1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জ সরকারি মৎস্যবীজ খামারে শতভাগ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, আয় প্রায় ৭.৯ লাখ টাকা

ছাইম খান গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোপালগঞ্জ জেলার একমাত্র সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামার ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মাছের পোনা উৎপাদনে নির্ধারিত শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গুণগত মানসম্পন্ন বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে খামারটি মোট ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮০০ টাকা আয় করেছে। প্রাপ্ত পুরো অর্থ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিদায়ী অর্থবছরে খামারটির জন্য ১২৭ কেজি রেণু পোনা, ১ হাজার ৩৯১ কেজি কার্পজাতীয় মাছের পোনা এবং ১ লাখ পাবদা মাছের পোনা উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পুকুর ও হ্যাচারিতে সার্বক্ষণিক তদারকি এবং মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জিত হয়।

উৎপাদিত পোনার মধ্যে ১২৭ কেজি রেণু পোনা বিক্রি করে ২ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ টাকা, ১ হাজার ৩৯১ কেজি কার্পজাতীয় পোনা বিক্রি করে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১ লাখ পাবদা মাছের পোনা বিক্রি করে ২ লাখ টাকা আয় হয়। পাশাপাশি খামারের নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত ফলমূল ও শাক-সবজি বিক্রি করে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা আয় হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮০০ টাকা।

খামারের ব্যবস্থাপক তানজিলা আক্তার নিপা জানান, ১.৬২ হেক্টর আয়তনের এই খামারে রয়েছে ৮টি পুকুর ও একটি হ্যাচারি। এর মধ্যে চারটি পুকুরে পোনা সংরক্ষণ এবং বাকি চারটি পুকুরে সারা বছর ব্রুড মাছ রাখা হয়। ব্রুড মাছ থেকে ডিম সংগ্রহ করে হ্যাচারিতে পর্যায়ক্রমে মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উন্নতমানের পোনা উৎপাদন করা হয়। সরকার নির্ধারিত সাশ্রয়ী মূল্যে এসব পোনা বিক্রি হওয়ায় স্থানীয় মাছচাষিরা সহজেই মানসম্পন্ন পোনা সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।

সদর উপজেলার করপাড়া গ্রামের অভিজ্ঞ মৎস্যচাষী হাবিবুল বাহার জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তিনি মাছ চাষ করছেন। সরকারি এই খামারের পোনা ব্যবহার করে ভালো ফলন পাচ্ছেন। তাঁর মতে, এসব পোনার মৃত্যুহার কম এবং মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বছর লাভজনক উৎপাদন নিশ্চিত হচ্ছে।

একই উপজেলার কাজুলিয়া গ্রামের মাছচাষী কামরুল ইসলাম বলেন, সরকারি এই খামারের পোনার গুণগত মান নিয়ে চাষিদের আস্থা রয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন এখনও কম। উৎপাদন আরও বাড়ানো গেলে জেলার অধিকসংখ্যক মৎস্যচাষী উপকৃত হবেন এবং মাছ উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০২:৩৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

গোপালগঞ্জ সরকারি মৎস্যবীজ খামারে শতভাগ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, আয় প্রায় ৭.৯ লাখ টাকা

আপডেট সময় : ০২:৩৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

গোপালগঞ্জ জেলার একমাত্র সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামার ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মাছের পোনা উৎপাদনে নির্ধারিত শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গুণগত মানসম্পন্ন বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে খামারটি মোট ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮০০ টাকা আয় করেছে। প্রাপ্ত পুরো অর্থ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিদায়ী অর্থবছরে খামারটির জন্য ১২৭ কেজি রেণু পোনা, ১ হাজার ৩৯১ কেজি কার্পজাতীয় মাছের পোনা এবং ১ লাখ পাবদা মাছের পোনা উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পুকুর ও হ্যাচারিতে সার্বক্ষণিক তদারকি এবং মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জিত হয়।

উৎপাদিত পোনার মধ্যে ১২৭ কেজি রেণু পোনা বিক্রি করে ২ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ টাকা, ১ হাজার ৩৯১ কেজি কার্পজাতীয় পোনা বিক্রি করে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১ লাখ পাবদা মাছের পোনা বিক্রি করে ২ লাখ টাকা আয় হয়। পাশাপাশি খামারের নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত ফলমূল ও শাক-সবজি বিক্রি করে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা আয় হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮০০ টাকা।

খামারের ব্যবস্থাপক তানজিলা আক্তার নিপা জানান, ১.৬২ হেক্টর আয়তনের এই খামারে রয়েছে ৮টি পুকুর ও একটি হ্যাচারি। এর মধ্যে চারটি পুকুরে পোনা সংরক্ষণ এবং বাকি চারটি পুকুরে সারা বছর ব্রুড মাছ রাখা হয়। ব্রুড মাছ থেকে ডিম সংগ্রহ করে হ্যাচারিতে পর্যায়ক্রমে মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উন্নতমানের পোনা উৎপাদন করা হয়। সরকার নির্ধারিত সাশ্রয়ী মূল্যে এসব পোনা বিক্রি হওয়ায় স্থানীয় মাছচাষিরা সহজেই মানসম্পন্ন পোনা সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।

সদর উপজেলার করপাড়া গ্রামের অভিজ্ঞ মৎস্যচাষী হাবিবুল বাহার জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তিনি মাছ চাষ করছেন। সরকারি এই খামারের পোনা ব্যবহার করে ভালো ফলন পাচ্ছেন। তাঁর মতে, এসব পোনার মৃত্যুহার কম এবং মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বছর লাভজনক উৎপাদন নিশ্চিত হচ্ছে।

একই উপজেলার কাজুলিয়া গ্রামের মাছচাষী কামরুল ইসলাম বলেন, সরকারি এই খামারের পোনার গুণগত মান নিয়ে চাষিদের আস্থা রয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন এখনও কম। উৎপাদন আরও বাড়ানো গেলে জেলার অধিকসংখ্যক মৎস্যচাষী উপকৃত হবেন এবং মাছ উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।