সভায় অনুপস্থিত থাকায় বান্দরবানের ৬ প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ সভায় অনুপস্থিত থাকায় বান্দরবানের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ছয় প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের সই করা পৃথক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের কাছে তাঁদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাওয়া হয়। নোটিশ পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের শামিল ও শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
নোটিশ পাওয়া ছয় প্রকৌশলী হলেন—বান্দরবান জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান, বান্দরবান সদর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী অনুপম সিকদার, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম, আলীকদম উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম, লামা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ এবং রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী দিবাকর রায়।
নোটিশে বলা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ‘এলজিইডির চলমান কাজের অগ্রগতি; সড়ক ও সেতু রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম; ইউনি ব্লক/সিটি ব্লক ব্যবহার; স্লোপ প্রটেকশনে বিন্না ঘাসের ব্যবহার; এলজিইডির জেলা, আঞ্চলিক, বিভাগীয় ও সদর দপ্তরে রুফটপে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং প্রশাসনিক বিষয়’ নিয়ে দিনব্যাপী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সব উপজেলা প্রকৌশলীসহ তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর নোটিশ জারি করা হয়েছিল। পাশাপাশি মোবাইল মেসেজের মাধ্যমেও তাঁদের সময়মতো সভায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ছয় প্রকৌশলী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সভায় অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের অনুপস্থিতির বিষয়টিও কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। এ কারণে তাঁদের অনুপস্থিতিকে ‘কর্তৃপক্ষের ন্যায়সংগত আদেশ অমান্য করে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টির ঘটনা’ হিসেবে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এলজিইডি সূত্র জানায়, সভার একপর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত কর্মকর্তাদের হাজিরার অবস্থা জানতে চান। তাঁকে জানানো হয়, সভায় মোট ৫০৩ জন কর্মকর্তার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও উপস্থিত ছিলেন ৪৪০ জন।
এ ঘটনায় অনুপস্থিত অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হতে পারে বলে এলজিইডি সূত্র জানিয়েছে। তবে কেউ অসুস্থতা বা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে অনুপস্থিত থাকলে বিষয়টি বিবেচনা করে তাঁদের নোটিশের আওতায় না আনার কথাও জানা গেছে।
সভায় প্রকৌশলীদের অনুপস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। গুরুত্বপূর্ণ সভায় আমন্ত্রণ জানানোর পরও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রকৌশলীর অনুপস্থিতি নিয়ে তিনি তাঁদের দায়িত্ববোধের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রী বড় নাকি স্থানীয় সংসদ সদস্য বড়—এটি তিনি বুঝতে পারছেন না। কর্মকর্তাদের নিয়ে কীভাবে সভা করবেন, সেটিও বুঝতে পারছেন না। বিষয়টি নোট করে রাখার কথাও তিনি বলেন।
তিনি আরও বলেন, কর্মকর্তাদের এখানে ‘ফাজলামি বা পিকনিক’ করার জন্য ডাকা হয়নি; গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেই তাঁদের ডাকা হয়েছে। অথচ অনেক প্রকৌশলী সভায় উপস্থিত ছিলেন না।


























