আওয়ামী লীগ দৌরাত্ম্যে লামা প্রেসক্লাব, গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনার আশ্বাস আলীকদম সেনা জোনের
বান্দরবানের লামা উপজেলার সাংবাদিকদের সংগঠন লামা প্রেসক্লাবকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে অসন্তোষ, আলোচনা ও সমালোচনা চলমান রয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লামা প্রেসক্লাবের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন লেখালেখির পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে লামা প্রেসক্লাবে নতুন কোনো সাংবাদিককে সদস্যপদ দেওয়া হয়নি এবং আর্থিক অবস্থার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। জনমতে প্রচলিত আছে, লামা প্রেসক্লাবকে ওনারা নিজেদের সম্পত্তি দাবি করেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, সদস্যপদের জন্য আবেদন করলেও বিভিন্ন অজুহাতে আবেদন গ্রহণ করা হয়নি বা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে পেশাগতভাবে কর্মরত অনেক সাংবাদিক প্রেসক্লাবের বাইরে থেকে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সদস্যপদের আবেদন করে ফলপ্রসু সমাধান না পেয়ে লামা উপজেলায় এখন পর্যন্ত ৭ টি সাংবাদিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। যা লামা উপজেলার নাগরিকদের কাছে বিব্রতকর।
এদিকে প্রেসক্লাবকে ঘিরে ভবন বিক্রি, আর্থিক অনিয়ম এবং দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সংগঠনটিকে জিম্মি করে রাখার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সম্পৃক্ত কয়েকজন ব্যক্তি রয়েছেন।
লামা প্রেসক্লাবে বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ১১ জন। এই ১১ জনের মধ্যে ৯ জনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং কথিত আছে তাদের বেশিরভাগ সদস্য একে অন্যের আত্মীয়। আওয়ামী লীগের আমলে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান নিজের প্রভাব বাড়ানোর জন্য আওয়ামী লীগের সদস্য হয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশকে প্রেসক্লাবে অন্তর্ভুক্ত করে। এর সাথে প্রেসক্লাবের সিন্ডিকেট পাকাপোক্ত হয়। কথিত আছে, এই কামরুজ্জামান ম্যাট্রিক পাসও করেনি এবং সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হয়ে অবৈধ ট্যুঠ ঠ্যাং ব্যবসা করতে গিয়ে জেল হাজতে বন্দি ছিল।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে,প্রেসক্লাবের ১১ জন সদস্যের মধ্যে তিনজন এমপিওভুক্ত লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক নবীর উদ্দিন, লামামুখ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাহাব উদ্দিন রিটু এবং লামা পৌরসভার কর্মকর্তা তানফিজুর রহমান প্রেসক্লাবের সদস্য হিসেবে রয়েছেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এমপিওভুক্ত চাকরিজীবীদের কোনো সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণের বিষয়টি সরকারি বিধি-বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। বাকি সদস্যদের কেউ যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের পদধারী। প্রেসক্লাব নিয়ে কথা বলতে গিলে সবাইকে মামলার ভয় দেখানো হয়।
তবে উল্লিখিত সব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
এমন প্রেক্ষাপটে আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার জনাব মো. আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি বলেন, “পার্শ্ববর্তী আলীকদম প্রেসক্লাবকে যেভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনর্গঠন করা হয়েছে, ঠিক তেমনি লামা প্রেসক্লাবেও নতুন সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে।”
জোন কমান্ডারের এই বক্তব্যের পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে নতুন আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত নতুন সদস্য সংগ্রহ, স্বচ্ছ ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন এবং সবার অংশগ্রহণে লামা প্রেসক্লাবকে একটি কার্যকর, গণতান্ত্রিক ও পেশাদার সাংবাদিক সংগঠন হিসেবে পুনর্গঠন করা হবে।
তবে সদস্য সংগ্রহ ও নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।























