কুলাউড়ায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মূল কারণ ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই উপজেলায় প্রায় ৫ লাখ মানুষের বসবাস। গত কয়েক দিন ধরে পৌর শহর থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায়ে দিন-রাত মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এই তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ গ্রাহকরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে কুলাউড়া সাব-স্টেশন কর্তৃপক্ষও হিমশিম খাচ্ছে।
সুশীল সমাজের একটি বড় অংশের ধারণা, যত্রতত্র ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার কারণেই মূলত এই লোডশেডিং পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া পৌর এলাকায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত অটোরিকশার সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকলেও বাস্তবে এর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। পৌর প্রশাসক ও সাবেক মেয়রের দেওয়া বিভিন্ন মেয়াদের তথ্য অনুযায়ী, পৌর এলাকায় বৈধ অটোরিকশার সংখ্যা ৬৫২টি। তবে স্থানীয়দের তথ্যমতে, নাম্বারপ্লেটবিহীন আরও ২ থেকে আড়াই হাজার অবৈধ অটোরিকশা পৌর শহরে চলাচল করছে।
এছাড়া পুরো উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা প্রতিদিন চলাচল করছে এবং বিভিন্ন গ্যারেজে অবৈধভাবে চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এসব যানবাহনের অতিরিক্ত চার্জিংয়ের ফলে গ্রিডের ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ পড়ায় সাধারণ গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে।
এদিকে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে অবৈধ অটোরিকশা ও গ্যারেজের কথা বারবার উঠে আসলেও, এসব অবৈধ যানবাহন ও অনুমোদনহীন চার্জিং পয়েন্টগুলোর বিরুদ্ধে পৌরসভা বা বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অভিযান বা আইনি পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন নীরবতার কারণেই দিন দিন পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর প্রশাসক সানজিদা আক্তারের সাথে সরকারি মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি, অপরদিকে, কুলাউড়া সাব-স্টেশনের পিডিবি প্রকৌশলী সাহাদাত হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা চার্জের জন্য প্রায় ৪০০ টি মিটার সংযোগ আছে, প্রতি ইউনিটের দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন (BERC) ওয়েবসাইটে সব আছে মুখে তো বলা যাবেনা বলে এড়িয়ে যান এবং বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দাম জানতে চাইলে একই উত্তর দেন, ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ সনাক্ত ও বিচ্ছিন্ন ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন সব কয়টি ইউনিয়ন আমার দায়িত্বে নেই, মোট ৫টি ইউনিয়ন তাও আংশিক, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রতিদিনই অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে, এবং কতটি মামলা হয়েছে দেখে বলতে হবে।
লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি গত জুলাই মাসে সাধারণ গ্রাহকদের মনগড়া বা অতিরিক্ত মিটার রিডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে গ্রাহকদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। ভোক্তা অধিকারকর্মী ও সচেতন মহলের দাবি, একদিকে অতিরিক্ত লোডশেডিং এবং অন্যদিকে ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দ্রুত অবৈধ অটোরিকশা ও চার্জিং পয়েন্টগুলোর বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান পরিচালনা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

























