লামার ফাঁসিয়াখালীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকিতে কৃষিজমি, সড়ক ও ব্রিজ-কালভার্ট
বান্দরবানের লামা উপজেলায় বিভিন্ন নদী-ছড়া ও বালুমহাল থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে নদী ও ছড়ার স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি কৃষিজমি, সড়ক, নদীর পাড়, ব্রিজ-কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দুই শতাধিক পয়েন্টে বালু উত্তোলন চলছে। এর মধ্যে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লাইল্যারমার পাড়া স্কুলসংলগ্ন খুটাখালী ছড়ায় ৯টি সেলু মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে লাইল্যারমার পাড়া স্কুলের দুই পাশে খুটাখালী ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের দৃশ্য দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, সেলু মেশিনের মাধ্যমে ছড়ার তলদেশ থেকে নিয়মিত বালু তুলে নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের মুবিনুল হক এবং কাগজিখোলা এলাকার মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে আজিজুল হক ওই এলাকায় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এভাবে অতিরিক্ত বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন ও তীর ধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আশপাশের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্টের ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
তাদের আরও অভিযোগ, পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব থাকলেও বালু উত্তোলন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু জব্দ করে নিলাম দেওয়া হলেও বালু উত্তোলনের মূল উৎস বন্ধ হচ্ছে না। তাদের প্রশ্ন, জব্দ করা বালু নিলামে দেওয়ার পাশাপাশি উত্তোলনস্থলগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা না করলে অবৈধ বালু উত্তোলন কীভাবে বন্ধ হবে?
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত খুটাখালী ছড়াসহ লামার বিভিন্ন বালু উত্তোলন পয়েন্টে সরেজমিন তদন্ত, অবৈধ সেলু মেশিন জব্দ এবং পরিবেশ ও জনস্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

























