1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বান্দরবানে ৩০ বছরের বসতভিটায় ঘর নির্মাণে বাধা, মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

লামা প্রতিনিধি:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২১

বান্দরবানের লামা পৌরসভার কলিংগাবিল এলাকায় দীর্ঘ ৩০ বছরের পুরোনো পৈতৃক বসতভিটায় নতুন পাকা ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন সাহারা খাতুন ও তাঁর ছেলে মো. শাহজাহান। নির্মাণকাজ বন্ধ করতে প্রতিপক্ষ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

পরিবারটির দাবি, ঘর নির্মাণের আগে মাটির সয়েল টেস্ট, পেশাদার ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে নকশা তৈরি এবং পৌরসভা থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এরপরও প্রতিপক্ষের মামলা ও বাধার কারণে নির্মাণকাজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

জানা গেছে, ছাগলখাইয়া মৌজার ১০০ নম্বর খতিয়ানের ১৫১৫ নম্বর দাগে মোট ২১ শতক জমি রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এর মধ্যে তারা প্রায় ৩০ বছর ধরে ১৬ শতক জায়গায় বসতঘর নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। পুরোনো ঘরটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় সেটি ভেঙে নতুন পাকা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন শাহজাহান।

শাহজাহানের ভাষ্য, নিরাপদভাবে ভবন নির্মাণের জন্য প্রথমে মাটির সয়েল টেস্ট করানো হয়। পরে ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে ভবনের নকশা তৈরি করে পৌরসভা থেকে প্ল্যান অনুমোদন নেওয়া হয়। নির্মাণকাজের জন্য ইতোমধ্যে কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে ইট, বালু ও অন্যান্য সামগ্রীও কেনা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার কাজে বাধা দেয়ায় কয়েক লক্ষ টাকার বাড়ি নির্মাণের উপকরণ নষ্ট হবার পথে। আমার এই ক্ষতি পূরণ কে দিবে?

তবে নির্মাণকাজ শুরু করার পরই প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করে কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

শাহজাহান বলেন, “এই জমি আমাদের ৩০ বছরের চেনা ও দখলি বসতভিটা। খতিয়ানে ২১ শতক জমি থাকলেও আমরা বাস্তবে ১৬ শতক জায়গায় দখলে আছি। কারও এক চুল জমিও আমরা দখল করিনি। সব নিয়ম মেনে সয়েল টেস্ট, ইঞ্জিনিয়ারের নকশা ও পৌরসভার অনুমোদন নিয়ে ঘর নির্মাণ করছি। তারপরও ঘর নির্মাণে বাধা দিতে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।”

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও গণ্যমান্য ব্যক্তির দাবি, সাহারা খাতুন ও তাঁর ছেলে দীর্ঘদিন ধরে ওই জায়গায় বসবাস করে আসছেন। পুরোনো ঘর জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়ায় তারা নতুন ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। বিষয়টি নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, মামলার বিষয়ে তারা বিজ্ঞ আদালতে লিখিত জবাব দাখিল করেছেন। আদালতে দেওয়া অঙ্গীকারে তারা উল্লেখ করেছেন, সংশ্লিষ্ট জমি আইনগতভাবে প্রতিপক্ষের মালিকানাধীন হিসেবে প্রমাণিত হলে আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নিজেদের খরচে নির্মিত ঘর অপসারণ করবেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সয়েল টেস্টের রিপোর্ট, পৌরসভার অনুমোদনসহ বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরও তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাহারা খাতুন ও তাঁর ছেলে শাহজাহান।

তবে মামলার অভিযোগ ও জমির মালিকানা নিয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:০০:২৬ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

বান্দরবানে ৩০ বছরের বসতভিটায় ঘর নির্মাণে বাধা, মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:০০:২৬ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২১

বান্দরবানের লামা পৌরসভার কলিংগাবিল এলাকায় দীর্ঘ ৩০ বছরের পুরোনো পৈতৃক বসতভিটায় নতুন পাকা ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন সাহারা খাতুন ও তাঁর ছেলে মো. শাহজাহান। নির্মাণকাজ বন্ধ করতে প্রতিপক্ষ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

পরিবারটির দাবি, ঘর নির্মাণের আগে মাটির সয়েল টেস্ট, পেশাদার ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে নকশা তৈরি এবং পৌরসভা থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এরপরও প্রতিপক্ষের মামলা ও বাধার কারণে নির্মাণকাজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

জানা গেছে, ছাগলখাইয়া মৌজার ১০০ নম্বর খতিয়ানের ১৫১৫ নম্বর দাগে মোট ২১ শতক জমি রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এর মধ্যে তারা প্রায় ৩০ বছর ধরে ১৬ শতক জায়গায় বসতঘর নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। পুরোনো ঘরটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় সেটি ভেঙে নতুন পাকা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন শাহজাহান।

শাহজাহানের ভাষ্য, নিরাপদভাবে ভবন নির্মাণের জন্য প্রথমে মাটির সয়েল টেস্ট করানো হয়। পরে ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে ভবনের নকশা তৈরি করে পৌরসভা থেকে প্ল্যান অনুমোদন নেওয়া হয়। নির্মাণকাজের জন্য ইতোমধ্যে কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে ইট, বালু ও অন্যান্য সামগ্রীও কেনা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার কাজে বাধা দেয়ায় কয়েক লক্ষ টাকার বাড়ি নির্মাণের উপকরণ নষ্ট হবার পথে। আমার এই ক্ষতি পূরণ কে দিবে?

তবে নির্মাণকাজ শুরু করার পরই প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করে কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

শাহজাহান বলেন, “এই জমি আমাদের ৩০ বছরের চেনা ও দখলি বসতভিটা। খতিয়ানে ২১ শতক জমি থাকলেও আমরা বাস্তবে ১৬ শতক জায়গায় দখলে আছি। কারও এক চুল জমিও আমরা দখল করিনি। সব নিয়ম মেনে সয়েল টেস্ট, ইঞ্জিনিয়ারের নকশা ও পৌরসভার অনুমোদন নিয়ে ঘর নির্মাণ করছি। তারপরও ঘর নির্মাণে বাধা দিতে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।”

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও গণ্যমান্য ব্যক্তির দাবি, সাহারা খাতুন ও তাঁর ছেলে দীর্ঘদিন ধরে ওই জায়গায় বসবাস করে আসছেন। পুরোনো ঘর জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়ায় তারা নতুন ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। বিষয়টি নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, মামলার বিষয়ে তারা বিজ্ঞ আদালতে লিখিত জবাব দাখিল করেছেন। আদালতে দেওয়া অঙ্গীকারে তারা উল্লেখ করেছেন, সংশ্লিষ্ট জমি আইনগতভাবে প্রতিপক্ষের মালিকানাধীন হিসেবে প্রমাণিত হলে আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নিজেদের খরচে নির্মিত ঘর অপসারণ করবেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সয়েল টেস্টের রিপোর্ট, পৌরসভার অনুমোদনসহ বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরও তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাহারা খাতুন ও তাঁর ছেলে শাহজাহান।

তবে মামলার অভিযোগ ও জমির মালিকানা নিয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।