1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাই সাইকেলে ঘুরে ক্রাচে ভর করে পত্রিকা বিলি করে পূর্বধলার কাশেম

মোঃ নজরুল ইসলাম : পূর্বধলা,নেত্রকোনা
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১২৮

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার রাজপাড়া নিবাসী মোঃ আবুল কাশেম (৫৮) ৪১ বছর ধরে পত্রিকা বিলি করে আসছেন।অসুখের কাছে জীবন যুদ্ধে হার না এই আবুল কাশেম প্রতিদিনই আজকে গরম খবর আছে’ বলেই পাঠকের হাতে এগিয়ে দেন পত্রিকা।

রবিবার ২৬ জুলাই দুপুর দুই ঘটিকার সময় আকরাম হোসেন রতন নামক এক গ্রাহকের কাছে তার দোকানে ক্রাচে ভর করে পত্রিকা দিতে আসেন আবুল কাশেম। অসুস্হ্য শরীর নিয়ে কেন পত্রিকা বিলি করতে আসছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কাশেম বলেন,মার্চের ১৬ তারিখ সি এন জি দিয়ে নেত্রকোনা থেকে পূর্বধলায় আসার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে শরীরে ও পায়ে আঘাত পায়। চার মাস বাসায় থেকে চিকিৎসা নেই।অনেক টাকা খরচ হয়।পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস আমার পত্রিকা বিক্রির উপর। অনেক দিন কর্মহীন থাকায় পরিবার চালাতে সমস্যা হচ্ছে তাই বাধ্য হয়ে ক্রাচ ভর করেই পত্রিকা বিক্রয় করতে হচ্ছে।

এভাবেই দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে পূর্বধলায় পত্রিকা বিলির কাজ করছেন তিনি।
আবুল কাশেম বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে পত্রিকা বিলির কাজ শুরু করি। বেলা ১টার দিকে শেষ হয়। এরপর পত্রিকা বিক্রির টাকা তোলা শুরু করি। টাকা তুলতে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত সময় লাগে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার সাইকেল চালানো বা হাঁটাহাঁটি হয়।

দীর্ঘ সময় পত্রিকা বিলি করতে সমস্যা হয় কি না, তা জানতে চাইলে আবুল কাশেম বলেন,সমস্যা হয় তারপরও পেটের দায়ে কর্ম চালিয়ে যেতে হয়। যত দিন শরীর ভালো থাকবে,তত দিন এই কাজ চালিয়ে যাব।১৯৮৪ সাল থেকে আবুল কাশেমের এই ব্যবসার যাত্রা শুরু।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক। সকলেই লেখা পড়ায় অধ্যয়নরত।

আবুল কাশেম বলেন,বর্তমানে ছাপা পত্রিকার পাঠক কমে গেছে,মাল্টি মিডিয়া ও অনলাইনে নিউজ আসাতে। এখন প্রতিদিন ১৪০ থেকে ১৬০ কপি পত্রিকা বিক্রয় করি। কমিশনে পত্রিকা আনি,না বিক্রয় করতে পারলে অনেক লস হয়। বর্তমানে যে আয় হয় তা দিয়ে চলা অনেক কষ্ট হয়।

তিনি বলেন,এক সময় পত্রিকার জন্য মানুষ অপেক্ষায় থাকতো আর বর্তমানে জোর করে অনেক সময় পত্রিকা বিলি করতে হয়।মানুষ এখন আগের মতন পত্রিকা ক্রয় করতে আগ্রহী না। তাই এ পেশায় যারা জড়িত তাহারা কেউ বর্তমানে ভাল নেই।

আবুল কাশেম বলেন,রোদে পুরে,বৃষ্টিতে ভিজে আমরা গ্রাহকের কাছে সংবাদ পত্র পৌঁছে দেই,তাই আমরা যারা এ পেশায় নিয়োজিত আছি তাদের জীবন মান উন্নয়নে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুরোধ করবো এগিয়ে আসার জন্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৮:১৫ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ১২৩ বার পড়া হয়েছে

