1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  3. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
ঢাকা ০৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৃণমূলের সুপ্ত প্রতিভা খুঁজতে আসছে টিভি রিয়েলিটি শো ‘প্রতিভার সন্ধানে’

বিনোদন ডেস্ক:

CREATOR: gd-jpeg v1.0 (using IJG JPEG v80), quality = 80

সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের তৃণমূল পর্যায় ও আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা সুপ্ত মেধা ও বৈচিত্র্যময় প্রতিভাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শুরু হতে যাচ্ছে বিশেষ টেলিভিশন রিয়েলিটি শো ‘প্রতিভার সন্ধানে’।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রচলিত গান, নাচ কিংবা কমেডিভিত্তিক রিয়েলিটি শোর বাইরে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিভাকে একই প্ল্যাটফর্মে সুযোগ দেওয়াই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এতে লাঠিখেলা, পুতুলনাচ, বহুরূপীসহ ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের পাশাপাশি অ্যাক্রোবেটিক্স, কসরত, জাদুবিদ্যা, রোবটিক্স, ড্রোন শো, স্যান্ড আর্ট এবং আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনসহ যেকোনো ভিন্নধর্মী ও অসামান্য মেধা প্রদর্শনের সুযোগ থাকবে।

৪৫ থেকে ৬০ মিনিট ব্যাপ্তির মোট ৫২ পর্বে এক বছর মেয়াদি এ রিয়েলিটি শো বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচার করা হবে।

আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগীদের ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন এবং ঘরে বসে অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদনের মধ্য দিয়ে অডিশন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর দেশের আট বিভাগে সরাসরি ‘বিভাগীয় অডিশন ক্যাম্প’ আয়োজন করে প্রতিযোগীদের মেধা যাচাই করা হবে। পর্যায়ক্রমে স্টুডিও অডিশন, নকআউট রাউন্ড, সেমিফাইনাল ও পাবলিক ভোটিং শেষে গ্র্যান্ড ফিনালের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচন ও পুরস্কার দেওয়া হবে।

দেশের সংগীত, নৃত্য ও অভিনয় জগতের তিন কিংবদন্তি তারকাকে নিয়ে গঠিত হবে শোটির মূল বিচারক প্যানেল। প্রতিযোগীদের নেপথ্যের গল্প ও ব্যাকস্টেজ তুলে ধরবেন দুজন জনপ্রিয় উপস্থাপক।

রিয়েলিটি শোটির অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘রেড বাটন’ ও ‘গোল্ডেন বাটন’। কোনো পরিবেশনা বিচারকদের পছন্দ না হলে রেড বাটনের মাধ্যমে পারফরম্যান্স থামিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে। অন্যদিকে অসাধারণ ও বিশ্বমানের পরিবেশনার জন্য গোল্ডেন বাটনের মাধ্যমে কোনো প্রতিযোগীকে সরাসরি দুই রাউন্ড পরবর্তী ধাপে উন্নীত করার সুযোগ থাকবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে বিচারকদের মূল্যায়নের পাশাপাশি দর্শকদের সরাসরি ভোটে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে।

‘ব্রিটেনস গট ট্যালেন্ট’-এর মতো আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এ আয়োজনে বিশ্বমানের প্রিমিয়াম সেট ও লাইটিং ডিজাইন ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি পরিবেশনার আগে সিনেমাটিক ব্যাকস্টোরির মাধ্যমে প্রতিযোগীদের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরা হবে।

এ আয়োজনের মূল দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি বলেন, এফডিসি দীর্ঘদিন ধরে দেশের সংস্কৃতি, শিল্প ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রথাগত শিল্পচর্চার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বৈচিত্র্যময় ও সুপ্ত মেধাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, গান, নাচ বা অভিনয়ের পাশাপাশি লোকশিল্প, শারীরিক কসরত, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন কিংবা অসামান্য মেধা থাকা সত্ত্বেও যারা উপযুক্ত প্ল্যাটফর্মের অভাবে আড়ালে থেকে যাচ্ছেন, তাদের স্বপ্নপূরণের বড় সুযোগ হয়ে উঠবে ‘প্রতিভার সন্ধানে’।

এফডিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সুযোগ পেলে দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকেই বিশ্বমানের প্রতিভাবান শিল্পী ও উদ্ভাবক উঠে আসবেন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও আধুনিক প্রযোজনার সমন্বয়ে আয়োজিত এ উদ্যোগ প্রান্তিক প্রতিভাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করতেও ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার তরুণদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাদের জন্য বহুমুখী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বিশ্বাসী। মেধাবীদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে নতুন প্রজন্মের প্রতিভার সমাগম ঘটবে।

তিনি বলেন, বিশ্বমানের এ উদ্যোগ শুধু বিনোদন দেবে না, বরং তৃণমূলে ছড়িয়ে থাকা মেধাকে পুনরুজ্জীবিত করবে এবং সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত প্রতিভাবানদের সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে ভূমিকা রাখবে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আশা করছে, সুযোগ ও প্রচারের অভাবে হারিয়ে যেতে বসা শিল্পীদের স্বাবলম্বী করা, ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন প্রজন্মকে নিজেদের সম্ভাবনা বিকাশে উদ্বুদ্ধ করতে ‘প্রতিভার সন্ধানে’ নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৯:০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

