বছর বয়সী রবিউল নামের আরেক শিশু শ্রমিক। সে জানায়, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। এক সময় সে স্কুলে পড়ত। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে দুই বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

রবিউল বলে, ‘তখন (দুই বছর আগে) থেকেই এই ওয়ার্কশপে কাজ করছি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। মাস শেষে যে টাকা পাই, তা মায়ের হাতে তুলে দিই। ওই টাকা দিয়ে সংসার চলে, বাবার ওষুধও কিনতে হয়। আমার ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা করে বড় কিছু হওয়ার। এখনও বন্ধুদের স্কুলে যেতে দেখলে খারাপ লাগে। কিন্তু পরিবারের কথা চিন্তা করে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক সময় কাজ করতে গিয়ে ক্লান্ত লাগে, হাত-পায়ে ব্যথা হয়। তারপরও পরিবারের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’
বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস (১২ জুন) উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের সাকিব ও রবিউলের মতো কয়েকজন শিশু শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশুশ্রম এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে পরিবহন খাত, অটোগ্যারেজ, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে বিপুল সংখ্যক শিশু কাজ করছে।

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, সকালে যখন স্কুলের ঘণ্টা বাজে, তখন বিভিন্ন গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ, পরিবহন খাত ও ইটভাটায় কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে শত শত শিশু। তাদের কারও হাতে বই-খাতা নেই; আছে রেঞ্চ, হাতুড়ি কিংবা অন্যান্য শ্রমের সরঞ্জাম। দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার কারণে দিন দিন শিশুশ্রমের ঝুঁকিতে পড়ছে তারা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপ অনুযায়ী, দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে শিশুশ্রমে যুক্ত থাকার হার ৯ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালে ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ফলে প্রায় ১২ লাখ অতিরিক্ত শিশু শ্রমে জড়িয়ে পড়েছে।
শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। ইপসার হেড অব অ্যাডভোকেসি মোহাম্মদ আলী শাহীন বলেন, ‘শিশুশ্রম শুধু শিশুদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করছে না, বরং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুরা দুর্ঘটনা, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় থাকে। সরকার শিশুশ্রম শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার একটি পরিকল্পনা নিয়েছিল। কিন্তু সেটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আমরাও শিশুশ্রম বন্ধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমি মনে করি, সরকার ও এ খাতে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের হার কিছুটা কমলেও কর্মরত শিশুর সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে ১০ লাখের বেশি শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে এবং তাদের অধিকাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছে। জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার শিশু শ্রমে নিয়োজিত, যা দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। জাতীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি।

শিশু শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘শিশুদের ভারী কাজ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে হলে সর্বপ্রথম শিশুশ্রম বিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত সরকারি তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা জরুরি, যাতে তারা কাজের পরিবর্তে স্কুলে যেতে পারে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রচার বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে চাইল্ড হেল্পলাইনের (১০৯৮) ব্যবহার সহজলভ্য করতে হবে।’

শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, পরিবারের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, শিক্ষার ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তার সীমাবদ্ধতা এবং সচেতনতার অভাব শিশুশ্রম বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তারা মনে করেন, দরিদ্র পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং শিশুশ্রম নিরসনে আইন প্রয়োগ জোরদার না করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

এ বিষয়ে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী হারুনুর রশীদ রুবেল বলেন, ‘চট্টগ্রামে বিশেষ করে পরিবহন খাত, ওয়ার্কশপ, গ্যারেজ, শুঁটকিপল্লি ও ইটভাটায় শিশুদের শ্রমিক হিসেবে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। শিশুরা তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় অনেকেই শোষণের শিকার হচ্ছে। আবার অনেক পরিবার অভাব-অনটনের কারণে শিশুদের কাজে পাঠিয়ে দেয়। ফলে তারা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুশ্রম প্রতিরোধে কঠোর আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ দেখা যায় না। এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশু সুরক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:২১:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

স্কুলের বেঞ্চ ছেড়ে কর্মস্থলে শিশু, চট্টগ্রামে বাড়ছে শিশুশ্রম

আপডেট সময় : ০৫:২১:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সকাল সাড়ে ৯টা। চট্টগ্রাম নগরের নতুন ব্রিজ এলাকায় ‘কোতোয়ালি মার্কেট, কোতোয়ালি মার্কেট’ বলে যাত্রী ডাকছে এক শিশু। তার নাম সাকিব। নগরের নিউ মার্কেট-নতুন ব্রিজ সড়কে পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সে। সাকিবের বয়স এখন ৯। ৯ বছর বয়সী শিশু শ্রমিক সাকিব জানায়, তার বাবা কোথায় আছেন কিংবা কী করেন, সে কিছুই জানে না। ছোটোবেলা থেকে বাবাকে কখনও দেখেনি। মা আগে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। মায়ের আয়েই সংসার চলতো। কিন্তু বর্তমানে মা কর্মহীন হয়ে পড়ায় সংসারে অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।

