পঞ্চগড়ে ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের ইট, সাংবাদিক আসতেই সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
পঞ্চগড়ে চার লেন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ড্রেন নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কাজ চলাকালে স্যাঁতস্যাঁতে ও পানিযুক্ত জায়গায় নির্মাণকাজ করার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। এদিকে সাংবাদিকদের উপস্থিতির খবর পেয়ে নির্মাণস্থলে থাকা কিছু ইট সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পঞ্চগড় পৌরসভার ডোকরোপাড়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পাশে নির্মাণস্থলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পঞ্চগড় সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে ড্রেনটির নির্মাণকাজ চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্মাণস্থলে আনা ইটের মধ্যে বেশ কিছু ইটের মান অত্যন্ত খারাপ ছিল। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের এসব ইট ব্যবহারের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে জানানো হলেও শুরুতে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি বদলে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের দাবি, নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য রাখা নিম্নমানের ইটগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন।
এ ঘটনায় সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে সরকারি অর্থে পরিচালিত উন্নয়নকাজে নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা উচিত নয়। কাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদারকি প্রয়োজন বলেও তারা মত দেন।
সচেতন নাগরিক হাসানুজ্জামান পলাশ বলেন, “চার লেন সড়কের পাশে এ ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়ার মতো নয়। দিনে দুপুরে কীভাবে এমন অনিয়ম করা হচ্ছে, সেটি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আমরা চাই ড্রেনের কাজ ভালো মানের হোক এবং কেউ যেন অনিয়ম করার সুযোগ না পায়।”
স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী আলমগীর কবির বলেন, “এখানে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। এর প্রশস্ততা ও উচ্চতা কত হবে, তা নিয়েও বিভিন্ন কথা শোনা যাচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কীভাবে হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়। এর মধ্যে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা পঞ্চগড় সড়ক বিভাগের কার্য সহকারী মোজাফফর হোসেন বলেন, “দুপুরে আমরা খাবার খেতে যাওয়ার সুযোগে তারা নিম্নমানের ইট ফেলেছে। পরে ইটগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কারণ ইটগুলো নিম্নমানের।”
পঞ্চগড় সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোতাহার হোসেন জানান, বিষয়টি জানার পর নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনার পর নির্বাহী প্রকৌশলীসহ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। কাজে কিছুটা ত্রুটি থাকায় সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
প্রকাশ্যে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলো কীভাবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখানে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই। আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ভালোভাবে কাজ করার জন্য বলছি। কাজগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।”
এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইটের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের পাশাপাশি কাজের বাস্তব অবস্থা যাচাই করাও জরুরি। ড্রেনটির নির্মাণ নির্ধারিত নকশা ও কারিগরি স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, ড্রেন নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষেত্রে নির্মাণসামগ্রীর মানের সামান্য ত্রুটিও পরবর্তী সময়ে স্থায়িত্ব ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নির্মাণকাজ চলাকালীন নিয়মিত মান যাচাই ও তদারকি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, পঞ্চগড় চৌরঙ্গী মোড় থেকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করছে। প্রকল্পটির আওতায় সড়ক বিভাজক নির্মাণ, ড্রেন তৈরি, গাছ লাগানো এবং সৌন্দর্যবর্ধনসহ বিভিন্ন কাজ বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।


