তৃণমূলের সুপ্ত প্রতিভা খুঁজতে আসছে টিভি রিয়েলিটি শো ‘প্রতিভার সন্ধানে’

আপডেট সময় : ০৯:০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

দেশের তৃণমূল পর্যায় ও আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা সুপ্ত মেধা ও বৈচিত্র্যময় প্রতিভাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শুরু হতে যাচ্ছে বিশেষ টেলিভিশন রিয়েলিটি শো ‘প্রতিভার সন্ধানে’।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রচলিত গান, নাচ কিংবা কমেডিভিত্তিক রিয়েলিটি শোর বাইরে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিভাকে একই প্ল্যাটফর্মে সুযোগ দেওয়াই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এতে লাঠিখেলা, পুতুলনাচ, বহুরূপীসহ ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের পাশাপাশি অ্যাক্রোবেটিক্স, কসরত, জাদুবিদ্যা, রোবটিক্স, ড্রোন শো, স্যান্ড আর্ট এবং আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনসহ যেকোনো ভিন্নধর্মী ও অসামান্য মেধা প্রদর্শনের সুযোগ থাকবে।

৪৫ থেকে ৬০ মিনিট ব্যাপ্তির মোট ৫২ পর্বে এক বছর মেয়াদি এ রিয়েলিটি শো বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচার করা হবে।

আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগীদের ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন এবং ঘরে বসে অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদনের মধ্য দিয়ে অডিশন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর দেশের আট বিভাগে সরাসরি ‘বিভাগীয় অডিশন ক্যাম্প’ আয়োজন করে প্রতিযোগীদের মেধা যাচাই করা হবে। পর্যায়ক্রমে স্টুডিও অডিশন, নকআউট রাউন্ড, সেমিফাইনাল ও পাবলিক ভোটিং শেষে গ্র্যান্ড ফিনালের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচন ও পুরস্কার দেওয়া হবে।

দেশের সংগীত, নৃত্য ও অভিনয় জগতের তিন কিংবদন্তি তারকাকে নিয়ে গঠিত হবে শোটির মূল বিচারক প্যানেল। প্রতিযোগীদের নেপথ্যের গল্প ও ব্যাকস্টেজ তুলে ধরবেন দুজন জনপ্রিয় উপস্থাপক।

রিয়েলিটি শোটির অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘রেড বাটন’ ও ‘গোল্ডেন বাটন’। কোনো পরিবেশনা বিচারকদের পছন্দ না হলে রেড বাটনের মাধ্যমে পারফরম্যান্স থামিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে। অন্যদিকে অসাধারণ ও বিশ্বমানের পরিবেশনার জন্য গোল্ডেন বাটনের মাধ্যমে কোনো প্রতিযোগীকে সরাসরি দুই রাউন্ড পরবর্তী ধাপে উন্নীত করার সুযোগ থাকবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে বিচারকদের মূল্যায়নের পাশাপাশি দর্শকদের সরাসরি ভোটে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে।

‘ব্রিটেনস গট ট্যালেন্ট’-এর মতো আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এ আয়োজনে বিশ্বমানের প্রিমিয়াম সেট ও লাইটিং ডিজাইন ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি পরিবেশনার আগে সিনেমাটিক ব্যাকস্টোরির মাধ্যমে প্রতিযোগীদের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরা হবে।

এ আয়োজনের মূল দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি বলেন, এফডিসি দীর্ঘদিন ধরে দেশের সংস্কৃতি, শিল্প ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রথাগত শিল্পচর্চার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বৈচিত্র্যময় ও সুপ্ত মেধাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, গান, নাচ বা অভিনয়ের পাশাপাশি লোকশিল্প, শারীরিক কসরত, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন কিংবা অসামান্য মেধা থাকা সত্ত্বেও যারা উপযুক্ত প্ল্যাটফর্মের অভাবে আড়ালে থেকে যাচ্ছেন, তাদের স্বপ্নপূরণের বড় সুযোগ হয়ে উঠবে ‘প্রতিভার সন্ধানে’।

এফডিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সুযোগ পেলে দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকেই বিশ্বমানের প্রতিভাবান শিল্পী ও উদ্ভাবক উঠে আসবেন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও আধুনিক প্রযোজনার সমন্বয়ে আয়োজিত এ উদ্যোগ প্রান্তিক প্রতিভাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করতেও ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার তরুণদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাদের জন্য বহুমুখী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বিশ্বাসী। মেধাবীদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে নতুন প্রজন্মের প্রতিভার সমাগম ঘটবে।

তিনি বলেন, বিশ্বমানের এ উদ্যোগ শুধু বিনোদন দেবে না, বরং তৃণমূলে ছড়িয়ে থাকা মেধাকে পুনরুজ্জীবিত করবে এবং সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত প্রতিভাবানদের সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে ভূমিকা রাখবে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আশা করছে, সুযোগ ও প্রচারের অভাবে হারিয়ে যেতে বসা শিল্পীদের স্বাবলম্বী করা, ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন প্রজন্মকে নিজেদের সম্ভাবনা বিকাশে উদ্বুদ্ধ করতে ‘প্রতিভার সন্ধানে’ নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।