দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে সরকার: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে দিন-রাত কাজ করছে সরকার। আমরা ক্ষমতা উপভোগ করতে কিংবা নিজেদের ভাগ্য বদল করতে আসিনি; এসেছি এ দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদল করতে এবং তাদের রাষ্ট্রীয় সেবা নিশ্চিত করতে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ করতোয়ায় জেলা প্রশাসন আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মো. আব্দুল বারী তার বক্তব্যে সরকারের নীতি, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও বগুড়ার সার্বিক উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন। বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়া একজন সামরিক কর্মকর্তা, প্রেসিডেন্ট এবং একটি ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে আজিজুল হক কলেজের ছাত্র হিসেবে তার স্বাধীনতার ঘোষণার প্রভাব আমি নিজ চোখে দেখেছি। সিপাহী-জনতার বিপ্লবের পর রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে এসে তিনি দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে মজবুত করেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করেন, পোশাক খাত, পল্লী বিদ্যুৎ ও বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি শুরু করেন। তিনি গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃস্থাপন করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার হটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে বেগম খালেদা জিয়া অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। ২০০১ সাল থেকে তার অধীনে চাকরি করার সুবাদে দেখেছি শহীদ জিয়ার মতো তিনিও ছিলেন এক অনন্য স্বচ্ছ ও সৎ মানুষ, যিনি রাষ্ট্রের এক টাকা অপচয়ও সহ্য করতেন না। পরবর্তীতে দীর্ঘ দেড় যুগের ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায়। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনসহ দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামে যাঁরা শহীদ হয়েছেন তাঁদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করছি।
দুর্নীতি রোধ ও সুশাসনের বিষয়ে মো. আব্দুল বারী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রধান লক্ষ্য-আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক প্রতিরোধ, শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য দূর করা এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তোলা। রাষ্ট্রীয় অপচয় বন্ধে তিনি নিজে মাত্র ১৯ জন সফরসঙ্গী নিয়ে বিদেশে গিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে আইসিটি মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য দপ্তরের মাধ্যমে সব ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন চালু করা হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সততা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। সরকারি দপ্তরে কাজের ধীরগতি দূর করে গতি বাড়াতে হবে। ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত সরকারের জনকল্যাণমুখী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তারা আইন ও বিধিগতভাবে বাধ্য, এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ আসার সুযোগ নেই।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি সত্ত্বেও সঠিক নীতি গ্রহণের ফলে আশপাশের দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলেও আমাদের মুদ্রার মান স্থিতিশীল রয়েছে। অতিরিক্ত নোট না ছাপিয়ে সম্পদ তৈরির চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে একই ধরনের ব্যাগ, পোশাক ও মধ্যাহ্নভোজের (লাঞ্চ) ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সরাসরি অর্থ পৌঁছাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় উপাসনালয় পরিচালনাকারীদের সহযোগিতার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা দূর করতে সারা দেশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ঢাকার খাল উদ্ধারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে এখন সাগরের লবণাক্ত পানি শোধন করে সারা দেশে খাওয়ার পানি সরবরাহের মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।
বগুড়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্বের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এই জন্মভূমি বগুড়াকে একটি মডেল জেলা এবং ‘ইকোনমিক হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা হবে। ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশনের গ্যাজেট হয়েছে। আজিজুল হক কলেজের মানোন্নয়ন, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে এনআইসিইউ সুবিধাসহ নতুন নতুন সেবা চালু, বিমানবন্দর চালুর জন্য রানওয়ে সম্প্রসারণ, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের জমি অধিগ্রহণের টাকা ছাড় এবং সব ডিসিপ্লিন সম্বলিত একটি ইউনিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
বগুড়াকে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও গতিশীল মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সিভিল সার্জনসহ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা। সভায় বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

























