গঙ্গাচড়ায় আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি বেদখলের চেষ্টার অভিযোগ
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের নগর বড়বাড়ী এলাকায় একটি ভোগদখলকৃত জমি বেদখলের অভিযোগ উঠেছে। আদালতে মামলা চলমান এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও জমি বেদখল এবং বাদীপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগকারী মো. নূর আলম জানান, তার পিতা মৃত ইউসুফ আলী ০৩/০৯/১৯৯৭ ইং তারিখে ৪৯৬৩ নম্বর দলিল মূলে ৬২০/১৩৫৩ ও ৬২১ দাগের মোট ২৮ শতক জমি ক্রয় করে মালিক হিসেবে ভোগদখল করে আসছেন। দীর্ঘ ২৯ বছর ভোগদখলের পর দলিলদাতা আছাব উদ্দীনের ছেলে প্রতিপক্ষ কেচু গং গত ০৬/০৬/২০২৬ তারিখে নিজেদের ক্রয়কৃত মালিক দাবি করে জমি বেদখলের চেষ্টা চালায়।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে গত ১৩/০৬/২০২৬ তারিখে আদালতে একটি এমআর মামলা (নম্বর: ৬৪৫/২৬) দায়ের করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ আইন অমান্য করে আদালতের ১৪৪/১৪৫ ধারা ভঙ্গ করে। পরবর্তীতে আইনি সহায়তা পাওয়ার আশায় ১৬/০৬/২০২৬ তারিখে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। প্রতিপক্ষ পুলিশি নির্দেশ তোয়াক্কা না করে পুনরায় জমি বেদখলের চেষ্টা করলে নূর আলম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে ১৮৮ ধারায় আবেদন করেন। প্রতিপক্ষ সেই নির্দেশও অমান্য করে বিতর্কিত জমিতে ঘর নির্মাণ ও ধান রোপণ করে। প্রতিপক্ষ কোনোভাবেই আদালতের নির্দেশ না মানায় ন্যায়বিচার প্রাপ্তি এবং তাদের শাস্তির দাবিতে সর্বশেষ নিরুপায় হয়ে গঙ্গাচড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে গত ০৭/০৭/২০২৬ তারিখে ১০৯/২৬ নম্বরে আরও একটি মামলা দায়ের করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, প্রতিপক্ষ আদালতের কোনো আদেশই মানছে না। উল্টো প্রকাশ্যে বিভিন্ন সময়ে জমি দখলের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি এতে বাধা দিলে মিথ্যা মামলা, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী মো. নূর আলম বলেন, “মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ বারবার জমি দখলের চেষ্টা করছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে সীমানা পিলার বসানো, ঘর তোলা এবং ধান রোপণের মতো দুঃসাহস দেখানো দেশের আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। আমি একাধিকবার থানার শরণাপন্ন হলেও ইতিবাচক কোনো সহযোগিতা পাইনি।” তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং আদালতের নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর ছবুর জানান, “আমরা আদালতের নির্দেশ প্রতিপালনে সার্বিক চেষ্টা করছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”





















