বিশ্ব নদী দিবসে নোবিপ্রবিতে CoEN-এর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নদী, পানি ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নদীর গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের নিজস্ব সংগঠন Coastal Environment Network (CoEN)-এর উদ্যোগে এ র্যালির আয়োজন করা হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়। পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও CoEN-এর সদস্যদের অংশগ্রহণে র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে এটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন দেখা যায়। এসব প্ল্যাকার্ডে নদী দখল ও দূষণ বন্ধ, প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, বন ও জলাভূমি সংরক্ষণ এবং পানিসম্পদের টেকসই ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় নদী রক্ষায় শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানানো হয়।
এবারের বিশ্ব নদী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘বন নেই তো নদী নেই, নদী নেই তো পানি নেই, পানি নেই তো জীবন নেই।’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত র্যালিতে নদী, বন, জলাভূমি ও পানিসম্পদের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, নদী দখল ও দূষণ বন্ধ, প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
র্যালিতে অংশ নেওয়া পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদুর রহমান সৈকত বলেন, “নদী আমাদের পরিবেশ, অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু দখল, দূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য ও অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের অনেক নদী আজ সংকটের মুখে পড়েছে। শুধু নদী দিবসে সচেতন হলেই হবে না, সারা বছর নদী ও পানিসম্পদ রক্ষায় আমাদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে। আজকের এই র্যালির মাধ্যমে আমরা শুধু একটি দিবস পালন করছি না, বরং নদী রক্ষায় নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার বার্তা দিচ্ছি।”
পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শিবলুর রহমান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের নদীগুলো বর্ষায় বন্যা ও তীরভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা মিঠাপানির জন্য হুমকি তৈরি করছে। এ অবস্থায় CoEN-এর মতো শিক্ষার্থীভিত্তিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদী শুধু পানির উৎস নয়, আমাদের কৃষি, অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য ও সংস্কৃতির অংশ। তাই নদী দখল, দূষণ ও প্লাস্টিক বর্জ্য রোধে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, নদীকে শুধু একটি জলপ্রবাহ হিসেবে দেখলে হবে না; এর সঙ্গে বন, জলাভূমি, জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তাই নদী সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি।
Coastal Environment Network (CoEN)-এর সদস্যরা জানান, নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করা হয়েছে। নদী দিবসের মতো বিশেষ দিনগুলোতে কর্মসূচি আয়োজনের পাশাপাশি নিয়মিত পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশগত দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সংগঠনটি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব নাগরিক ও নেতৃত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রেও CoEN-এর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



























