1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোলার চরাঞ্চলে গরু-মহিষ চুরির হিড়িক, আতঙ্কে শত শত খামারি

ভোলা জেলা প্রতিনিধি: মোঃ সুলাইমান
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১০

ভোলার চরাঞ্চলে একের পর এক গরু-মহিষ চুরির ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন শত শত খামারি। গত ৬ আগস্টের পর থেকে মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন চরাঞ্চলের বাথান থেকে চার শতাধিক গরু-মহিষ চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোলা সদর উপজেলা মহিষ মালিক সমবায় সমিতির নেতারা। তাদের দাবি, চুরি যাওয়া কোনো গরু-মহিষ এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি।
চুরি বন্ধ, চোর চক্রকে গ্রেপ্তার, চুরি যাওয়া গরু-মহিষ উদ্ধারের উদ্যোগ এবং খামারিদের নিরাপত্তাসহ পাঁচ দফা দাবিতে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ভোলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী খামারি ও মহিষ মালিক সমবায় সমিতির সদস্যরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর বুকে জেগে ওঠা চর মদনপুর, চর কালুপুর, চর গাজীপুর, চর বৈরাগী, চরকালী, চর কাঞ্চড়া, চর নেয়ামতপুর, মধুপুর, চর কাচিয়াসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে পূর্বপুরুষদের আমল থেকে বংশপরম্পরায় গরু-মহিষ পালন করে আসছেন তারা। চরাঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশেও চড়া দামে জমি লিজ নিয়ে গবাদিপশুর খাদ্যের সংস্থান করে খামার পরিচালনা করছেন।
তাদের দাবি, আগে বিচ্ছিন্নভাবে চুরির ঘটনা ঘটলেও গত ৬ আগস্টের পর পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বাথান থেকে প্রায় ৪০০টির বেশি গরু-মহিষ চুরি হয়েছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় খামারিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, চুরির ঘটনা বন্ধ ও প্রতিকারের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বারবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, এখনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। চুরি যাওয়া গরু-মহিষের একটিও উদ্ধার হয়নি বলেও তারা দাবি করেন।
খামারিরা বলেন, এভাবে চুরি অব্যাহত থাকলে ভোলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী মহিষ পালন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শত শত খামারি আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাঁচ দফা দাবি
মানববন্ধন থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—চরাঞ্চলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া চার শতাধিক গরু-মহিষ উদ্ধারের ব্যবস্থা করা, সংঘবদ্ধ চোর চক্র ও তাদের মদদদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, বাথান এলাকায় নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের নিয়মিত টহল জোরদার করে খামারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সরকারি আর্থিক সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে গবাদিপশুর সুরক্ষায় ‘কিল্লা’ নির্মাণ ও রাখালদের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা।
মানববন্ধনে সমাজকর্মী ও ভোলা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান বাহাউদ্দিন, মহিষ মালিক সমিতির উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ কৃষি ঐক্য ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাবুদ্দিন ফারাজি, সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ মাতাব্বর, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলাউদ্দিন সাজি, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ও মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার, সদস্য মোহাম্মদ মাসুম ও লিটন হাওলাদারসহ ভুক্তভোগী খামারি ও সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, “খামারিদের স্বপ্ন ভাঙার চক্রান্ত রুখে দাঁড়াতে হবে।” তারা দ্রুত চুরি বন্ধ, চুরি যাওয়া গবাদিপশু উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ এবং চরাঞ্চলের খামারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:০২:২৯ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

ভোলার চরাঞ্চলে গরু-মহিষ চুরির হিড়িক, আতঙ্কে শত শত খামারি

আপডেট সময় : ০৮:০২:২৯ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১০

ভোলার চরাঞ্চলে একের পর এক গরু-মহিষ চুরির ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন শত শত খামারি। গত ৬ আগস্টের পর থেকে মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন চরাঞ্চলের বাথান থেকে চার শতাধিক গরু-মহিষ চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোলা সদর উপজেলা মহিষ মালিক সমবায় সমিতির নেতারা। তাদের দাবি, চুরি যাওয়া কোনো গরু-মহিষ এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি।
চুরি বন্ধ, চোর চক্রকে গ্রেপ্তার, চুরি যাওয়া গরু-মহিষ উদ্ধারের উদ্যোগ এবং খামারিদের নিরাপত্তাসহ পাঁচ দফা দাবিতে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ভোলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী খামারি ও মহিষ মালিক সমবায় সমিতির সদস্যরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর বুকে জেগে ওঠা চর মদনপুর, চর কালুপুর, চর গাজীপুর, চর বৈরাগী, চরকালী, চর কাঞ্চড়া, চর নেয়ামতপুর, মধুপুর, চর কাচিয়াসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে পূর্বপুরুষদের আমল থেকে বংশপরম্পরায় গরু-মহিষ পালন করে আসছেন তারা। চরাঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশেও চড়া দামে জমি লিজ নিয়ে গবাদিপশুর খাদ্যের সংস্থান করে খামার পরিচালনা করছেন।
তাদের দাবি, আগে বিচ্ছিন্নভাবে চুরির ঘটনা ঘটলেও গত ৬ আগস্টের পর পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বাথান থেকে প্রায় ৪০০টির বেশি গরু-মহিষ চুরি হয়েছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় খামারিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, চুরির ঘটনা বন্ধ ও প্রতিকারের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বারবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, এখনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। চুরি যাওয়া গরু-মহিষের একটিও উদ্ধার হয়নি বলেও তারা দাবি করেন।
খামারিরা বলেন, এভাবে চুরি অব্যাহত থাকলে ভোলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী মহিষ পালন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শত শত খামারি আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাঁচ দফা দাবি
মানববন্ধন থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—চরাঞ্চলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া চার শতাধিক গরু-মহিষ উদ্ধারের ব্যবস্থা করা, সংঘবদ্ধ চোর চক্র ও তাদের মদদদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, বাথান এলাকায় নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের নিয়মিত টহল জোরদার করে খামারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সরকারি আর্থিক সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে গবাদিপশুর সুরক্ষায় ‘কিল্লা’ নির্মাণ ও রাখালদের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা।
মানববন্ধনে সমাজকর্মী ও ভোলা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান বাহাউদ্দিন, মহিষ মালিক সমিতির উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ কৃষি ঐক্য ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাবুদ্দিন ফারাজি, সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ মাতাব্বর, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলাউদ্দিন সাজি, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ও মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার, সদস্য মোহাম্মদ মাসুম ও লিটন হাওলাদারসহ ভুক্তভোগী খামারি ও সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, “খামারিদের স্বপ্ন ভাঙার চক্রান্ত রুখে দাঁড়াতে হবে।” তারা দ্রুত চুরি বন্ধ, চুরি যাওয়া গবাদিপশু উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ এবং চরাঞ্চলের খামারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।