1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. motalebsenbag1@gmail.com : Md.Abdul Motaleb :
  3. vision3zero@gmail.com : Shahidul islam sharif :
  4. zonebd62@gmail.com : staffreporter202527 :
ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাকরির প্রলোভনে কম্বোডিয়ায় পাচার, স্ক্যামিং চক্রের নির্যাতনে বাংলাদেশিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের কম্বোডিয়ায় নিয়ে মানব পাচারের অভিযোগ উঠেছে একাধিক দালালচক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের চীনা পরিচালিত সাইবার স্ক্যামিং কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেওয়া হয় এবং বাধ্য করা হয় অনলাইন প্রতারণার কাজে অংশ নিতে।

ফেরত আসা কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, মাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকা বেতনের চাকরির প্রস্তাব দিয়ে তাদের কম্বোডিয়ায় নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। চাকরির পরিবর্তে তাদের বিভিন্ন স্ক্যামিং কম্পাউন্ডে আটকে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণার কাজে নিয়োজিত করা হয়।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কম্বোডিয়ার বিভিন্ন শহরে গড়ে ওঠা এসব বিশাল কম্পাউন্ডে হাজার হাজার তরুণ-তরুণীকে আটকে রাখা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর স্থানীয় দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং কম্পাউন্ড পরিচালনাকারীরা জানিয়ে দেয় যে তাদের নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে ‘কেনা’ হয়েছে।

শরীয়তপুরের এক ভুক্তভোগী জানান, চাকরির আশায় তিনি কয়েক লাখ টাকা ব্যয় করে কম্বোডিয়ায় যান। পরে তাকে একটি স্ক্যামিং কেন্দ্রে নিয়ে কম্পিউটারের মাধ্যমে বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার কাজে অংশ নিতে বলা হয়। তিনি রাজি না হওয়ায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হন।

জামালপুরের আরেক তরুণের অভিজ্ঞতা আরও ভয়াবহ। তিনি জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারায় তাকে টর্চার সেলে নিয়ে মারধর করা হয়। দিনের পর দিন খাবার না দিয়ে, সংকীর্ণ কক্ষে আটকে রেখে এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালানো হয়। পরে তাকে অন্য একটি স্ক্যামিং চক্রের কাছে আবার বিক্রি করে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের মতে, প্রতারণার প্রধান লক্ষ্য থাকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ধনী নাগরিকরা। ভুয়া পরিচয় ও আকর্ষণীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল ব্যবহার করে প্রথমে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা হয়। পরে বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্পে অর্থ লগ্নির প্রলোভন দেখিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এখন পর্যন্ত কম্বোডিয়ার বিভিন্ন স্ক্যামিং কম্পাউন্ড থেকে প্রায় ২৫০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আরও কয়েক হাজার বাংলাদেশি সেখানে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের অনেকেই বৈধ কাগজপত্র ও সরকারি অনুমোদন নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন।

অভিবাসন ও মানব পাচারবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মানব পাচারের একটি নতুন ও জটিল রূপ, যেখানে প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। তারা বিদেশে চাকরির নামে পাঠানো কর্মীদের বিষয়ে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই, আন্তর্জাতিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন পাওয়ার ক্ষেত্রে চাকরিপ্রার্থীদের সতর্ক থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগকর্তার বৈধতা যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:০১:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

চাকরির প্রলোভনে কম্বোডিয়ায় পাচার, স্ক্যামিং চক্রের নির্যাতনে বাংলাদেশিরা

আপডেট সময় : ০৪:০১:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের কম্বোডিয়ায় নিয়ে মানব পাচারের অভিযোগ উঠেছে একাধিক দালালচক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের চীনা পরিচালিত সাইবার স্ক্যামিং কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেওয়া হয় এবং বাধ্য করা হয় অনলাইন প্রতারণার কাজে অংশ নিতে।

ফেরত আসা কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, মাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকা বেতনের চাকরির প্রস্তাব দিয়ে তাদের কম্বোডিয়ায় নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। চাকরির পরিবর্তে তাদের বিভিন্ন স্ক্যামিং কম্পাউন্ডে আটকে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণার কাজে নিয়োজিত করা হয়।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কম্বোডিয়ার বিভিন্ন শহরে গড়ে ওঠা এসব বিশাল কম্পাউন্ডে হাজার হাজার তরুণ-তরুণীকে আটকে রাখা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর স্থানীয় দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং কম্পাউন্ড পরিচালনাকারীরা জানিয়ে দেয় যে তাদের নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে ‘কেনা’ হয়েছে।

শরীয়তপুরের এক ভুক্তভোগী জানান, চাকরির আশায় তিনি কয়েক লাখ টাকা ব্যয় করে কম্বোডিয়ায় যান। পরে তাকে একটি স্ক্যামিং কেন্দ্রে নিয়ে কম্পিউটারের মাধ্যমে বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার কাজে অংশ নিতে বলা হয়। তিনি রাজি না হওয়ায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হন।

জামালপুরের আরেক তরুণের অভিজ্ঞতা আরও ভয়াবহ। তিনি জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারায় তাকে টর্চার সেলে নিয়ে মারধর করা হয়। দিনের পর দিন খাবার না দিয়ে, সংকীর্ণ কক্ষে আটকে রেখে এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালানো হয়। পরে তাকে অন্য একটি স্ক্যামিং চক্রের কাছে আবার বিক্রি করে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের মতে, প্রতারণার প্রধান লক্ষ্য থাকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ধনী নাগরিকরা। ভুয়া পরিচয় ও আকর্ষণীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল ব্যবহার করে প্রথমে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা হয়। পরে বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্পে অর্থ লগ্নির প্রলোভন দেখিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এখন পর্যন্ত কম্বোডিয়ার বিভিন্ন স্ক্যামিং কম্পাউন্ড থেকে প্রায় ২৫০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আরও কয়েক হাজার বাংলাদেশি সেখানে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের অনেকেই বৈধ কাগজপত্র ও সরকারি অনুমোদন নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন।

অভিবাসন ও মানব পাচারবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মানব পাচারের একটি নতুন ও জটিল রূপ, যেখানে প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। তারা বিদেশে চাকরির নামে পাঠানো কর্মীদের বিষয়ে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই, আন্তর্জাতিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন পাওয়ার ক্ষেত্রে চাকরিপ্রার্থীদের সতর্ক থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগকর্তার বৈধতা যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।