1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. motalebsenbag1@gmail.com : Md.Abdul Motaleb :
  3. vision3zero@gmail.com : Shahidul islam sharif :
  4. zonebd62@gmail.com : staffreporter202527 :
ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাশ্রয়ী দামে তেল কিনতে সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী

সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাশ্রয়ী দামে জ্বালানি তেল কিনতে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এবারই প্রথমবারের মতো দেশের কোনো জ্বালানিমন্ত্রী দেশের অর্থ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে এ ধরনের সফরে যাচ্ছেন। এ উদ্দেশ্যে ২০ জুন শনিবার জ্বালানিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি দল তিন দিনের সফরে সিঙ্গাপুরে যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সরকারি পর্যায়ে জিটুজি (গভর্মেন্ট টু গভর্মেন্ট) পদ্ধতিতে বিভিন্ন দেশের ১০টি কোম্পানির কাছ থেকে ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য প্রায় ১৬৫ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় থেকে সাশ্রয়ের আশায় জ্বালানিমন্ত্রী সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন। বিপিসির কর্মকর্তারা বলেন, কম দামে তেল কেনার উদ্দেশ্যে সমঝোতা করতে এবারই প্রথম বাংলাদেশের কোনো জ্বালানিমন্ত্রী সরাসরি বিদেশ সফর করতে যাচ্ছেন। তিন দিনের এই সফরে মন্ত্রীর সঙ্গে বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানসহ জ্বালানি বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব, বিপিসির কমার্শিয়াল বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তাসহ মোট ছয়জন থাকছেন।
বিপিসির বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের সূত্র জানায়, জ্বালানি তেল কিনতে প্রিমিয়াম নিয়ে ছয় মাস পরপর আলোচনা হয়। এটি একটি নিয়মিত কাজ। সফরে আগামী জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যে তেল আসবে তার জন্য প্রিমিয়াম নিয়ে আলোচনা হবে। প্রতি বছর এই আলোচনা দুইবার হয়। তেলের দাম আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড প্ল্যার্টসের অনুযায়ী হবে। সেখানে দাম ওঠানামা করে। প্রিমিয়াম বোঝাতে জাহাজভাড়া, ইনস্যুরেন্স এই বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে। এই বিষয়ে দাম কমানোর জন্য আলোচনা হবে।

সিঙ্গাপুরে সফরে যাওয়া দলটির একজন সদস্য এবং বিপিসির বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র গতকাল বলেন, এখানে প্রিমিয়াম নিয়ে দরকষাকষি হবে। একই সঙ্গে ভলিউমও অ্যালোকেশন হবে। বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর থেকে কী পরিমাণ তেল কিনবে সে বিষয়টিও আলোচনায় আসবে। এই দুইটি বিষয়ই খুব গুরুত্বপূর্ণ। কার থেকে তেল কেনা হবে এবং কার কাছ থেকে কত কম মূল্যে তেল কেনা হবে এই বিষয়গুলো এবার সিঙ্গাপুরের বৈঠকে আমাদের আলোচনায় মূল লক্ষ্য। এর সঙ্গে সরবরাহকারীদের যদি কোনো ইস্যু থাকে সে বিষয়গুলো শোনা হবে। বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার কারণেই এবার জ্বালানিমন্ত্রী নিজে এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। আমাদের লক্ষ্য আলোচনার মাধ্যমে যতটা কমে সম্ভব সে দামে আমরা যাতে তেল কিনতে পারি এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ যতটা সম্ভব সাশ্রয় করে দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে পারি। যেহেতু ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। এই চুক্তি না হলে দাম আরও বৃদ্ধি পেত। কারণ যুদ্ধকালীন মধ্যপ্রাচ্য থেকে পণ্য পরিবহন করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে তেল পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি পাবে এটাই স্বাভাবিক। আবার পরিবহন খরচের সঙ্গে প্রিমিয়াম সম্পর্কযুক্ত। শান্তিচুক্তি হয়ে গেলে দাম কেমন হয় সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করব।

