পীরগঞ্জে আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনে বিধবা নারীর
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিধবা নারী শারমিন আক্তার সুমী। বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে ওই বিধবা নারী অভিযোগ করেন, চতরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান জিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও তার বসতবাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় তাদের মধ্যে পরিচয় গড়ে ওঠে। তার স্বামী আতিয়ার রহমান ২০২৪ সালের ৯ জুলাই মারা যান। এরপর তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে বসবাস করে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে বিভিন্ন সময় জিয়া তাকে ফোন করে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ফুসলাতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি বিয়ের কথা বললে চতরাহাটে জিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘সুমাইয়া বস্ত্র বিতান’-এ স্থানীয় কওমি মাদ্রাসার হাফেজ শরিফুল ইসলামকে দিয়ে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক ২০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে গভীর রাতে বিয়ে পড়ানো হয়।
বিয়ের পর ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে আরও টাকা চাইলে তার কাছে টাকা না থাকায় সংসার টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়ে নিজের ব্যবহৃত ৪ ভরি স্বর্ণালংকারও জিয়ার হাতে তুলে দেন। পরে কাজীর মাধ্যমে বিয়ে নিবন্ধনের জন্য চাপ দিলে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না থাকার কথা বলে গাইবান্ধা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা দেনমোহর উল্লেখ করে ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে এফিডেভিট করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামাজিকভাবে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি চাইলে কয়েকদিন পর নিবন্ধন করে স্বীকৃতি দেওয়ার মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তিনি জিয়ার গ্রামের বাড়িতে গেলে তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং এরপর থেকে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় তিনি গত ২ জুন পীরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়া, তাকে সমাজের চোখে হেয় প্রতিপন্ন করতে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের কুৎসা রটানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শারমিন আক্তার সুমী প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করে স্ত্রী হিসেবে সামাজিক স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান জিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
মোঃ মুন্না মিয়া
পীরগঞ্জ রংপুর ।























