মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার পরও কুমিল্লা ডিবি পুলিশের গাড়ী চালক এখনো অধরা!
গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কোনো গাড়ির চালক বা সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু কুমিল্লার ডিবি পুলিশের ২ নাম্বার টিমের একজন গাড়ী চালক মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার পরও এখনো রয়ে গেছে অধরা। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ইমন হোসেন (৩০) নামক এই ব্যক্তি কখনো গাড়ী চালক আবার কখনো ডিবি পুলিশের সোর্স এবং কখনো মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে অপরাধ জগতে ত্রাসের রাজ্বত্ব কায়েম করে আসছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, চৌদ্দগ্রামের উজিপুর ইউনিয়নের সমাশপুর গ্রামের সফিকুর রহমানের ছেলে ইমন হোসেন অপরাধ জগতে রামরাজত্ব কায়েম করে রেখেছেন। চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীর সাথে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছেন। ডিবি পুলিশের নামে চাঁদা, ইয়াবার ব্যবসা, নিরপরাধ মানুষকে বিভিন্ন মামলায় পলাতক আসামী করানোই হলো ইমনের কাজ। এসব কাজের খাতিরে মাঝে মধ্যে ইমন ডিবি পুলিশের গাড়ী চালিয়ে আসছে বলে সূত্র জানিয়েছেন।
জানা গেছে, চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন ইউনিয়নের মাদক ব্যবসায়ীদেরকে মাদকদ্রব্যের চালান নিরাপদে পৌছে দেয়া সহ মানুষকে ডিবি পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়া এবং মিথ্যা মামলায় আসামী করে হয়রানীর খবর পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ডিবি পুলিশের অফিসারদেরকেও মৌখিকভাবে ইমন হোসেনের অপরাধ সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে অবগত করে আসলেও কোন কাজ হয়নি। গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় ইমন হোসেন সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি রুজু করা হয় (যাহার নং- ৬১)।
মামলার সূত্র জানায়, গত ২৯ জুন সোমবার রাত অনুমান ৩ টা ২০ মিনিটের সময় চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার কালিকাপুর ইউনিয়নের সাতঘরিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের বাড়ির সামনে ফাঁকা রাস্তার উপর মাদক বেচাকেনা করছে বলে পুলিশ গোপনে সংবাদ পায়। তাৎক্ষণাৎ চৌদ্দগ্রাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করে। অভিযান চলাকালীন সময়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ২ জন মাদক ব্যবসায়ী দৌঁড়ে পালানোর সময় ১০০ পিছ মাদক জাতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট সহ আটক হয়। আটককৃতরা হলেন কালিকাপুর ইউনিয়নের জামপুর গ্রামের মৃত রুক মিয়ার ছেলে আবুল খায়ের প্রকাশ বাদশা মিয়া (২৪), উজিরপুর ইউনিয়ন কালীকৃষ্ণনগর গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাকিল (২৫) । আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে উদ্ধারকৃত মাদক জাতীয় ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো ডিবি পুলিশের গাড়ী চালক মাদক ব্যবসায়ী ইমন হোসেন(৩০) এর নিকট হতে স্বল্প মূল্যে ক্রয় করে, অধিক মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের দখলে ও হেফাজতে রেখেছে বলে তারা স্বীকার করে। আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীরা পলাতক মাদক ব্যবসায়ী ইমন হোসেনের সহায়তা অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবার ট্যাবলেট সংগ্রহপূর্বক বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজেদের দখলে ও হেফাজতে রাখার অপরাধে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরন করে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এঘটনা পর পলাতক আসামী ইমন হোসেনের দুই সহযোগিকে মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট সহ পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়ার অপরাধে, শুভপুর ইউনিয়ন হাজারী পাড়া গ্রামের এক ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরন দেয়ার জন্য ইমন হোসেন উচ্চবাক্যে কথা বলার একটি ভয়েজ রেকর্ড এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ইমন হোসেন একজন প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে খুব দাপটের সাথে কথা বলতে শুনা গেছে।পুলিশের হাতে আটক হওয়া ইমন হোসেনের ইয়াবা ট্যাবলেটের ক্ষতিপূরন এবং আটক হওয়া ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে আনার জন্য ওই ব্যক্তিকে দাপটের সাথে আচরন করে। অন্যথায় এলাকায় কিভাবে থাকবে দেখে নেয়ার হুমকি ধমকি দেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ডিবি পুলিশের গাড়ী চালক চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের পলাতক মামলার আসামী ইমন হোসেন দিনের পর দিন অপরাধ জগতে দাপট দেখিয়ে আসছে। মামলার আসামী হওয়ার পরও ইমন হোসেন ডিবি পুলিশের গাড়ী চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বলে জানা গেছে।






