বিপিসি সূত্রে জানা যায়, দেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টনের মতো জ্বালানি তেল আমদানি করে সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। এর মধ্যে অর্ধেক তেল কেনা হয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এবং বাকি অর্ধেক জিটুজি পদ্ধতিতে সরাসরি সমঝোতার ভিত্তিতে কেনা হয়। জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য বর্তমানে ১০টি দেশের সঙ্গে জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির চুক্তি আছে। যার আওতায় এই দেশগুলোর নির্ধারিত সরকারি-বেসরকারি কোম্পানিগুলো জানুয়ারি-জুন ও জুলাই-ডিসেম্বর এই দুই ভাগে তেল সরবরাহ করে থাকে। এই সফরে মোট ১৬ লাখ টন তেল কেনার জন্য সমঝোতা হবে। এতে অংশ নেবে ইনক, পেট্রোচায়না, এনআরএল, আইওসিএল, পিটিটি, ইউনিপ্যাক, বিএসপি, কেপিসিটি, কিউ ট্রেডিং এবং মালয়েশিয়ার পেটকো। এরই মধ্যে আগামী জুলাই থেকে ডিসেম্বর মেয়াদের জন্য ১৫ লাখ টন পরিশোধিত তেল দরপত্রের মাধ্যমে কেনার প্রক্রিয়া অনেকটা সম্পন্ন করেছে বিপিসি। তবে মধ্যপ্রাচ্য যুুদ্ধকালীন জাহাজ চলাচলের উচ্চঝুঁকি বিবেচনা করে সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো প্রতি ব্যারেল পরিশোধিত তেলের প্রিমিয়াম ১৩ দশমিক ১৮ সেন্ট থেকে ১৪ দশমিক ৭৮ সেন্ট পর্যন্ত দাবি করেছে। বিপিসি কর্মকর্তারা মনে করছেন আগামীকাল সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি সই হওয়ায় জোর সম্ভাবনা থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রিমিয়ামের এই হার অনেকটা কমে আসবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

সাশ্রয়ী দামে তেল কিনতে সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সাশ্রয়ী দামে জ্বালানি তেল কিনতে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এবারই প্রথমবারের মতো দেশের কোনো জ্বালানিমন্ত্রী দেশের অর্থ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে এ ধরনের সফরে যাচ্ছেন। এ উদ্দেশ্যে ২০ জুন শনিবার জ্বালানিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি দল তিন দিনের সফরে সিঙ্গাপুরে যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সরকারি পর্যায়ে জিটুজি (গভর্মেন্ট টু গভর্মেন্ট) পদ্ধতিতে বিভিন্ন দেশের ১০টি কোম্পানির কাছ থেকে ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য প্রায় ১৬৫ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় থেকে সাশ্রয়ের আশায় জ্বালানিমন্ত্রী সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন। বিপিসির কর্মকর্তারা বলেন, কম দামে তেল কেনার উদ্দেশ্যে সমঝোতা করতে এবারই প্রথম বাংলাদেশের কোনো জ্বালানিমন্ত্রী সরাসরি বিদেশ সফর করতে যাচ্ছেন। তিন দিনের এই সফরে মন্ত্রীর সঙ্গে বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানসহ জ্বালানি বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব, বিপিসির কমার্শিয়াল বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তাসহ মোট ছয়জন থাকছেন।
বিপিসির বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের সূত্র জানায়, জ্বালানি তেল কিনতে প্রিমিয়াম নিয়ে ছয় মাস পরপর আলোচনা হয়। এটি একটি নিয়মিত কাজ। সফরে আগামী জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যে তেল আসবে তার জন্য প্রিমিয়াম নিয়ে আলোচনা হবে। প্রতি বছর এই আলোচনা দুইবার হয়। তেলের দাম আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড প্ল্যার্টসের অনুযায়ী হবে। সেখানে দাম ওঠানামা করে। প্রিমিয়াম বোঝাতে জাহাজভাড়া, ইনস্যুরেন্স এই বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে। এই বিষয়ে দাম কমানোর জন্য আলোচনা হবে।

