1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহিলা দলের কমিটি ঘিরে উত্তাল দোহার ও নবাবগঞ্জ

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা এবং দোহার পৌর মহিলা দলের সদ্য ঘোষিত কমিটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অভূতপূর্ব নাটকের অবতারণা হয়েছে। কয়েকদিন ধে নবগঠিত এই কমিটিকে ঘিরে দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় মহিলা দলের নেতাকর্মীরা। এক পক্ষ ঢাকা জেলা মহিলা দলের সভাপতির পদত্যাগ দাবি করে মিছিল, বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন, অপরদিকে আরেকটি পক্ষ নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন। পুরো এলাকা জুড়ে এখন বইছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঝড়ের মঞ্চায়ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত এই কোন্দলের যবনিকাপাত না হলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও চরম উত্তেজনা ও দীর্ঘমেয়াদি বিভক্তি দেখা দেবে।
সম্প্রতি ঢাকা জেলা মহিলা দলের সভাপতি শামীমা রাহিম শিলা ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা খন্দকারের যৌথ স্বাক্ষরে দোহার উপজেলা, দোহার পৌরসভা এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটির তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষের আগুন জ্বলে ওঠে।
কমিটি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্ষোভে-বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পদবঞ্চিত ও ত্যাগী নেত্রীরা। এর জের ধরে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের নবগঠিত কমিটির এক ডজনেরও বেশি নেত্রী একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন এবং দোহার থানা মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জেলা সভাপতি শামীমা রাহিম শিলা ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা খন্দকারকে তাদের এলাকায় ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন।
বিক্ষুব্ধ নেত্রীদের অভিযোগ, রাজপথের ত্যাগী ও দুর্দিনের নেত্রীদের বাদ দিয়ে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এই ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। ক্ষুব্ধ এক নেত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যারা দলের দুঃসময়ে মাঠে ছিলেন, তাদের চরমভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। জেলা সভাপতির অনুগত এবং অরাজনৈতিক লোকদের বড় বড় পদ দেয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” এই দাবিতে দোহার ও নবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় জেলা সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে মিছিল বের করেন বিক্ষুব্ধ নারী কর্মীরা।
এদিকে শিলার বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিপরীতে মাঠে নেমেছে নতুন কমিটি সমর্থিত অংশটি। নতুন কমিটিতে পদ পাওয়া নেত্রী ও তাদের অনুসারীরা বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল বের করে ঢাকা জেলা মহিলা দলের সভাপতি শামীমা রাহিম শিলাকে অভিনন্দন জানান। তাদের দাবি, নতুন এই কমিটির মাধ্যমে দোহার ও নবাবগঞ্জ মহিলা দলে যোগ্য ও নতুন নেতৃত্বের বিকাশ ঘটবে। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে তারা বলেন, দীর্ঘদিন পর কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে দল আরও গতিশীল হবে।
মহিলা দলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রকাশ্য কাদা ছোড়াছুড়িতে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন উভয় উপজেলার বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা। মাঠপর্যায়ের সাধারণ কর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, মহিলা দলের এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং একযোগে গণপদত্যাগের ফলে সামনের দিনে সাংগঠনিক ভিত্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঢাকা জেলা মহিলা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি অতি দ্রুত অসন্তুষ্ট অংশটির সাথে বসে এর একটি যৌক্তিক সমাধান না করে, তবে দোহার ও নবাবগঞ্জে মহিলা দলের এই গৃহবিবাদ আরও দীর্ঘায়িত হবে, যার প্রভাব পড়তে পারে মূল দলের রাজনীতিতেও।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০২:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

মহিলা দলের কমিটি ঘিরে উত্তাল দোহার ও নবাবগঞ্জ

আপডেট সময় : ০২:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা এবং দোহার পৌর মহিলা দলের সদ্য ঘোষিত কমিটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অভূতপূর্ব নাটকের অবতারণা হয়েছে। কয়েকদিন ধে নবগঠিত এই কমিটিকে ঘিরে দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় মহিলা দলের নেতাকর্মীরা। এক পক্ষ ঢাকা জেলা মহিলা দলের সভাপতির পদত্যাগ দাবি করে মিছিল, বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন, অপরদিকে আরেকটি পক্ষ নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন। পুরো এলাকা জুড়ে এখন বইছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঝড়ের মঞ্চায়ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত এই কোন্দলের যবনিকাপাত না হলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও চরম উত্তেজনা ও দীর্ঘমেয়াদি বিভক্তি দেখা দেবে।
সম্প্রতি ঢাকা জেলা মহিলা দলের সভাপতি শামীমা রাহিম শিলা ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা খন্দকারের যৌথ স্বাক্ষরে দোহার উপজেলা, দোহার পৌরসভা এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটির তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষের আগুন জ্বলে ওঠে।
কমিটি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্ষোভে-বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পদবঞ্চিত ও ত্যাগী নেত্রীরা। এর জের ধরে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের নবগঠিত কমিটির এক ডজনেরও বেশি নেত্রী একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন এবং দোহার থানা মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জেলা সভাপতি শামীমা রাহিম শিলা ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা খন্দকারকে তাদের এলাকায় ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন।
বিক্ষুব্ধ নেত্রীদের অভিযোগ, রাজপথের ত্যাগী ও দুর্দিনের নেত্রীদের বাদ দিয়ে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এই ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। ক্ষুব্ধ এক নেত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যারা দলের দুঃসময়ে মাঠে ছিলেন, তাদের চরমভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। জেলা সভাপতির অনুগত এবং অরাজনৈতিক লোকদের বড় বড় পদ দেয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” এই দাবিতে দোহার ও নবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় জেলা সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে মিছিল বের করেন বিক্ষুব্ধ নারী কর্মীরা।
এদিকে শিলার বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিপরীতে মাঠে নেমেছে নতুন কমিটি সমর্থিত অংশটি। নতুন কমিটিতে পদ পাওয়া নেত্রী ও তাদের অনুসারীরা বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল বের করে ঢাকা জেলা মহিলা দলের সভাপতি শামীমা রাহিম শিলাকে অভিনন্দন জানান। তাদের দাবি, নতুন এই কমিটির মাধ্যমে দোহার ও নবাবগঞ্জ মহিলা দলে যোগ্য ও নতুন নেতৃত্বের বিকাশ ঘটবে। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে তারা বলেন, দীর্ঘদিন পর কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে দল আরও গতিশীল হবে।
মহিলা দলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রকাশ্য কাদা ছোড়াছুড়িতে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন উভয় উপজেলার বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা। মাঠপর্যায়ের সাধারণ কর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, মহিলা দলের এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং একযোগে গণপদত্যাগের ফলে সামনের দিনে সাংগঠনিক ভিত্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঢাকা জেলা মহিলা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি অতি দ্রুত অসন্তুষ্ট অংশটির সাথে বসে এর একটি যৌক্তিক সমাধান না করে, তবে দোহার ও নবাবগঞ্জে মহিলা দলের এই গৃহবিবাদ আরও দীর্ঘায়িত হবে, যার প্রভাব পড়তে পারে মূল দলের রাজনীতিতেও।