1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধুনটের খাল-বিলে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের ভেসাল জাল

ধুনট প্রতিনিধি: মাহফুজ আহমেদ
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৭

একসময় ভোরের কুয়াশা ভেঙে খাল-বিলের পাড়ে দাঁড়ালেই দেখা যেত পরিচিত এক দৃশ্য। জেলের পায়ের চাপে পানির ভেতর থেকে উঠে আসত ভেসাল জাল। সেই জালে তড়পাতে থাকত চিংড়ি, টেংরা, পুঁটি, বাইলা, কই, বাইমসহ নানা ধরনের দেশি মাছ।

টাটকা রুপালি মাছের সেই দৃশ্য যেমন জেলেদের মুখে হাসি ফুটাত, তেমনি বাজারের ভোজনরসিকদেরও আকৃষ্ট করত। তবে সময়ের পরিবর্তনে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সেই চেনা দৃশ্য।

স্থানীয়দের ভাষ্য, খাল-বিলে দেশি মাছের প্রজনন কমে যাওয়ার পাশাপাশি জলাশয়ের পানির মানও নষ্ট হয়েছে। এর সঙ্গে চায়না জাল ও কারেন্ট জালের ব্যাপক ব্যবহারে ঐতিহ্যবাহী ভেসাল জালের ব্যবহারও কমে গেছে।

বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর, চিকাশী, গোসাইবাড়ী, এলাঙ্গী, গোপালনগর ও নিমগাছী এলাকার খাল-বিলে এক দশক আগেও বছরজুড়ে ভেসাল ও ছিপ জাল দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য দেখা যেত। বর্ষা মৌসুমে এসব জলাশয়ে জেলেদের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যেত।

ভেসাল জাল তৈরির পদ্ধতিও বেশ সহজ। বাঁশের ফ্রেমের সঙ্গে শক্ত সুতা দিয়ে জাল বোনা হয়। এরপর সেটি পানির গভীরে পেতে রাখা হয়। মাছ জালে ঢুকলে তা টেনে ওপরে তোলা হয়। কোথাও হাত-পা দিয়ে পরিচালনা করা হয়, আবার কোথাও নির্দিষ্ট স্থানে পুঁতে রেখেও মাছ ধরা হয়।

বর্ষা এলে ধুনটের কিছু খাল-বিলে এখনো দেখা যায় ভেসাল ও ছিপ জালের সেই পুরনো চিত্র। এমনই একটি জলাশয়ে জাল পেতেছিলেন স্থানীয় জেলে পরান হালদার।
বামনায় আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা: হাসিমুখে মাঠ পরিচর্যায় ব্যস্ত ছোটতালেশ্বরের কৃষকেরা
বামনায় আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা: হাসিমুখে মাঠ পরিচর্যায় ব্যস্ত ছোটতালেশ্বরের কৃষকেরা

তিনি বলেন, বর্ষায় পানি বাড়লে মাছও বাড়ে। তখন ভেসাল ও ছিপ জাল পাতেন তারা। অনেক সময় রাত জেগে জাল পাহারা দিতে হয়। জালে যে মাছ পাওয়া যায়, তা বিক্রি করেই সংসারের খরচ চালান।

তবে আগের মতো মাছ না পাওয়ার আক্ষেপ রয়েছে স্থানীয়দের। সঞ্জয় সাহা বলেন, চায়না জালের কারণে পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। এখন জাল ফেললেও আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না।

স্থানীয়দের মতে, ভেসাল জাল শুধু মাছ ধরার একটি পদ্ধতি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামীণ জনজীবন ও স্থানীয় ঐতিহ্য। খাল-বিল ও দেশি মাছের বৈচিত্র্য রক্ষা করা গেলে হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যও টিকিয়ে রাখা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:২২:০৪ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

ধুনটের খাল-বিলে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের ভেসাল জাল

আপডেট সময় : ০৪:২২:০৪ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৭

একসময় ভোরের কুয়াশা ভেঙে খাল-বিলের পাড়ে দাঁড়ালেই দেখা যেত পরিচিত এক দৃশ্য। জেলের পায়ের চাপে পানির ভেতর থেকে উঠে আসত ভেসাল জাল। সেই জালে তড়পাতে থাকত চিংড়ি, টেংরা, পুঁটি, বাইলা, কই, বাইমসহ নানা ধরনের দেশি মাছ।

টাটকা রুপালি মাছের সেই দৃশ্য যেমন জেলেদের মুখে হাসি ফুটাত, তেমনি বাজারের ভোজনরসিকদেরও আকৃষ্ট করত। তবে সময়ের পরিবর্তনে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সেই চেনা দৃশ্য।

স্থানীয়দের ভাষ্য, খাল-বিলে দেশি মাছের প্রজনন কমে যাওয়ার পাশাপাশি জলাশয়ের পানির মানও নষ্ট হয়েছে। এর সঙ্গে চায়না জাল ও কারেন্ট জালের ব্যাপক ব্যবহারে ঐতিহ্যবাহী ভেসাল জালের ব্যবহারও কমে গেছে।

বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর, চিকাশী, গোসাইবাড়ী, এলাঙ্গী, গোপালনগর ও নিমগাছী এলাকার খাল-বিলে এক দশক আগেও বছরজুড়ে ভেসাল ও ছিপ জাল দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য দেখা যেত। বর্ষা মৌসুমে এসব জলাশয়ে জেলেদের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যেত।

ভেসাল জাল তৈরির পদ্ধতিও বেশ সহজ। বাঁশের ফ্রেমের সঙ্গে শক্ত সুতা দিয়ে জাল বোনা হয়। এরপর সেটি পানির গভীরে পেতে রাখা হয়। মাছ জালে ঢুকলে তা টেনে ওপরে তোলা হয়। কোথাও হাত-পা দিয়ে পরিচালনা করা হয়, আবার কোথাও নির্দিষ্ট স্থানে পুঁতে রেখেও মাছ ধরা হয়।

বর্ষা এলে ধুনটের কিছু খাল-বিলে এখনো দেখা যায় ভেসাল ও ছিপ জালের সেই পুরনো চিত্র। এমনই একটি জলাশয়ে জাল পেতেছিলেন স্থানীয় জেলে পরান হালদার।
বামনায় আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা: হাসিমুখে মাঠ পরিচর্যায় ব্যস্ত ছোটতালেশ্বরের কৃষকেরা
বামনায় আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা: হাসিমুখে মাঠ পরিচর্যায় ব্যস্ত ছোটতালেশ্বরের কৃষকেরা

তিনি বলেন, বর্ষায় পানি বাড়লে মাছও বাড়ে। তখন ভেসাল ও ছিপ জাল পাতেন তারা। অনেক সময় রাত জেগে জাল পাহারা দিতে হয়। জালে যে মাছ পাওয়া যায়, তা বিক্রি করেই সংসারের খরচ চালান।

তবে আগের মতো মাছ না পাওয়ার আক্ষেপ রয়েছে স্থানীয়দের। সঞ্জয় সাহা বলেন, চায়না জালের কারণে পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। এখন জাল ফেললেও আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না।

স্থানীয়দের মতে, ভেসাল জাল শুধু মাছ ধরার একটি পদ্ধতি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামীণ জনজীবন ও স্থানীয় ঐতিহ্য। খাল-বিল ও দেশি মাছের বৈচিত্র্য রক্ষা করা গেলে হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যও টিকিয়ে রাখা সম্ভব।