বাই সাইকেলে ঘুরে ক্রাচে ভর করে পত্রিকা বিলি করে পূর্বধলার কাশেম

আপডেট সময় : ০৬:৪৮:১৫ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
১২৮

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার রাজপাড়া নিবাসী মোঃ আবুল কাশেম (৫৮) ৪১ বছর ধরে পত্রিকা বিলি করে আসছেন।অসুখের কাছে জীবন যুদ্ধে হার না এই আবুল কাশেম প্রতিদিনই আজকে গরম খবর আছে’ বলেই পাঠকের হাতে এগিয়ে দেন পত্রিকা।

রবিবার ২৬ জুলাই দুপুর দুই ঘটিকার সময় আকরাম হোসেন রতন নামক এক গ্রাহকের কাছে তার দোকানে ক্রাচে ভর করে পত্রিকা দিতে আসেন আবুল কাশেম। অসুস্হ্য শরীর নিয়ে কেন পত্রিকা বিলি করতে আসছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কাশেম বলেন,মার্চের ১৬ তারিখ সি এন জি দিয়ে নেত্রকোনা থেকে পূর্বধলায় আসার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে শরীরে ও পায়ে আঘাত পায়। চার মাস বাসায় থেকে চিকিৎসা নেই।অনেক টাকা খরচ হয়।পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস আমার পত্রিকা বিক্রির উপর। অনেক দিন কর্মহীন থাকায় পরিবার চালাতে সমস্যা হচ্ছে তাই বাধ্য হয়ে ক্রাচ ভর করেই পত্রিকা বিক্রয় করতে হচ্ছে।

এভাবেই দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে পূর্বধলায় পত্রিকা বিলির কাজ করছেন তিনি।
আবুল কাশেম বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে পত্রিকা বিলির কাজ শুরু করি। বেলা ১টার দিকে শেষ হয়। এরপর পত্রিকা বিক্রির টাকা তোলা শুরু করি। টাকা তুলতে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত সময় লাগে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার সাইকেল চালানো বা হাঁটাহাঁটি হয়।

দীর্ঘ সময় পত্রিকা বিলি করতে সমস্যা হয় কি না, তা জানতে চাইলে আবুল কাশেম বলেন,সমস্যা হয় তারপরও পেটের দায়ে কর্ম চালিয়ে যেতে হয়। যত দিন শরীর ভালো থাকবে,তত দিন এই কাজ চালিয়ে যাব।১৯৮৪ সাল থেকে আবুল কাশেমের এই ব্যবসার যাত্রা শুরু।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক। সকলেই লেখা পড়ায় অধ্যয়নরত।

আবুল কাশেম বলেন,বর্তমানে ছাপা পত্রিকার পাঠক কমে গেছে,মাল্টি মিডিয়া ও অনলাইনে নিউজ আসাতে। এখন প্রতিদিন ১৪০ থেকে ১৬০ কপি পত্রিকা বিক্রয় করি। কমিশনে পত্রিকা আনি,না বিক্রয় করতে পারলে অনেক লস হয়। বর্তমানে যে আয় হয় তা দিয়ে চলা অনেক কষ্ট হয়।

তিনি বলেন,এক সময় পত্রিকার জন্য মানুষ অপেক্ষায় থাকতো আর বর্তমানে জোর করে অনেক সময় পত্রিকা বিলি করতে হয়।মানুষ এখন আগের মতন পত্রিকা ক্রয় করতে আগ্রহী না। তাই এ পেশায় যারা জড়িত তাহারা কেউ বর্তমানে ভাল নেই।

আবুল কাশেম বলেন,রোদে পুরে,বৃষ্টিতে ভিজে আমরা গ্রাহকের কাছে সংবাদ পত্র পৌঁছে দেই,তাই আমরা যারা এ পেশায় নিয়োজিত আছি তাদের জীবন মান উন্নয়নে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুরোধ করবো এগিয়ে আসার জন্য।