সাকিব বলে, পরিবারের খরচ চালাতে ছোটোবেলা থেকেই কাজ করছি। আগে টেম্পো ও মাহিন্দ্রা গাড়িতে হেলপার হিসেবে কাজ করেছি। পরে নিউ মার্কেট থেকে নতুন ব্রিজ রুটে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভাড়া তোলার কাজ শুরু করি। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে প্রায় ১০০ টাকা পাই। সেই টাকা দিয়ে নিজের খরচের পাশাপাশি মাকেও সাহায্য করি। অনেক সময় ঠিকমতো খেতে পারি না। কিন্তু কাজ না করলে ঘরে খাবার জুটবে না।

নগরের আগ্রাবাদ কদমতলী এলাকার একটি ওয়ার্কশপে কাজ করে ১৩ বছর বয়সী রবিউল নামের আরেক শিশু শ্রমিক। সে জানায়, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। এক সময় সে স্কুলে পড়ত। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে দুই বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

রবিউল বলে, ‘তখন (দুই বছর আগে) থেকেই এই ওয়ার্কশপে কাজ করছি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। মাস শেষে যে টাকা পাই, তা মায়ের হাতে তুলে দিই। ওই টাকা দিয়ে সংসার চলে, বাবার ওষুধও কিনতে হয়। আমার ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা করে বড় কিছু হওয়ার। এখনও বন্ধুদের স্কুলে যেতে দেখলে খারাপ লাগে। কিন্তু পরিবারের কথা চিন্তা করে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক সময় কাজ করতে গিয়ে ক্লান্ত লাগে, হাত-পায়ে ব্যথা হয়। তারপরও পরিবারের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’
বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস (১২ জুন) উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের সাকিব ও রবিউলের মতো কয়েকজন শিশু শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশুশ্রম এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে পরিবহন খাত, অটোগ্যারেজ, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে বিপুল সংখ্যক শিশু কাজ করছে।

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, সকালে যখন স্কুলের ঘণ্টা বাজে, তখন বিভিন্ন গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ, পরিবহন খাত ও ইটভাটায় কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে শত শত শিশু। তাদের কারও হাতে বই-খাতা নেই; আছে রেঞ্চ, হাতুড়ি কিংবা অন্যান্য শ্রমের সরঞ্জাম। দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার কারণে দিন দিন শিশুশ্রমের ঝুঁকিতে পড়ছে তারা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপ অনুযায়ী, দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে শিশুশ্রমে যুক্ত থাকার হার ৯ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালে ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ফলে প্রায় ১২ লাখ অতিরিক্ত শিশু শ্রমে জড়িয়ে পড়েছে।
শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। ইপসার হেড অব অ্যাডভোকেসি মোহাম্মদ আলী শাহীন বলেন, ‘শিশুশ্রম শুধু শিশুদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করছে না, বরং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুরা দুর্ঘটনা, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় থাকে। সরকার শিশুশ্রম শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার একটি পরিকল্পনা নিয়েছিল। কিন্তু সেটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আমরাও শিশুশ্রম বন্ধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমি মনে করি, সরকার ও এ খাতে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের হার কিছুটা কমলেও কর্মরত শিশুর সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে ১০ লাখের বেশি শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে এবং তাদের অধিকাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছে। জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার শিশু শ্রমে নিয়োজিত, যা দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। জাতীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি।

শিশু শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘শিশুদের ভারী কাজ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে হলে সর্বপ্রথম শিশুশ্রম বিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত সরকারি তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা জরুরি, যাতে তারা কাজের পরিবর্তে স্কুলে যেতে পারে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রচার বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে চাইল্ড হেল্পলাইনের (১০৯৮) ব্যবহার সহজলভ্য করতে হবে।’

শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, পরিবারের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, শিক্ষার ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তার সীমাবদ্ধতা এবং সচেতনতার অভাব শিশুশ্রম বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তারা মনে করেন, দরিদ্র পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং শিশুশ্রম নিরসনে আইন প্রয়োগ জোরদার না করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

এ বিষয়ে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী হারুনুর রশীদ রুবেল বলেন, ‘চট্টগ্রামে বিশেষ করে পরিবহন খাত, ওয়ার্কশপ, গ্যারেজ, শুঁটকিপল্লি ও ইটভাটায় শিশুদের শ্রমিক হিসেবে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। শিশুরা তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় অনেকেই শোষণের শিকার হচ্ছে। আবার অনেক পরিবার অভাব-অনটনের কারণে শিশুদের কাজে পাঠিয়ে দেয়। ফলে তারা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুশ্রম প্রতিরোধে কঠোর আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ দেখা যায় না। এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশু সুরক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।’