1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টুঙ্গিপাড়ার বর্নি গ্রামে পানির নিচে মাদ্রাসা, থমকে গেছে ৩৬০ এতিম শিশুর স্বপ্ন

ছাইম খান গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নে অবস্থিত বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ক্যাম্পাসের মাঠ থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গত তিন দিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষাতেই এমন দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তাদের মধ্যে নূরানী বিভাগে রয়েছে প্রায় ২০০ জন শিশু। এছাড়া দিনাজপুর, বরিশাল, বাগেরহাট, নোয়াখালী, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক শিক্ষার্থী আবাসিক ও অনাবাসিক হিসেবে এখানে পড়াশোনা করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নূরানী বিভাগের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, বিছানাপত্র ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী ভিজে নষ্ট হয়েছে। শ্রেণিকক্ষগুলোতে পানি জমে থাকায় শিক্ষকদের পক্ষে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না।

মাদ্রাসার সহকারী মোহতামিম মাওলানা ইমদাদুল হক বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই সামান্য বৃষ্টিতে পুরো মাদ্রাসা এলাকা পানিতে ডুবে যায়। পানি বের হওয়ার কোনো স্থায়ী ড্রেন না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এতে কোমলমতি শিশুদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। তিনি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি স্থায়ী ড্রেন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নূরানী বিভাগের শিক্ষক মুফতি সাইফুল ইসলাম জানান, মাদ্রাসার এই অংশটি সবচেয়ে নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই প্রথমে পানিতে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

অপর শিক্ষক মাওলানা মেহরাফ হোসেন নোমানী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীরা বর্তমানে চরম দুর্ভোগে রয়েছে। দ্রুত স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে শিশুদের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের দাবি, বর্নি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ড্রেন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

টুঙ্গিপাড়ার বর্নি গ্রামে পানির নিচে মাদ্রাসা, থমকে গেছে ৩৬০ এতিম শিশুর স্বপ্ন

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নে অবস্থিত বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ক্যাম্পাসের মাঠ থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গত তিন দিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষাতেই এমন দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তাদের মধ্যে নূরানী বিভাগে রয়েছে প্রায় ২০০ জন শিশু। এছাড়া দিনাজপুর, বরিশাল, বাগেরহাট, নোয়াখালী, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক শিক্ষার্থী আবাসিক ও অনাবাসিক হিসেবে এখানে পড়াশোনা করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নূরানী বিভাগের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, বিছানাপত্র ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী ভিজে নষ্ট হয়েছে। শ্রেণিকক্ষগুলোতে পানি জমে থাকায় শিক্ষকদের পক্ষে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না।

মাদ্রাসার সহকারী মোহতামিম মাওলানা ইমদাদুল হক বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই সামান্য বৃষ্টিতে পুরো মাদ্রাসা এলাকা পানিতে ডুবে যায়। পানি বের হওয়ার কোনো স্থায়ী ড্রেন না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এতে কোমলমতি শিশুদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। তিনি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি স্থায়ী ড্রেন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নূরানী বিভাগের শিক্ষক মুফতি সাইফুল ইসলাম জানান, মাদ্রাসার এই অংশটি সবচেয়ে নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই প্রথমে পানিতে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

অপর শিক্ষক মাওলানা মেহরাফ হোসেন নোমানী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীরা বর্তমানে চরম দুর্ভোগে রয়েছে। দ্রুত স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে শিশুদের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের দাবি, বর্নি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ড্রেন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।