সিঙ্গাপুরে সফরে যাওয়া দলটির একজন সদস্য এবং বিপিসির বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র গতকাল বলেন, এখানে প্রিমিয়াম নিয়ে দরকষাকষি হবে। একই সঙ্গে ভলিউমও অ্যালোকেশন হবে। বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর থেকে কী পরিমাণ তেল কিনবে সে বিষয়টিও আলোচনায় আসবে। এই দুইটি বিষয়ই খুব গুরুত্বপূর্ণ। কার থেকে তেল কেনা হবে এবং কার কাছ থেকে কত কম মূল্যে তেল কেনা হবে এই বিষয়গুলো এবার সিঙ্গাপুরের বৈঠকে আমাদের আলোচনায় মূল লক্ষ্য। এর সঙ্গে সরবরাহকারীদের যদি কোনো ইস্যু থাকে সে বিষয়গুলো শোনা হবে। বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার কারণেই এবার জ্বালানিমন্ত্রী নিজে এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। আমাদের লক্ষ্য আলোচনার মাধ্যমে যতটা কমে সম্ভব সে দামে আমরা যাতে তেল কিনতে পারি এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ যতটা সম্ভব সাশ্রয় করে দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে পারি। যেহেতু ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। এই চুক্তি না হলে দাম আরও বৃদ্ধি পেত। কারণ যুদ্ধকালীন মধ্যপ্রাচ্য থেকে পণ্য পরিবহন করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে তেল পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি পাবে এটাই স্বাভাবিক। আবার পরিবহন খরচের সঙ্গে প্রিমিয়াম সম্পর্কযুক্ত। শান্তিচুক্তি হয়ে গেলে দাম কেমন হয় সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করব।

বিপিসি সূত্রে জানা যায়, দেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টনের মতো জ্বালানি তেল আমদানি করে সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। এর মধ্যে অর্ধেক তেল কেনা হয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এবং বাকি অর্ধেক জিটুজি পদ্ধতিতে সরাসরি সমঝোতার ভিত্তিতে কেনা হয়। জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য বর্তমানে ১০টি দেশের সঙ্গে জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির চুক্তি আছে। যার আওতায় এই দেশগুলোর নির্ধারিত সরকারি-বেসরকারি কোম্পানিগুলো জানুয়ারি-জুন ও জুলাই-ডিসেম্বর এই দুই ভাগে তেল সরবরাহ করে থাকে। এই সফরে মোট ১৬ লাখ টন তেল কেনার জন্য সমঝোতা হবে। এতে অংশ নেবে ইনক, পেট্রোচায়না, এনআরএল, আইওসিএল, পিটিটি, ইউনিপ্যাক, বিএসপি, কেপিসিটি, কিউ ট্রেডিং এবং মালয়েশিয়ার পেটকো। এরই মধ্যে আগামী জুলাই থেকে ডিসেম্বর মেয়াদের জন্য ১৫ লাখ টন পরিশোধিত তেল দরপত্রের মাধ্যমে কেনার প্রক্রিয়া অনেকটা সম্পন্ন করেছে বিপিসি। তবে মধ্যপ্রাচ্য যুুদ্ধকালীন জাহাজ চলাচলের উচ্চঝুঁকি বিবেচনা করে সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো প্রতি ব্যারেল পরিশোধিত তেলের প্রিমিয়াম ১৩ দশমিক ১৮ সেন্ট থেকে ১৪ দশমিক ৭৮ সেন্ট পর্যন্ত দাবি করেছে। বিপিসি কর্মকর্তারা মনে করছেন আগামীকাল সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি সই হওয়ায় জোর সম্ভাবনা থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রিমিয়ামের এই হার অনেকটা কমে আসবে।