কাজের সন্ধানে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না, অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় প্রাণ গেল দিনমজুরের
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও ভোরে কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন দিনমজুর শহিদুল ইসলাম (৩৮)। কিন্তু কাজের জায়গায় পৌঁছানোর আগেই একটি অজ্ঞাতনামা অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। ভোরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল উপজেলার সম্মুখ বৈলর দারুত তাকওয়া হিফজ মাদ্রাসার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোর আনুমানিক ৫.৩০ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহত শহিদুল ইসলাম ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের রাধাকানাই দরিবাড়ি গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ত্রিশাল উপজেলার সম্মুখ বৈলর এলাকায় শ্বশুর আব্দুল কদ্দুসের বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। জীবিকার তাগিদে দিনমজুরের কাজ করতেন তিনি।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার ভোরে প্রতিদিনের মতো কাজের উদ্দেশ্যে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হন শহিদুল। সম্মুখ বৈলর এলাকার সরকারি পাকা সড়ক পার হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনে ওঠার সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্স তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সটি না থেমে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ও দারুত তাকওয়া হিফজ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা মহাসড়কের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় শহিদুলকে পড়ে থাকতে দেখেন।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওই অংশে ভোরের দিকে যানবাহনগুলো প্রায়ই অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করে। এতে পথচারীদের মহাসড়ক পারাপারের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। দ্রুতগতির যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ত্রিশাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি শনাক্তের চেষ্টা করছে।
শহিদুলের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জীবিকার সন্ধানে ভোরে ঘর থেকে বের হওয়া একজন দিনমজুরের এমন মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যেও নেমে এসেছে শোক।
~এম.এ.এইচ রাকিবুল ইসলাম
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
























