উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ঘোষণা
চট্রগ্ৰামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সদর দপ্তর জনগণের সুবিধাজনক ও যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করেছে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ। দীর্ঘ এক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ, গণসংযোগ ও সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করার পর এবার আগামী ২৬ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ২৭ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) হেয়াকো বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তারা জানান, উত্তর ফটিকছড়ির নারায়ণহাট, দাঁতমারা ও বাগানবাজার—এই তিন ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ যৌথভাবে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন। তাদের দাবি, উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর এমন স্থানে স্থাপন করতে হবে, যেখানে সব ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ সহজে যাতায়াত ও সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জনমত ও ভৌগোলিক বাস্তবতা উপেক্ষা করে সদর দপ্তর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা উত্তর ফটিকছড়ির লাখো মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী হবে। তারা বলেন, প্রশাসনের কাছে একাধিকবার দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। ফলে জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ে তারা গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ১নং বাগানবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি একরামুল হক বাবুল, ভূজপুর থানার যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নুরুল আমিন আজাদ, জসিম মেম্বার, জাহাঙ্গীর হায়দার, আবুল খায়েরসহ আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, “আমাদের একটাই দাবি—উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা সদর দপ্তর অবশ্যই যৌক্তিক, জনবান্ধব ও সবার জন্য সহজে যোগাযোগযোগ্য স্থানে স্থাপন করতে হবে। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।”
তারা আরও জানান, আগামী ২৬ জুলাই সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে ২৭ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হবে। এ সময় উত্তর ফটিকছড়ির সর্বস্তরের জনগণকে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানানো হয়।
আন্দোলনকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণের ন্যায্য দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা সদর দপ্তর এমন স্থানে নির্ধারণ করবেন, যা এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ নিশ্চিত করবে। অন্যথায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।






















